Monday, August 10, 2015

বিপিনবাবু আর নতুন দুনিয়া

রকেটের দরজা খুলে বেরিয়ে এসে যা দেখলেন বিপিনবাবু তাতে তার চক্ষু ছানাবড়া। 

রকেটের সামনেই একটা দোকান যেখানে এলিয়েনরা চোখের ছানি কেটে তা দিয়ে কী সুন্দর বড়া ভেজে খাচ্ছে। বিপিনবাবুর ছানাবড়া চোখ সে ছানিবড়াদের প্রেমে পড়ে গেল তক্ষুনি। "ইধর উৎরো", দলের বাকিদের হুকুম করলেন তিনি।


***


- আপনার নামটা কী বললেন যেন স্যার? গুলিয়ে যায় বারবার।


- মিছুএকাউএজগমুফহুরিয়ালাম। এই নিয়ে আপনাকে তিন নম্বর বার বললাম কিন্তু বিপিন।


-না মানে, এলিয়েনের নাম কী না।


-আরে আমার কাছে তো বিপিন নামটাও এলিয়েন। যাক গে। কী জিজ্ঞেস করছিলেন যেন?


-না মানে, আপনাদের এখানে আপনারা লোকে মারা গেলে শেষকৃত্যের আগে তাঁদের চোখে খুবলে নেন কেন?


-সে কী! এই এগ্রিকালচারাল ব্রেক থ্রু আপনাদের গ্রহে পৌঁছায়নি? মড়ার চোখ আপনারা নষ্ট করেন নাকি?


-করা উচিৎ না বোধ হয়?


-একেবারে না। সর্ষে ফুল চাষের জমিতে খুবলে নেওয়া চোখেগুলো ছড়িয়ে একবারটি দেখুন। দেখবেন সর্ষে ফুলের কী তাগড়াই ফলন ঘটে। যাক গে। এইবারে এইটা চোখে পরে নিন দেখি। চোখ মূল্যবান জিনিষ। অমন একটানা খোলা রাখতে নেই; চোখ যত বেশি দেখে তার তত বেশি ক্ষয়। 


-এটা পরব? এটা তো বোধ হয় রোদ-চশমা।


-রোদ কী? না না। ওসব বলি না আমরা। এর নাম হচ্ছে ঠুলি। চোখে পরলে ঝ্যামেলা কমে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ে। আচ্ছা, আপনারা কী চোখের কোন ব্যবহারই ভালো মত জানেন না মশাই? শুধু দেখেটেখেই খালাস?


-ওই, দেখা, কান্না; এইটুকুই তো চোখের কাজ বলে জানতাম এদ্দিন।


-কান্না? হোয়াট ইজ দ্যাট?


-ইয়ে, জল পড়া। চোখ দিয়ে। দুঃখে। খুব আনন্দে।


-জল পড়া। আপনা থেকেই পড়ে? 


-আপনা থেকেই।


-*ফিসফিস করে* ইয়ে, স্পেশ্যাল বাথরুম আছে নাকি? এই এক্সক্রিশনের জন্য।


-আছে। সে বাথরুম কে আমরা বালিশ বলি। আর ইয়ে, কী নাম যেন বললেন আপনার...।


- মিছুএকাউএজগমুফহুরিয়ালাম। 


- অ। মিছু বাবু। শুনুন। আমি বরং চলি বুঝলেন। ছানিবড়া নিয়েই থাকুন আপনারা। অ্যাই লেড়কালোগ, সামান উঠাকে রকেটে ওয়াপিস চলো।

