Saturday, July 11, 2015

লিভ্‌ অ্যাপ্লিকেশন

- হোয়াট ইজ দিস মুখার্জি?

- কেন? লিভ অ্যাপ্লিকেশন স্যার।

- কোয়ার্টার এন্ড রিভিউ চলছে, অ্যান্ড ইউ ওয়ান্ট লিভ? কেন?

- বৃষ্টি স্যার। 

- তুমি আজকেই ঠিক করে নিচ্ছ যে কাল মুষলধারে বৃষ্টি হবে?

- না মানে ক'দিন ধরে যা চলছে। রোজ বৃষ্টি, এক্কেবারে কাঁথা গায়ে কফি ওয়েদার। এই ওয়েদারে একটানা অফিস করে ক্লান্ত স্যার। অতএব কাল আমি বৃষ্টিকে রেসপেক্ট জানিয়ে ছুটি নিচ্ছি।

- হাউ নাইস। হাউ রোম্যান্টিক অফ ইউ মুখার্জি। আমি ইম্প্রেস্ড। একটা ম্যাজিক দেখাই। দাঁড়াও। এই দ্যাখো। কী দেখলে?

- দেখলাম যে আপনি আমার ছুটির দরখাস্তটা ছিঁড়ে ফেললেন।

- রাইট। ছিঁড়ে ফেললাম। এবার যাও; পে রোলে যে এরর্ গুল রয়েছে সেগুলোকে রিসল্ভ্ কর।

- ওকে। বেশ। কিন্তু পে রোলের আগে স্যার। আপনি আমায় ম্যাজিক দেখালেন। আমি আপনাকে একটা কবিতা পড়াই? আজ সকালেরই লেখা। প্লীজ পড়বেন?

- ইয়ার্কি করছ?

-প্লীজ স্যার। ছুটি তো চাইছি না। কবিতা পড়াতে চাইছি। এই যে, এইখানে লিখে এনেছি। প্লীজ। ছুটি পেলাম না যখন, এই 
কনসোলেশনটুকু রিফিউজ করবেন না প্লীজ।

-তোমার মাথায় ছিট আছে। যাক গে। কী আগডুম বাগডুম কবিতা লিখেছ দেখি। 

- এই যে স্যার।
- এ কী! কবিতা কোথায়! অফার অফ রেসিগনেশন? হোয়াট দ্য...? তুমি কী আমায় ব্ল্যাকমেল করতে চাইছ?
- ব্ল্যাকমেল? এটা কবিতা নয়? কী বলছেন স্যার। এই মাপের কবিতা রবীন্দ্রনাথ এক পিস্ লিখতে পারলে ধন্য হয়ে যেতেন। স্যার, নোবেলটাই কী সব? চলি।

ভাববার বিষয়

-ভূতের গল্প, রাতে লিখে ফেসবুকে পোস্ট করা উচিত না দিনে?
 
-ভাববার বিষয়।
 
-ও কী!! বুক পকেট হাতড়াচ্ছিস কেন?

-বুক পকেট হাতড়াচ্ছি না, মাথা চুলকোচ্ছি। আরে ঘরে ঢোকার মুখে এমন মুষলধারে বৃষ্টি যে মাথাটা খুলে ভাজ করে বুক পকেটে রাখতে হল। 

-আরে মাথা চুলকাতে মানা করছি না, কিন্তু নিজের হাত থাকতে আবার আমারটা নিয়ে কেন? সবে টেবিলের ওপর রাখলাম পেপার ওয়েটটা পাচ্ছিলাম না বলে আর তুই ঝট করে তুলে নিলি।

-লে হালুয়া, এটা তোর হাত নাকি? অন্ধকারে একদম টের পাইনি। আমারটা ডান হাতটা কি ভেজা ছাতার সঙ্গে বারান্দাতেই ফেলে এলাম নাকি?

চেঞ্জে যাওয়া

“এই জায়গাটা মন্দ নয়। বেশ ফুরফুরে হাওয়া। চারিদিক সবুজে সবুজ। মনোরম পরিবেশ। থেকে থেকেই হুড়মুড় করে খিদে পেয়ে যাচ্ছে। অবিশ্যি খাওয়াদাওয়ার কোনও অভাব নেই তেমন। যা খাওয়াদাওয়া চলছে তাতে রাজভোগ বললে কম বলা হয়। এই কিছু খেয়ে মনঃপ্রাণ পেট ভরল কি খানিক পরেই থরে থরে অন্য কিছু উপাদেয় খানা হাজির। চাইতেও হচ্ছে না, খাওয়ার দাওয়ার আপনি আসছে।
সবচেয়ে বড় কথা বাপ মায়ের খিটখিট থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে। সারাক্ষণ এটা খাস না, ওটা খাবি না...উফ! তাছাড়া যে ছেলেটা মাঝে মাঝেই এসে কয়েক ঘা লাগিয়ে যেত সে ব্যাটাও এখানে নেই। বড় দুঃখে জীবন কাটছিল বাপ, মা আর সেই বিদঘুটে ছেলেটার খপ্পরে পড়ে। ভাগ্যিস এই নতুন ছেলেগুলো কাল আমায় এই নতুন জায়গায় নিয়ে এলে। ধড়ে প্রাণ এলো এতদিনে।
মুক্তি। মুক্তি। আহা। এমন জল-হাওয়া-খাওয়াদাওয়া। অমরত্ব একেই বলে। আমার এত আনন্দ হচ্ছে যে কী বলবো।
মায়াবী পরিবেশ। আর এই পরিবেশের মখমলে সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিচ্ছে সামনের ঐ স্থাপত্যটা। কী অপূর্ব গঠন, কী সাবলীল ভাবে দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে মাঠের মধ্যিখানে। চোখ জুড়িয়ে যায় ওটার দিকে তাকিয়ে। কাল একবার ওটার কাছে গিয়ে পড়েছিলাম; চেটে দেখলাম- বেশ সুঠাম। খুব ভালো লাগছে। কাল আরেকবার ওটাকে চেটে দেখবো ভাবছি।
দ্যাখ দেখি কাণ্ড। আবার এক থালা কাঁঠাল পাতা দিয়ে গেল কে যেন। আরে এই কচি বয়েসে আর কত খেতে পারি রে বাবা? তবে পাতাগুলো যা সরেস মনে হচ্ছে, একটু না চিবিয়ে উপায় নেই”।
**
- এই বলাই!
- হুঁ। কী ব্যাপার?
- পাঁঠাটা হাসছে।
- হাসছে মানে? ধুত্‌।
- মাইরি। তাকিয়ে দেখ। হাড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে পাঁঠাটা হাসছে।

