Tuesday, August 25, 2015

সুবাস



-বসব?


-পাবলিক পার্ক। পাবলিক বেঞ্চি। পারমিশন চাইছেন কেন?


-না মানে আপনাকে ডিস্টার্ব না করে ফেলি।


-পারমিশন চেয়ে ডিস্টার্ব করছেন।


-হে হে। থ্যাঙ্কস। আপনার হাতে ওটা আজকের কাগজ নাকি মশাই?

-হুঁ। পড়বেন?

-নাঃ, আমার আর এ যুগের খবরে কী দরকার।

-এ যুগের খবরে আপনার দরকার নেই?

-না মানে। খবরের হিসেব রাখা কবেই ছেড়ে
দিয়েছি।

-কবে থেকে?

-রামবাবুর এক্সপ্যায়ার করার পর থেকেই।

-রামবাবু?

-অযোধ্যার।

-দশরথের ছেলে?

-এল্ডার সান।

-পূর্ব জন্মের বাতেলা দিচ্ছেন? পুলিশ ডাকব?

-এ জন্যেই প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যাই। এই আমি আর স্পীকটি নট।

-না না। বলে যান। আমার হাতে সময় আছে। বোর হচ্ছিলাম। আনন্দবাজারও খতম। আপনার গুলতানিই শুনি।

-আহঃ, আমি তো আর জোর করে বিশ্বাস করতে বলছি না।

-কত নম্বর রিবার্থ?

-রি...? না না, ডাইরেক্ট বেঁচে রয়েছি।

-তা, এদ্দিন বাঁচলেন কী করে?

-বর। অমরত্বের।

-অমর? আপনি কী...?

-পবনপুত্র।

-লেজ?

-মধ্যযুগে ছাঁটিয়ে নিয়েছি।

-ছাঁটিয়ে নিয়েছেন?

-কমম্পলেক্স সার্জারি মশাই। সে যুগের মেডিসিন যে কোথায় দাঁড়য়েছিল; জাস্ট ভাবা যায় না।

-ধুর।

-কেন? ধুর কেন?

-এ চেহারায় গন্ধমাদন তুলেছিলেন?

-এ'কয় হাজার বয়েসে ফ্লেক্সিবিলিটি কমেছে। শরীর শুকিয়ে এসেছে। আরে মশাই, অমরত্বের চেয়ে বড় অভিশাপ কিছু হয় না।

-এসব আমায় বলছেন কেন? হাততালি এক্সপেক্ট করছেন?

-বলেছি আপনি বিশ্বাস করবেন না বলে। সবাইকে সে বিশ্বাসেই বলি। এই কথা কেউ পাত্তা দেবে না বলে। অবশ্য এ অন্ধকার যুগে পাত্তা দিলেই মুশকিল হত। আমায় এরা ইন্ডাস্ট্রি করে ছাড়ত।

-স্মার্ট।

-হে হে।

-তা সে যুগের সাথে এ যুগের তফাৎ কী কী নজরে পড়ে?

-সবই তো চেঞ্জড।

-রিয়েলি? এমন কিছুই নেই যা সে যুগে এ যুগে একই রয়ে গেছে?

-আছে। একটা জিনিষ আছে।

-কী জিনিষ সেটা হনুবাবু?

-একটা স্পেশ্যাল ফ্র‍্যাগ্রর‍্যান্স এখনও টিকে আছে।

-ফ্র‍্যাগর‍্যান্স? সে যুগ থেকে এ যুগে? কীসের?

-বিশল্যকরণীর। এগজ্যাক্ট সেই সুবাস।

-বলেন কী! বিশল্যকরণীর সুবাস এ যুগে? সুবাস অফ প্যানাকিয়া?

-রাইট।

-এ যুগের কীসের সুবাস বিশল্যকরণীরর মত শুনি!

-প্রথম সে গন্ধ নাকে আসায় আমিও চমৎকৃত হয়েছিলাম। অবিকল বিশল্যকরণী... এত দিন পর।

-মডার্ন সোসাইটির কীসে আপনি বিশল্যকরণীর ফ্র‍্যাগর‍্যান্স পেলেন দাদা?

-বলি?

-তাই তো জিজ্ঞেস করছি।

-সেই সর্বরোগনাশা সুবাস; ঠিক যেন ফ্রেশলি পিকড ফ্রম গন্ধমাদন।

-আরে কীসে?

-বোরোলিনে।

মদ মামা

১/৩


"জেনে রাখ। যুদ্ধজয় একদিন আউট অফ ফ্যাশন হবেই। সেদিন তরবারিরা কচুকাটা হবে হেমন্তে। সুরের ধারে শত্রুজয় উড বি দ্য অনলি টেকনোলোজি দেন", মদের গেলাস টেবিলে নামিয়ে রেখে গলা ছাড়লেন ছোটমামা;

"না তুম হমে জানো, না হম তুমহে জানে
মগর লগতা হ্যায় কুছ অ্যায়সা
মেরা হমদম মিল গয়া..."


২/৩


-গেলাস চলকে পাঞ্জাবিতে। এ হেঃ।

-টিস্যু দেব?

