Thursday, July 16, 2015

অ্যারেঞ্জড

- অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ! জানো রোহণ, আমি কিন্তু আগে কোনদিন ভাবিওনি যে আমার বিয়ে অ্যারেঞ্জড হবে।

- আফসোস হচ্ছে? বিয়ের এখনও হপ্তা দুই বাকি আছে। ভেবে দেখতে পার।

- মোটেও না। আমি ঠিক বুঝেছি যে আমার জন্য তুমিই পারফেক্ট।

- কী করে বুঝলে?

-ওই যে, যেদিন ছোটমামা তোমায় জিজ্ঞেস করলে তোমার জীবনের ইন্সপিরেশন কে আর তুমি বললে রবি ঠাকুর। সেদিন থেকেই। রবীন্দ্রনাথ যে আমারও ভারি আপন গো। আমার প্রতিটি শ্বাসে যে সে মানুষটি...।
-সেন্টিমেন্টাল হয়ে পড়লে দেখছি। দাড়িকাকার নামেই বাঙালি এমন সুড়সুড় করে ক্লিশে ঘাঁটতে আরম্ভ করে দেয়! আমি বলেছিলাম আমার জীবনে ইন্সপিরেশন বলতে রবি ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ বলিনি।
-রবি ঠাকুর বলেছ, রবীন্দ্রনাথ বলনি মানে?
-ঠাকুর মানে দেবতা সেন্সে ঠাকুর। ইন্সপিরেশন মানেই তো ডিভাইন ব্যাপার। আর রবি বলতে ঘোষ। আমার জীবনের ইন্সপিরেশন বল আর ঈশ্বর বল; সে ওই একজনই-রবি ঘোষ। আমার কলজের বেদীতে একমাত্র অধিষ্ঠিত ঠাকুর। বুঝলে? আমি ওর মত কুল ডিউড হইয়ে সো কাইন্ড অফ ইউ বলতে চাই। আমি ওর মত হিউমরের থুঁতনিতে আলতো চুমু খেতে চাই। ক্লিয়ার হল? কী হল...অমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখছটা কী? বিয়েটা নিয়ে ডাউট হচ্ছে গো?..


তিন মিষ্টি

জিলিপি

-এই কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ জিলিপির কথা মনে এল।
-এক্সেলে কাজ করতে করতে হঠাৎ জিলিপির কথা? হোয়াই?
-না মানে কিছুক্ষণ আগে শ্বশুর মশায়ের কল এল কিনা। ভারী মিষ্টি সুরে কথা বলেন, কিন্তু ভারী পেঁচিয়ে কথা বলেন। পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন না খিস্তি করছেন বুঝতে পারা যায় না।

**
সস্তার সরভাজা

- আকাশে কেমন মেঘ করেছে দেখেছ? ঠিক যেন থরে থরে সস্তার সরভাজা সাজানো রয়েছে।
- মেঘ? সস্তার সরভাজা?
- ওই আর কী। সস্তার সরভাজা দেখতে সরেস কিন্তু তা আসলে সামান্য সরের পর্দার আড়ালে ডালডা লেপা ময়দার পাঞ্চ। দু'কামড় দিতেই অম্বল বুক জ্বালা। আর এই মেঘ। অমন গাঁকগাঁক করে ডেকে শেষে দু’ফোঁটা জেনারেট করবে আর তার পরে চিটচিটে চামড়া জ্বালানো গরম।