কলিং বেল

-কী ব্যাপার, কে আপনি? এত রাতে এমন ফ্র্যান্‌টিক্যালি কেউ কলিং বেল বাজায়?

-সরি। কিন্তু এমন বিপদে পড়েছি। কোনও উপায় না পেয়ে শেষে...। 

-ব্যাপারটা কী হয়েছে একটু খুলে বলবেন?

-আজ্ঞে আমি অরিন্দম সাহা। ইয়ে, ভীষণ নার্ভাস লাগছে। ভেতরে আসতে পারি? প্লীজ ডোন্ট ওরি। আমার কাছে কোন অস্ত্র নেই। এই দেখুন পকেট ফাঁকা।
 
-আমি অমিয় দত্ত। ভেতরে আসুন।

-থ্যাংকস।

-হয়েছেটা কী?

-আমি একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। এ পাড়ায় এসেছিলাম একটা নেগোশিয়েশনের ব্যাপারে। ওই সাব্রেওয়ালের বাড়িতে। সেখানেই এত রাত হয়ে গেল। টাফ্‌ ডিল ছিল একটা। 

-সাব্রেওয়ালের বাড়ি তো কাছেই। তাকে আমি ভালো করে চিনি। কিন্তু গণ্ডগোলের কী হল?

-আসলে নিজের গাড়ি আনিনি। এত রাত্রে পাড়ার মধ্যে তো আর ট্যাক্সি পাব না। ভেবেছিলাম মেইন রাস্তায় গিয়ে একটা কিছু ব্যবস্থা করে নেব। কিন্তু আপনার বাড়ির পাশের ওই গলিটা দিয়ে পেরোতেই ওরা এমন ভাবে অ্যাটাক করল।

-ওরা কারা? আপনাকে অ্যাটাক করল কেন? এতদিন এ পাড়ায় আছি। চুরি ডাকাতি হতে তো শুনিনি।

-না না। এরা ইউসুয়াল চোর ডাকাত নয়। রিয়েল এস্টেটের ব্যাপার। বুঝতেই পারছেন। শত্রু থাকেই।

-আপনাকে শেল্টার দিতে গিয়ে আবার আপনার শত্রুদের টেনে আনছি না তো?

-না না, ওরা এতক্ষণে ভেগেছে। 

-আই সি। কী ব্যাপার? আপনি কী কিছু খুঁজতে শুরু করলেন নাকি? অমন ছটফট করছেন কেন অরিন্দমবাবু?

-যা:, কাণ্ড দেখেছেন? রাস্তায় পড়ে রয়েছে নিশ্চয়ই। ছিঃ, ছিঃ। 

-রাস্তায় কিছু ফেলে এসেছেন নাকি? মানিব্যাগ? কাগজপত্র? 

-না না, সেসব নয়। 

-তবে কী?

-বডিটা, আমার বডিটা।

-হোয়াট ননসেন্স। যেচে বাড়িতে ঢুকে লেগ পুল করতে চাইছেন?

-লেগ পুল তো আপনি করতে চেয়েছিলেন অমিয়বাবু। সাব্রেওয়াল তো আপনাকে টেক্কা মেরেই বাইপাসের ধারের জমিটা হাতিয়েছে। সেকেন্ড লোয়েস্ট বিড্‌ তো আপনারই ছিল। তাই না অমিয়বাবু? আর ওদের তো বোধ হয় আপনিই লাগিয়েছিলেন আমার পিছনে,তাই না? একটু ভয় দেখিয়ে কড়কে দিতে? আপনার পোষা ছেলেরা ভয় দেখাতে গিয়ে যে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেললে অমিয়বাবু। সেই রিপোর্টটা আপনাকে দিতেই তো এত রাত্রে আপনার কলিং বেল বাজানো।

-শাট আপ। বেরিয়ে যান আপনি। আমি পুলিশ ডাকব।

-পুলিশ ডাকতে পারেন। আফটার অল দু'টো লাশ উঠিয়ে মর্গে নিয়ে যাওয়ার আছে, তাই না?

লুচিডেফিনিশন্‌স

১। ন্যাচ্‌রাল ফ্লেয়ার – 
তিনটে আঙুলের ডগা ব্যবহার করে নিখুঁত ভাবে লুচি ছিঁড়ে আলুর দমে মাখিয়ে খেতে পারা। 

২। ক্যারিস্মা – 
অনামিকার পালক স্পর্শে লুচির ফুলকো বুকে আলতো চির তৈরি করে স্নেহের ধোঁয়া উড়িয়ে দিতে পারা। 

৩। কুলনেস কোশেন্ট –
লুচি না গুনে একটানা খেয়ে যেতে পারা। 

৪। এক্স ফ্যাক্টর –
আলুর দম/ছোলার ডাল/বেগুন ভাজা পেরিয়ে এসে; শেষ লুচিটা চিনির কাছে সাবমিট করতে পারা।