Monday, February 9, 2015

দিবাকর আর লে-হালুয়া

সেদিন সকালে উঠে দিবাকর বুঝলেন যে তিনি নিজের খাটে নেই। আশেপাশে চেয়ে দেখলেন যে ঘরটাও তার বৈদ্যবাটীর বাড়ির নয়। এমন বিশ্রী হলদে দেওয়ালের ঘর আর দু’টি দেখেননি দিবাকর। তবে কী তিনি কিডন্যাপ হয়েছেন? কিন্তু তিনি কিডন্যাপ হবেন কেন? পোস্টঅফিস ক্লার্কের চাকরীতে ক’পয়সাই বা আয়। আর তিন কুলে তার আছেটাই বা কে যে তাকে ছাড়াতে কিডন্যাপারদের টাকা দেবে?

**

-   কী ব্যাপার দিবাকরবাবু? অমন হাঁকুপাঁকু করছেন কেন?

-   আপনি কে? আপনার গলাটা কোথা থেকে আসছে? আমি দেখতে পারছি না কেন আপনাকে?

-   এই ঘরের এক কোণে একটা স্পীকার লাগানো আছে। আমার কণ্ঠস্বর আপনি সেই স্পীকার থেকেই শুনতে পারছেন।

-   আমি কোথায়?

-   নিস্পারনিস্কে।

-   নিস কী?

-   নিস্পারনিস্ক। আপনি নিস্পারনিস্কে আছেন।

Saturday, February 7, 2015

সুরেলা বাপের ছিচ্‌কে ছেলে



"বাংলা আমার জীবনানন্দ", বাপ গাইছিলে মনের সুখে।

"জীবনানন্দ কে বাবা?" ছেলে জানতে চাইলে। 

"বাংলার নিট পেগ, বুঝলি?", বাপ মিচকি হাসলে।

**
সেদিন যেমন। বাপ গান ধরলে, "আমায় ডুবাইলি রে,আমায় ভাসাইলি রে"

ছেলে শুধলে "এমন গান গাইছ কেন বাবা?"

বাপ বললে "সন্দীপ রে'র সিনেমা দেখে ফেলেছি যে"।

**
বাপ গাইছিলেন "বড় একা লাগে এই আঁধারে"। 

Thursday, February 5, 2015

অমু ও অফিস

জামরুলের পাতার মত একটা ফিসফিসে ভালো লাগা গন্ধ অমুর মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। বসের সামনের চেয়ারে বসেই বেশ অফিস বিরোধী আরামে গা এলিয়ে আসছিল তার। কানের মধ্যে একটা নরম ঝিমঝিমকড়ে আঙুলের ডগায় এক ফোঁটা সর্ষের তেল নিয়ে কানের ভেতর আলতো করে বুলিয়ে নিলে যেমন ভালো লাগে- ঠিক তেমনটা। জিভে সামান্য শুকনো লংকার আদুরে রেশ রয়ে গেছিলোলাঞ্চে আজ অফিসের পাশের ফুচকাওলার থেকে আনা আলু কাব্‌লি ছিলোডাল,ভাতঅমলেটের পাশাপাশি। জিভের ঝালটাও ভালো লাগায় এসে মিশছিলো।

টেবিলের উলটো দিক থেকে ঝড়ের বেগে উড়ে আসছিলো খিস্তি, অফিসের পরিবেশের হিসেবে যা যথেষ্ট কাঁচা। বস আগুন। অমুর কাজ নিয়ে অবিশ্যি বস বিশেষ অনুযোগ করার সুযোগ পান না। তবে “মুখে মুখে তর্ক” করার অভ্যেসেটা যে অমুকে একদম কর্পোরেট ইতর বানিয়ে দিচ্ছে দিন দিন, এটা নিয়েই তলোয়ার শানাচ্ছিলেন ত্রিপাঠি সাহেব; অর্থাৎ বস। এটিকেট  জ্ঞানের অভাব নিয়ে এফোঁড় ওফোঁড় হচ্ছিলে অমু।

প্রথমে অমুর মেজাজ গেছিল বিগড়ে। কান দু’টোর গরম হয়ে যাওয়া সে মোক্ষম টের পাচ্ছিল। বেফালতু ওয়ার্ক এথিক্‌স নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন মানে হয়! অমুর দোষ বলতে বসের টাইপ করা একটা অফিস মেমোর বানান ও ব্যাকরণ ভুলগুলোর ওপর লাল কালির কলম দিয়ে গোল্লা পাকিয়ে বসের কাছেই ফেরত পাঠিয়েছিল সে “প্লিজ   এডিট” কমেন্ট জুড়ে। সেই যে ত্রিপাঠি সাহেবের মেজাজে পেট্রোল আর জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি পড়ল, দু’ঘণ্টা পরেও সে দাউ দাউ নেভেনি।