**
চিত্রকূট

- অত বড় মাদুলি? তুই করেছিস কী?
- হুঁ হুঁ বাবা, যত বড় সাধু তার তত বড় দাওয়াই।
- তাই বলে এত বড় মাদুলি? ওর মধ্যে যে জিনিষপত্র ভরে ঘুরতে যাওয়া যায় রে।
- জিনিষের প্রতি এত মায়া কেন রে? কী নিয়ে এসেছিস যে নিয়ে যাওয়ার ধান্দা করছিস?
- ফের বাতেলা। তা এই তাবিজটা কিসের? সন্তান লাভের জন্য না চাকরীতে উন্নতি?
- মনের শান্তির জন্য ভাই।
- তোর মনে শান্তির অভাব আছে নাকি? দামী চাকরী, টুকটুকে বৌ। তোর তো এখন মিডাস টাইম।
- থাম থাম। শান্তির কী বুঝিস রে তুই? তোদের মত ছেলেরাই বন্ধুত্বের নামে কলঙ্ক।
- তোর শান্তিতে না থাকার কারণ?
- বৌ।
- সে কী! বৌ ভালোবাসে না?
- ভীষণ ভালোবাসে।একনিষ্ঠ প্রেম।
- তাহলে? স্পেস দেয় না?
- ভীষণ উদার।
- অ্যাডাল্টারি?
- পতিব্রতায় নোবেল থাকলে সিওর পেত।
- দেন? তাহলে অসুবিধেটা কোথায়? বৌকে নিয়ে তোর অসোয়াস্তিটা কোথায়?
- না মানে, আমার শরীরে প্রতি অতি মাত্রায় যত্নশীল সে।
- সে তো ভালো কথা।
- কাঁচকলা। আমার মিষ্টি খাওয়া রেস্ট্রিক্ট করে রেখেছে জানিস? খাওয়ার পর দু'টো চিত্রকূট না খেলে আমার ভাত হজম হয় না, আর সে বলে কিনা রোজ দু'টো চিত্রকূট খাওয়া নাকি শরীরের জন্য বিষ?
-বটে? সে মন্দ কী আর বলে! আর কোন সাধুবাবা তোকে এ মাদুলি দিলে? এ মাদুলি হাতে রাখলে তোর বৌ তোকে চিত্রকূট খেতে দেবে?
- সাধুবাবা কে? আমি নিজে?
- তুই নিজে মাদুলি ধারণ করেছিস?
- ট্রেড সিক্রেট। পাঁচ কান যেন না হয়। মাদুলিটার সাইজ পেল্লায় কেন জানিস? হরি ময়রার আট টাকা দামের দু'পিস চিত্রকূট এর মধ্যে এটা যায়। মাপ নিয়ে বানানো। আর ইউনিক ডিজাইন। রস গড়িয়ে বেরোনোর কোন চান্সই নেই।
-এই মাদুলি তে করে তুই চিত্রকূট স্মাগল করে বাড়ি ঢুকিস?
-আর ডিনার সেরে ছাদে পায়চারি করতে যাওয়ার নাম করে গিয়ে টপাটপ দু'পিস মেরে দি। ডেইলি।
-অত বড় মাদুলি। বউ ডাউট করে না?
-জিজ্ঞেস করেছিল বটে মাদুলি কোথায় পেলে। বলেছিলাম মাদুলিটা অফিসের বসাকদা এনে দিয়েছে কোন তান্ত্রিকের কাছ থেকে। মনের মধ্যে যে সর্বক্ষন "মিষ্টি খাব মিষ্টি খাব" ভাব, সেই লোভ নাকি মাদুলিতে কেটে যাবে। আর হয়েওছে তাই, এই মাদুলি ধারণ করার পর থেকে আমি আর বৌয়ের কাছে চিত্রকুটের জন্য ঘ্যানঘ্যান করি না।

য়ানো

-কী হল য়ানো? অমন উদ্ভ্রান্তের মত কী খুঁজে চলেছ?

-আর বল কেন খুড়ো। সব বুঝি জলে গেল। 

-আরে যাত্রা শুরুর সময় হয়ে এল যে।

-যাত্রা যে পণ্ড হতে বসেছে খুড়ো।

-এতদিন ধরে এতকিছু যোগাড় করর জাহাজ বোঝাই করলে। নিশ্চিন্দি হয়ে আমরা সকলে বসে আছি তোমার সাথে ভেসে বেড়িয়ে বিপদ থেকে দূরে থাকব। এখন আবার হলটা কী? 
-আসল জিনিষটাই যে খুঁজে পাচ্ছি না। আমার বৌ যে আমায় চিবিয়ে খাবে।
-কী এমন জিনিষ য়ানো?
-সাংঘাতিক জিনিষ। নিশ্চিত আমি এই তোষোকের তলায় রেখেছিলাম। কিন্তু আজ যে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না। গতকালই বড় মুখ করে গিন্নীকে বললাম যে ও জিনিষ ছাড়া আমি জাহাজের নোঙর তোলার আহাম্মকি করলে আমি নিজের নাম উল্টে নতুন নাম রাখব।
-আহা জিনিষটা কী সে'টা শুনি।
-আনন্দবাজারের সাপ্তাহিক রাশিফলের পাতাটা। তার সাথে বশীকরণ এক্সপোর্টদের মূল্যবান বিজ্ঞাপনগুলো। এত গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা। যাত্রাপথে পড়ার কথা ছিল। গিন্নী পইপই করে বলেছিল সাবধানে রাখতে। পড়তে না পারলে যে পিছিয়ে পড়তে হবে খুড়ো।
-কিন্তু আর যে খোঁজার সময় নেই য়ানো।
-হায় হায়। এখন উপায়?
-বৌমাকে কথা দিয়েছ সে জিনিষ না পাওয়া গেলে নিজের নাম উল্টে নতুন নাম রাখবে। যাত্রা যখন শুরু করতেই হবে য়ানো, নিজের নাম উল্টেই দাও। য়ানোর নৌকার বদলে আমাদের নৌকার হল গিয়ে তাহলে নোয়ার নৌকা। তাই তো?
-অগত্যা।