Sunday, August 9, 2015

ধর্ম, ব্লগ আর এক ঘেয়ে খুন-টুন

"আমরা কেউ ধর্মে বিশ্বাস করি, কেউ হয়ত ধর্মকে পরিত্যাগ করিনি কিন্তু ধর্ম নিয়ে মাথাও ঘামাই না, কেউ কট্টর নাস্তিক আবার কেউ বা ধর্মনিরপেক্ষ – কিন্তু একটা জায়গায় আমাদের গভীর মিল আছে, আমরা সবাই বাকস্বাধীনতায় প্রবল ভাবে বিশ্বাসী। আর সেই জন্যই রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাস, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়রা যে কথাগুলো বলতে চেয়ে প্রাণ হারালেন সে কথাগুলো যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব, ওনাদের সঙ্গে আমাদের মতাদর্শের মিল আছে কি নেই সেটা এই মুহূর্তে অবান্তর প্রশ্ন। কথাগুলো পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়েই সা্রা বিশ্ব জুড়ে একাধিক ব্লগার কীবোর্ড নিয়ে বসেছেন, সেই লেখাগুলো সঙ্কলিত করে দেওয়া হল পাঠকদের জন্য – তালিকাটি দেখা যাবে এই ব্লগপোস্টের শেষে। ] 


১। 

- ঈশ্বরে বিশ্বাস আছে তাহলে তোমার?
- অফ কোর্স আছে।
- আজকাল তো এডুকেটেড লিবারেটেড মাইন্ড মানেই বাতিকগ্রস্ত। ঈশ্বর বিশ্বাসটাই তো এ যুগে ব্ল্যাস্‌ফেমি।
- পরম কল্যাণময়ের প্রতি বিশ্বাস না রেখে উপায় কী আছে বলুন স্যার। নয়তো জীবনটাই তো বৃথা।
- ভেরি গুড ইয়ং ম্যান। শুনে বেশ ভালো লাগছে। বটেই তো। পরম কল্যাণময় বিনা এ মানব জীবন যে মূল্যহীন। তোমার মত অল্প বয়েসির মুখে এমন কথা শুনে গর্ব হচ্ছে। এই জেনারেশন এখনও উৎসন্নে যায়নি। তুমি তোমার ঠুনকো শিক্ষার বেসিসে বোকার মত লজিকে ঠুসে ঈশ্বর কে কোণঠাসা করতে চাইছ না। এই তো চাই।
- একেবারেই তাই স্যার। আর আমার শিক্ষাও তো সেই ঈশ্বরে ভর দিয়েই।
- বাঃ, বাঃ, ঈশ্বরে ভরে দিয়ে শিক্ষালাভ। চমৎকার আপ-ব্রিঙ্গিং। তোমার সাথে আলাপ করে বড় ভালো লাগল বাবা। এই তো চাই। তোমরাই এ যুগের আলো। শ্রী কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ বা অন্য কেউ- একজনকে অন্তত হৃদয়ের মার্গ দর্শক করে জীবন অতিবাহিত না করতে পারলে, পরকালে কে দেখবে বাবা?
-পরকাল? পুজোর ছুটিই প্ল্যান করতে পারলাম না স্যার। সমস্ত ট্রেনে ওয়েটলিস্ট। তবে যে ক্যারেক্টারদের নাম করলেন, তাঁদের ব্যাপারে সামান্য পড়াশোনা আমার আছে বইকি।
-ক্যারেক...মানে...কৃষ্ণ,বুদ্ধ...?
-যীশু , মহম্মদ। ভারী ইম্প্রেসিভ সব পার্সোনালিটি স্যার।
-পার্সোনালিটি? মানব সভ্যতার উন্মেষ যে তাঁদের হাত ধরেই। ঈশ্বর তো তাঁদের মধ্যে দিয়েই ম্যানিফেস্টেড।
-রিয়েলি? মানব ইতিহাস তো আশি হাজার থেকে এক লাখ বছরের। সে হিসেবে এই ভদ্রলোকেরা তো জাস্ট রিসেন্টলি পিক্‌চারে এসেছেন।
-ভদ্রলোকেরা মানে? তুমি এতক্ষণ ঠাট্টা করছিলে?
-না মানে। তাদের এন্ট্রির আগেই কত হাজার হাজার মানুষ কষ্টে, দুঃখে, রোগে, ভোগে, অজ্ঞানতায় সাবাড় হয়ে গেলেন তো। কাজে কাজেই মানবতার উন্মেষ সেই ভদ্রলোকদের হাত ধরে ঘটেছে, সেটা কানে কেমন যেন ঠেকল স্যার। আমার ফুল রেস্পেক্ট আছে তাঁদের প্রতি বাই দি বাই।
-এতক্ষণ ছিচকেমি করছিলে ? এই তোমার ঈশ্বর বিশ্বাস?
- রেস্পেক্টটাই কী যথেষ্ট নয়?
- সাবমিশন। কমপ্লিট সাবমিশন টু দ্য হোলি মাস্টার। টু দ্য অল মাইটি। দ্যাট ইজ রেস্পেক্ট।
- অল মাইটি স্যার? অল মাইটিই যখন তখন মানুষের মঙ্গল সাধনে এত দেরী করে এলেন কেন? প্রথম আশি হাজার বছর কী পরমেশ্বরের কোলে রাখা পপকর্ণের টাবটা ভরা ছিল? অল মাইটি মানে কী তারা যা খুশি তাই পারেন? ওই কমপ্লিট সাবমিশন না থাকলে কি বিপদ হতে পারে? ভক্তি অন গান-পয়েন্ট?
- থাম! থাম! আহাম্মকি। ঈশ্বর বিশ্বাসের নামেই যত সারকাজ্‌ম উপচে আসে না? অবিশ্বাসীর দল। যত্তসব ফ্যান্সি শো-বাজ নাস্তিকতা।
- আমি বাঙালি স্যার। নাস্তিক হওয়ার উপায় আছে?
- মানে?
- মানে আমি আলবাত ঈশ্বরে বিশ্বাসী; বিদ্যাসাগরে। ঠাকুর না মেনেও উপায় নেই- গুরুদেব বলে কথা। আর ইসলামেও আছি- নজরুল ইসলামে।