অমুর রাগ অবশ্য সহজেই পড়ে গিয়েছিল। এরপর ঘুম পাওয়া শুরু হলো। বসের সামনে বসেও ঢুলুনিতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হলো। এক দিক থেকে ত্রিপাঠি সাহেবের এলোমেলো খিস্তি, আর অন্য দিকে অমুর কোদালে হাইয়ের জোরদার টক্কর।  দুপুরের ডাল, ভাত, অমলেটের বহর চলছে। অমুর ঝিমুনিতে ত্রিপাঠি সাহেবের গজরগজরের মোমেন্টাম গেল বেড়ে।

“আনপার্‌ডনেব্‌ল” বলে হুঙ্কার দিয়ে মৌখিক খামচা খামচিতে নেমে এলেন বস। অমুর চাকরিটা যে তিনি চাইলেই সামান্য অঙ্গুলিহেলনে নট করে দিতে পারেন সেটা বিভিন্ন ফরম্যাটে অমুকে জানাতে লাগলেন। ত্রিপাঠি সাহেবের নাচন কোঁদন দেখে অমুর মনে বেশ মজা হচ্ছিল। কালো কোট সাদা শার্টে ত্রিপাঠিবাবুকে অবিকল একটা পেঙ্গুইনের মত দেখায়, রাগ করার বিশেষ উপায় থাকে না।

Monday, February 2, 2015

সোমবারের জঘন্য যত জোক্‌স


-   আচ্ছা ঘোষদা, সোমবার এলেই আপনার মেজাজ এমন খিঁচরে থাকে কেন বলুন দেখি?
-   ঢপের কাজ, ভাটের প্রেশার, রোব্বারের মাটনের হ্যাংওভার আর টিফিন কেরিয়ারে আলু পটল। মেজাজ ভালো থাকবে কী করে মাইতি? আর তুমিই বা অমন দাঁত বের করে ফি সোমবার ঘুরে বেড়াও কেন শুনি। খুব পীরিত নাকি অফিসের সাথে?
-   আরে ধুর। অফিস আবার একটা জায়গা হল। ফাইল আর ফাইল আর বড় সাহেবের জুতোয় আমাদের থুতু। ধুর ধুর। আমি হাসি সোমবারের লেগ পুল করে।
-   সোমবারের লেগ পুল করে?
-   মানে সোমবার কে নিয়ে ঠাট্টা করে আর কী। নিজেই নিজেকে শুনিয়ে থাকি। সোমবারি ঠাট্টা। আর নিজেই ফিক ফিক করে হেসে থাকি। সিক্রেট টু মাই মন্ডে স্মাইল্‌স। বুঝলেন কিনা ঘোষদা?
-   মানে ? কিরকম?
-   বলি?
-   অফ কোর্স। শুনি।
-   আচ্ছা বলুন দেখি, যে সোমবার কে মীর ভালোবাসেন, তাকে তিনি কী বলে ডাকেন?

অমু ও জমানো

অমু, সে ছোটবেলা থেকেই খুব জমাতে ভালোবাসতো। বিভিন্ন রকম জমানোর সখ। কখনও কেতাবি, কখনও অদ্ভুত।

ক্লাস টু’তে জমানো শুরু করেছিল বাসের টিকিট দিয়ে। কলকাতার প্রাইভেট বাসের সরু লম্বা টিকিটগুলো। কয়েক বাণ্ডিল জমা হওয়ার পর মতি পাল্টে ট্রেনের টিকিট জমানো শুরু করেছিল। তখনও ইলেকট্রনিক টিকিটের জমানা আসেনি, হলদে রঙের ছোট টিকিট যাতে ঘটাং করে কালো কালিতে তারিখ ছাপা হত। সেই ট্রেনের টিকিট জমিয়েছিল এক থলে। দেশলাই আর সিগারেটের বাক্সও একই সাথে জমাতে আরম্ভ করেছিল, একটু বড় বয়েসে এসে। আগন্তুক সিনেমাটা দেখে সে নতুন শব্দ শিখল নিউমিসম্যাটিস। কয়েন জমানো শুরু করেছিল সেই দেখে। খান কয়েক ব্রিটিশ, নেপালি আর বাংলাদেশি কয়েন জোগাড় করতে গিয়েই টের পেলে যে ছাত্র বয়েসে এই শখে টু পাইস বেশি খরচ হওয়ার চান্স আছে, বাপের যোগান তেমনটি নেই। সেই হিসেবেই স্ট্যাম্প জমানোর দিকেও যায়নি সে।