শনির দশা

অধম মদ - স্কচ।
মধ্যম মদ - চিলেকোঠার আড়ালে রাখা চুমু।
উত্তম মদ - চোখের সামনে বাঁটুল দি গ্রেটের খোলা পাতা, জিভে সপ্তদীপা চানাচুরের মিহি স্বাদ, কানে হেমন্তুর গুনগুন, বুকে জড়ানো বাটিক প্রিন্টের ওয়াড় দেওয়া পাশবালিশ।
নিজের স্যাটারডে নাইট; বেছে নিন, গুছিয়ে নিন।

**
-নেশা হয়েছে ভায়া?
-না বললে বিশ্বাস করবেন?
-না। মাতাল মাত্রেই সে বলে থাকে যে তার নেশা হয়নি।
-হ্যাঁ বললে?
-ভাববো ভান করছেন। 
-কী বুঝলেন?
-কী বুঝব?
-সোশ্যাল নর্মস, কালচার আর কন্ডিশনিং। সবচেয়ে গভীর মদ। একটা এন্ট্যায়ার স্পেসি সে মদে মাতাল হয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। মদ খাওয়া কে আপনি ভালো খারাপে মাপেন, সেই মুরুব্বিয়ানার ফিতে হাতে সব কিছু মেপে বেড়ানোই হচ্ছে আদত মাতলামি। সহমানবের উত্তরে বিশ্বাস রাখবেন না জেনেও প্রশ্ন করেন। দ্যাট ইজ মাতলামো।অফ কোর্স; আমিও মাতাল। কিন্তু এই দু'টো চুমুক দিয়ে মাঝেসাঝে মাতলামির বাইরে এসে দুনিয়াটা চেখে যাই।
-মানে আমিই মাতাল, কারণ আমি মদ খাচ্ছি না। আপনি নন, কারন আপনার হাতে আজকের ছয় নম্বর পেগ। তাই তো?
-করেক্ট। মাস্ট সে, আপনি জাতে মাতাল কিন্তু তালে ঠিক।

**
স্রেফ শনিবার রাতের লোভে একদল বাঁদর বাঁদরামি ছেড়ে স্যাপিয়েন হলে।
হিউম্যানিটির জন্ম হল ল্যাদের ফ্যাব্রিকে ফুর্তির এম্ব্রয়ডারি আঁকার জন্য। মুশকিল হল; ফাঁকতালে হিউম্যানিটির লেজুড় হয়ে বাজারে এলে ইকনমিক্স। আর ইকনমিক্সের কলার টেনে এন্ট্রি নিলে হাঁড়িমুখের সোমবার।
শনিবার রাত একটানা মানবতার বেলুনে হাওয়া ইঞ্জেক্ট করে চলেছে আর সোমবার সকাল পেল্লায় ছুঁচ হাতে রক্তচক্ষু দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। টেকনোলজি এগোচ্ছে, সভ্যতা এগোচ্ছে; কিন্তু অসভ্যতার অদম্য নেসেসিটি কারোর গোচর হচ্ছে না। দ্যাট ইজ দ্য প্রব্লেম। সেটাই সত্তর হাজার বছর বয়সের আয়রনি।