২। 
-গিল্টি!
-ইওর অনার, আমি শেষ বারের জন্য অনুরোধ করছি চটজলদি সিদ্ধান্তে আসার আগে অন্তত একটিবার বিবেচনা করে...।

-এ বিষয়ে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই। অপরাধীরর দোষ প্রমাণিত। আর ঘৃণ্যতম এ অপরাধের শাস্তি একটাই।

-দোহাই ধর্মাবতার, অপরাধী কে ফাঁসি দেওয়ার হুকুম দিন, কিন্তু ওই শাস্তি দেবেন না। 

-আমি নিরুপায়, আইনে নাস্তিকতার শাস্তি একটাই।
-ইওর অনার...!!!!
-এ আদালতের বিচারে আসামীর অপরাধ প্রমাণিত এবং কঠোরতম শাস্তি তার প্রাপ্য। আদলত আদেশ দিচ্ছে; অবিলম্বে আসামী যেন ধর্ম ও যুক্তিবাদ নিয়ে ব্লগ লেখা শুরু করেন।


৩। 
পার্সেলটা দেখেই দিল খুশ হয়ে গেল তাঁর।
হুড়মুড় করে ঝাঁপিয়ে পার্সেলটা খুলতেই বেরিয়ে এলো এক ঝাঁক ফুল,সুরাবোতল ভরা প্রার্থনা, সোনা-হীর ভরা কয়েকটা থলে আর কয়েক বাণ্ডিল টাকা। কিন্তু আসল জিনিষটাই নেই দেখে তাঁর মাথায় রক্ত চড়ে গেল; মাথায় গনগনে আঁচ।
থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে নম্বরটা ডায়াল করলেন ঈশ্বরবাবু। অন্যদিক থেকেই হ্যালো ভেসে আসার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন তিনি -
"এসব পাতি ভেটে আমায় ভোলাবে ভেবেছ বেতমিজের দল? এই জন্য কমিশন দিয়ে তোমাদের পুষছি? ব্লগারের সদ্য উপড়ানো হৃৎপিণ্ড কই? কই? কই? কই?"