-ক্যুইক।
-এই যে।
-আর চলকে যেটুকু চলকে পাঁজরা হিট করছে? সে'টা?
-মেলোড্রামার জন্য টিস্যু পেপার এক্সপেক্ট করো না মামা।
-টিস্যু অফ মিউজিক প্লীজ। যদি আরও কারে ভালোবাস, যদি আরও ফিরে নাহি আস;আই উইল সাসটেইন অন ট্যাগোর। দাড়ি মার্কা টিস্যু। প্লিজ।


৩/৩ 


-হোয়াট ইজ রিয়েল মাতলামি মামা?

-আমি গাইব "হায় গো কী যে আগুন জ্বলে বুকের মাঝে, বুঝেও তবু বুঝতে পারি না যে"। সুর কাঁপবে, কাঁপবে গেলাস। ঘরময় পোষা বেড়ালের মত মিউমিউ করতে করতে ঘুরঘুর করবে শনিবারি রাত্রের মেজাজ। আর স্টুপিড এই সস্তা মদের বোতল মাতাল হয়ে উলটে পড়ে থাকবে আমার নেশায়। বোতলের সেই মাতলামি; দ্যাট ইজ দ্য রিয়েল থিং। মানুষের মাতলামিটা স্রেফ প্রিটেন্স।

গুনগুন

১।

আলিবাবা প্রেমিক হয়ে প্রেমিকার হৃদয়ের গুহার একগুঁয়ে দরজায় যদি হত্যে দিয়ে পড়তেই হয়, তবে-

চিচিং ১:
"হোঁঠ পে লিয়ে হুয়ে দিল কি বাত হম
জাগতে রহেঙ্গে অউর কিতনি রাত হম"।


চিচিং ২:
"রাত ইয়ে করার কি...বেকারার হ্যায়"।


ফাঁক:
"তুমহারা ইন্তেজার হ্যায়"।


২।

"লগ যা গলে"র সুরে তাল ঠুকছিলেন বৃদ্ধ। 


দু'চোখ বেয়ে ঝরা জলে তাঁর দাড়ি বুক ভিজে যাচ্ছিল।

"রবীন্দ্রনাথ কি এভাবেই প্রেমের সুরে হৃদয় ক্যাপচার করে থাকেন?", ভাবছিলেন রবীন্দ্রনাথ।


৩। 



-উয়ো শাম কুছ অজীব থি।

-ঢাকুরিয়া লেক?

-ইয়ে শাম ভি আজীব হ্যায়।

-ধুস, এই বোরিং ব্যালকনি।

-উয়ো কল ভি পাস পাস থি..।

-ছিলামই তো। জাপটে। 

-উয়ো আজ ভি করীব হ্যায়।

-না থেকে উপায় কী? এ ব্যালকনিতে তোমায় একা মানায় না।

-তোমাকেও মানায় না। ফ্রেমে মালায়। মানায় না।

এস কে গুপ্ত

- আপনিই মিস্টার এস কে গুপ্ত?

- আমিই।

- বি ডি মুখার্জী আপনাকেই রেকমেন্ড করেছেন তো?

- আজ্ঞে।

- টপলেস মডেল হতে আপত্তি নেই আপনার, তাই তো?

- বাপ ঠাকুর্দাদের জন্মাবধি সন্ধ্যার পর থেকে টপলেস ইন লুঙ্গি দেখে অভ্যাস্ত। টু পাইস আসলে টপলেসে কী আর এসে যায়।

- ভেরি গুড। শুটিং কিন্তু কালকেই।

- বেশ বেশ। তবে ইয়ে, আপনি কি শুধু একটা লেয়ারেই টপলেস এক্সপেক্ট করছেন?

- টপলেসে লেয়ার? 

- লেয়ার আছে বৈকি স্যার।

- জামা খুলে দাঁড়াবেন তাহলেই হবে। ওসব লেয়ার টেয়ার খুঁজতে যাবেন না। তা বিনয়বাবু ভালো আছেন?

-বিনয়বাবু কে?

- বিনয় দোদুল মুখার্জী। বি ডি মুখার্জী। যিনি আপনাকে রেকমেন্ড করেছেন।

- বিনয় দোদুল মুখার্জী? কই, তাকে তো চিনি না।

- সে কী! আপনি বললেন যে আপনি এস কে গুপ্ত। আর আপনি বি ডি মুখার্জীর রেকমেন্ডেশনে এসেছেন এখানে?

-এই দেখুন দেখি; কী কনফিউশন। আরে আমায় এখানে পাঠিয়েছেন অন্য বি ডি মুখুজ্জে ; বেম্ম দত্যি মুখুজ্জে। আর আমায় কি অন্য এস কে গুপ্ত ঠাউরেছেন নাকি? আমি স্কন্ধ কাটা গুপ্ত মশাই।

মাতালিয়া স্তোত্র

মাতালিয়া স্তোত্র ১ -
" মদ খাই না রে, মদ খাই না। শক্তির পারফিউম থোরাসিক ক্যাভিটিতে ছড়িয়ে নিই শুধু"।

মাতালিয়া স্তোত্র ২ -
"জল নয়, সোডা নয়। যন্ত্রনা আস্বাদনের ব্যাপারে আমি পিউরিটান। বড় জোর এক ফোঁটা বোরলিনের মত এক টুকরো বরফ। বড় জোর"।

মাতালিয়া স্তোত্র ৩ -
"হাভাতের মত মদের গেলাস খামচে ধরিস নে ভাইটি। কোদাল দিয়ে তাজমহল বানানো যায় রে?"।