Saturday, July 11, 2015

প্ল্যানচেটের ব্যাপার

- প্ল্যানচেট?
- প্ল্যানচেট।
- প্ল্যানচেট করে তুই...?
- বাবার মনে মনে উইলের ব্যাপারে কী প্ল্যান করছে সেটা জানবো। বড়দাদের মতিগতি মোটেও সুবিধের ঠেকছে না। 
- এক মিনিট। তোর কী মাথা খারাপ হল বিশে? জ্যান্ত বাপ্‌কে প্ল্যানচেটে ডাকবি?
- এই বইটা পড়ে দেখ। ক্রেগ মিলার, উনিশ শতকে বলিভিয়ার তিরিশ বছর কাটিয়ে নিজের শহর লন্ডনে ফিরে এই বইটা লেখেন। দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসীদের থেকে প্ল্যানচেটের কত ট্রিক্‌স যে এখানে আছে।
- "প্লেয়িং উইথ দ্য স্পিরিট", নামটা তো গাল ভরা। কিন্তু এখানে কী লেখা আছে যে জ্যান্ত মানুষকে প্ল্যানচেটে ডাকা যায়?
-না।
- তবে?
- প্ল্যানচেটে কাদের ডাকা হয়?
- মৃত ব্যক্তিদের।
- বি স্পেসিফিক। মৃত বলতে?
- ওকে। আত্মাদের ডাকা হয়।
- কারেক্ট। জ্যান্ত মানুষদের কি আত্মা থাকেনা মিলু?
- তো দক্ষিণ আমেরিকার এই আদিবাসীরা জ্যান্ত মানুষের আত্মাদের প্ল্যানচেটে ডাকার উপায় জানে। আর ক্রেগ সাহেব এই বইতে সেই সূত্র লিখে গেছেন।
- ঠিক তাই।
- তা জ্যান্ত মানুষের আত্মারা যখন প্ল্যানচেটের টেবিলে এসে উপস্থিত হয়, তখন তাদের দেহের কী অবস্থায় থাকে?
- গুড কোশ্চেন। অঘোর নিদ্রায় থাকে তখন শরীর। এতটাই গভীর যে কোমা বলা যেতে পারে।
- আত্মা দেহে ফিরে গেলে তবে সে দেহ কোমা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে, তাই তো?
- ঠিক তাই। আত্মা দেহে ফিরতে না পারলে, আজীবন জড় পদার্থের মত কোমায় পড়ে থাকতে হবে। শরীর শ্বাস গ্রহণ করবে, কিন্তু আত্মার অভাবে নিষ্প্রাণ বোধশক্তিহীন হয়ে পড়ে থাকবে।
-এক মিনিট। আত্মা দেহে ফিরতে না পারলে মানে?
-মানে; জ্যান্ত মানুষের আত্মাকে ইনভোক করাতে একটাই অসুবিধে। সে আত্মা নিজে থেকে দেহে ফিরতে পারে না। তাকে ফেরাতে হয়।
-সর্বনাশ। এসব গাঁজাখুরি গপ্প সে সাহেব লিখে যেতে পারলে? আর তুই বিশ্বাস করলি সেসব বিশে?
-বিশ্বাস করি আমি।
-ইনক্রেডিব্‌ল। কেমিস্ট্রির গোল্ড মেডেলটা গলিয়ে মাদুলি করেছিস নাকি ?
-এত রাত্রে তোর বাড়িতে এই বইটা হাতে আমি এমনি ছুটে আসিনি বিশে। বাবাকে প্ল্যানচেটের প্ল্যানটা তোকে আমি কালকেও বলতে পারতাম।
-তবে এসেছিস কেন?
-একটা গণ্ডগোল ঘটে গেছে।
- কীরকম?
- ব্যাপারটা প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। তাই এক্সপেরিমেন্ট করে দেখলাম। মিলু। মুস্কিল হচ্ছে নিজের আত্মাকে নিজের দেহে ফেরাতে পারছি না। হেল্প মি। এই বইয়ের দু'শো বাহাত্তর নম্বর পাতায় দেখ লেখা আছে প্রসেস্‌টা...।
-হোয়াট নন-সেন্স বিশে...।
-সিরিয়াস ব্যাপার মিলু। দেরী করিস না। হেল্প মি। আমার বডিটা বাড়িতে কোমায় পড়ে আছে। বৌ আঁচ করতে পারলেই হইহইরইরই কাণ্ড বাঁধবে। ক্যুইক।