৪। 


৫।

-আস্তেজ্ঞা হোক স্যার। বস্তেজ্ঞা হোক স্যার।

-বাঃ, বাঃ, মৃত্যুলোকেও এমন চমৎকার রেস্তোরাঁ? ভাবাই যায় না। তা হে ওয়েটার, মেনু লাও। জলদি জলদি।

-আমাদের এখানে দু' ধরণের মেনু স্যার। আস্তিক মেনু আর নাস্তিক মেনু। আপনার জন্য কোনটা আনব স্যার?

-হোয়াট? আস্তিক মেনু আর নাস্তিক মেনু? তফাৎ কী দু'টোতে?

-আজ্ঞে দু'টো মেনুতে সবই এক শুধু একটাই ছোট্ট ফারাক।

-কী ফারাক?

-আজ্ঞে আস্তিক মেনুতে রয়েছে চাপাটি আর নাস্তিক মেনুতে চাপাতি।

****

অন্য লেখাগুলো ঃ 

Plight of secular bloggers in Bangladesh (কৌশিক দত্ত)

আহত কলম (তপব্রত ব্যানার্জি) 

আইডিয়া (অভিষেক মুখার্জি)  

আমার মহানবী ( রোহোণ কুদ্দুস) 

ঊনচল্লিশের এক এবং অন্যান্য – বাংলাদেশ প্রসঙ্গে (প্রবীরেন্দ্র চ্যাটার্জি)

অভিজিৎ রায় হত্যা প্রসঙ্গে (প্রবীরেন্দ্র চ্যাটার্জি)

আজকের খবরে অভিজিৎ মৃত (শিঞ্জিনী সেনগুপ্ত)  

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি (শিঞ্জিনী সেনগুপ্ত)

ধর্ম  (BongPen- অন্য পোস্ট)

Know that You have Won (অমৃতরূপা কাঞ্জিলাল)

ফিসফাস ( সৌরাংশু )

Tuesday, August 4, 2015

প্রেমিকার তিন


- শোন, আমি তোকে ভালোবাসি।


- অ্যাজ ইন, বিয়ে করতে চাস কি? যে ছেলে বিয়ে করতে চায় না, তার ভালোবাসা সম্বন্ধে আমি ভীষণ স্কেপটিক।

- পারলে করতাম।

- পারবি না কেন?

- তুই সুখী বিবাহিতা বলে। আমি হ্যাপিলি ম্যারেড বলে। পলিগ্যামি সোসাইটি খায় না বলে। আমি সোশ্যাল চাপ নিয়ে থাকি বলে।
- সোসাইটি খেলে করতিস? আমায় বিয়ে?
- ধুর, আর ভালোবাসতে ইচ্ছে করছে না।
- এগজ্যাক্টলি রে।
- এগজ্যাক্টলি কী?
- এগজ্যাক্টলি সে কারণেই আমিও তোকে ভালোবাসি। তুই দুম করে না-ভালোবাসায় মন দিতে পারিস বলে।
- তুই বেসিক্যালি একটা অখাদ্য মেয়ে।
- তাই তোর এই ভালোবাসা, বল?
- এগজ্যাক্টলি।

*****

 ২

পেন্সিলে লিখবো;
"বয়ে গেছে ভালোবাসাতে"।
নিজেকে বারবার পড়ে শোনাব। তুমি-বিরোধী কনফিডেন্স তৈরিতে মন দেব।

তুমি সে কাগজে উঁকিঝুঁকি মারলেই তড়িঘড়ি কলম চালিয়ে জুড়ে দেব নতজানু ফুটকি - 
"রয়ে গেছে ভালোবাসাতে"।

*****

-প্রথম দেখা। মনে পড়ে?

-অফ কোর্স। ছবির মত স্পষ্ট।

-আচ্ছা? আমি কী পরেছিলাম?

-শাড়ি।

-কচু।
-সালোয়ার। কামিজ।
-রঙ?
-সবুজ।
-ধুর।
-হলুদ।
-ছিঃ।
-ইয়ে, ওই খয়েরী মত?
-ছিঃ ছিঃ। এই তোমার প্রেমের পড়া ছিল?
-জামার রঙে প্রেম ছিল না।
-তবে?
-তোমার কাঁধের নীল ঝোলা ব্যাগ থেকে সেকেন্ড ইয়ারের ট্যাক্সের বই খাতার ভীড় ছাপিয়ে উঁকি মারছিল ইন্দ্রজালের অরণ্যদেব। পয়েন্ট অফ প্রেম নাম্বার ওয়ান। তুমি গুনগুন করছিলে "আরামবাগের তাজা মুর্গীর মজা"র জিঙ্গল। পয়েন্ট অফ প্রেম নাম্বার ট্যু। ওকে?
-হি হি হি।

রিটার্ন অফ বন্ধু


-হালোয়ামোহনবাবু, ও হালোয়ামোহনবাবু।

-আঁ...আঁ...।

-বাত করতে কষ্ট্ হচ্ছে?

-হাঁ..।


-টাইম ট্যু গো আঙ্কিল।

-টা...?

-আমার সোঙ্গে আসেন।

-এ...এ...হস..হসপিটাল...।

-জানি, হোসপিটাল। আই সি ইউ। বাট আই লাইক ইউ। সো, লেটস গো।

-কিন্তু আমি তো...।

-ভেন্টিলেশনে আছেন। লেকিন ই তো আই-ওয়াশ আছে। হসপাতাল আপনার পইসা হরপে নিলো। মেক্যানিকাল রেস্পিরেশন আপনার ক্যারিস্মাকে স্যুট করে না হালোয়ামোহনজী।

-করে না?

-বিলকুল নহি। আপনি আমার কথা বিসোয়াস করছেন না?

-বিসোয়াসছি। কি...কি...কিন্তু ফে....ফে...।

-মিস্টার মিট্টার ইনাফ করিয়েছেন। বাট নাউ ইট ইজ আ ওয়েস্ট। দেয়ার ইজ নো হোপ।

-হো..?

-হোপ..হোপ আর নাই। আমি আপনাকে ভুলি নাই মোহনবাবু। ইউ আর আ ফ্রেন্ড। আর আমি হেল্প করতে এসেছি।

-হা...হা...হাউ...?

-কী করে হেল্প করব? সিম্পুল। আপনার ভেন্টিলেশন রিমুভ করিয়ে দিব। সিম্পুল। বাট অনলি উইথ ইওর পারমিশন।

-অ। কোনও..চা..চান্স যদি থাকে?

-কুছু নেই। ম্যাটার অফ ট্যু অর থিরি ডেজ। অনলি পেইন ফর ইউ। অউর হার্ড আর্নড মানির বরবাদি।

-কি...কি...কিন্তু...আপনি এ..এখা...।

-এখানে কী করে এলম? আই ক্যান গো এনিহোয়্যার। দু'সাল পহলে এক কমিনা অস্পাতাল আমায় বেকার ভেন্টিলেশনে ফেলিয়ে রাখল। আমিও উল্লু নাই। অর্জুনকে দিয়ে ভেন্টিলেশন রিমুভ করিয়ে দিলাম। এন্ড অফ ওয়েস্টেজ। মানির ভ্যালু আছে তো, নাকি? আর আমার কষ্ট ভি কম হোল। আপনি কষ্টে আছেন খবর এল। ব্যাস, চলিয়ে এলম। আমি আপনাকে নিয়ে মস্করা করিয়েছি লেকিন হার্ম ইন্টেন্ড করেনি কভি। আই লাইকড ইউ ফ্রম ডে ওয়ান। অ্যাম আ ফ্রেন্ড আঙ্কিল। আর জরুরতের টাইম পে ফ্রেন্ড তো আসবেই। টাইম টু গো হালোয়ামোহনবাবু। টাইম টু গো।

-লে...লে...লেটস....গো..ম....ম...মগনলালজী।

-আসেন।

প্রফেসর গুপ্তর উপাখ্যান

-আমি কোথায়??
-আমার বাড়িতে।
-আপনি কে?
-আমি প্রফেসর আর গুপ্ত।
-এটা কেমন নাম?
-খুব গন্ডগোলে ঠেকছে, তাই না?
-খুব।
-তার কারণ আপনাদের সময় এমন আধুনিক নামের চল ছিল না।
-আমাদের সময় মানে??
-মানে আপনি হলেন আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগের মানুষ।
-ঠাট্টা করছেন?
-আরে না না। আপনাদের সময় টাইম ট্র‍্যাভেল ব্যাপারটা ছিল না তো। তাই আপনার এমন আজগুবি ঠেকছে।
-টাইম কী?
-ট্র‍্যাভেল। মানে সময়ের এপার থেকে ওপারে যাওয়ার প্রযুক্তি। এসব তো এখন জলভাত। অবিশ্যি সময়ের পিছন দিকে যাওয়াটা আইন বিরুদ্ধ। তবু রিস্ক আমায় নিতেই হল বুঝলেন। দুম করে হাজার খানেক বছর পিছিয়ে গিয়ে প্রথমে আপনাকে নজরে এলো। ব্যাস। ক্লোরোফর্ম আপনার নাকে চেপে উঠিয়ে নিয়ে এলাম। কিছু মনে করেননি তো ভাই?
-আমার মাথাটা কেমন করছে।
-চিন্তা করছেন কেন মশাই? আপনাকে আপনার সময়ে ফেরত পাঠিয়ে তবে আমার সোয়াস্তি। আপনাকে শুধু আমার একটা কাজ করে দিতে হবে। না করলে মানছি না, এই বলে রাখলাম।
-কী কাজ?
-আমি একটা তাবড় সুদীর্ঘ উপাখ্যান লিখেছি। দুরন্ত কেতাব। কিন্তু প্রকাশ করতে পারছিনা।
-কেন?
-লজ্জার কথা মশাই। এ যুগে আমরা এখন টাইম ট্র‍্যাভেল করতে পারি, কিন্তু পর্ন দেখা বা পড়া বারণ। পর্ন ব্যান রয়েছে যে। আদিরস নিয়ে আদিখ্যেতা এই আধুনিক যুগে অপরাধ। এদিকে আমার এই বইটি আমি লিখেছি বহু বছর অক্লান্ত ভাবে গোপন রিসার্চ চালিয়ে। কিন্তু প্রকাশ করার উপায় নেই। করলেই সোজা জেল।
-এতে আমি কী করতে পারি?
-সব পারেন মশাই। আপনিই সব পারেন। আপনি তো আর আধুনিক ভারতে পয়দা হননি। আপনাদের আদিম যুগে তো আর পর্ন ব্যান করেনি কেউ। আপনাকে শুধু আমার এই লেখাটা আপনার যুগে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ করতে হবে। এ যুগের গভর্নমেন্ট না বুঝুক, আপনাদের যুগের মানুষ অন্তত বুঝবে এ কেতাব কতটা মূল্যবান। কথা দিন আপনি আমার এ অনুরোধ ফেলবেন না। আমি আপনার যুগোপযোগী ভাষার একটা অনুবাদ অলরেডি তৈরি রেখেছি। আপনি নিজের নামেই এ লেখা প্রকাশ করুন। খ্যাতি যশ আপনারই থাক। কিন্তু এই আদিরসাত্মক উপাখ্যানটিকে এই পর্ন ব্যানের অন্ধকার থেকে আপনি রক্ষা করুন প্লীজ। অরাজি হবেন না। 
-অরাজি হয়ে কী উপায় আছে! বেশ, তাই হবে। ও লেখা আমি নিজের নামে প্রকাশ করব। এবার আমায় তাড়াতাড়ি আমার সময়ে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করুন দয়া করে।

-ওহ! যাক, একটা বোঝা আমার বুক থেকে নেমে গেল। মানব ইতিহাস আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে...মিস্টার...ইয়ে...এই দেখুন...আপনাকে সময়ের ওপার থেকে চুরি করে এনে, এতক্ষন গপ্প করে, নিজের গোপন লেখা পর্যন্ত গছিয়ে দিলাম অথচ আপনার নামটাই তো জানা হয়নি।
-আমার নাম? শ্রী বাৎস্যায়ন।