Thursday, January 22, 2015

চোখের ধুলো

- ওই আওয়াজটা কীসের রে বাবু?
- কোন আওয়াজ?কোনও আওয়াজ নেই তো। তুমি ঘুমোও এবার। রাত অনেক হয়েছে।
- মন দিয়ে শোন, ওই যে। খটখট করে হচ্ছে। 
- বলছি তো। কিচ্ছু না। ঘুমোও এবার। জ্বালিও না।
- একটু উঠে দেখ না বাবা। বারান্দায় বেড়াল ঢুকলো নাকি! পাখিগুলো রয়েছে যে। নেহাত আমি অন্ধ, নয়তো আমিই...
- বেড়ালের আওয়াজ নয়। আমি কিছু কাজ করছি। ঘুমোও। এত রাত্রে ঘ্যানঘ্যান শুনতে ভালো লাগছে না।
- তুই তো শুয়ে পড়েছিলি মশারি টাঙিয়ে, আবার কী এমন কাজ মনে পড়লো।

Monday, January 19, 2015

ফেলুদার আশি



ফেলুদা আশিতে এসে কী করতেন?

-   লালমোহনবাবু চলে যাওয়ার পর সবুজ অ্যাম্বাস্যাডারটা নিজের বাড়ির গ্যারেজে এনে রেখেছিলেন। গাড়ির গায়ে সামান্য হাত বুলিয়ে আসতেন। আফটার অল, ভদ্রলোক তো আর শিঙ্গাড়ার ঠোঙা নিয়ে দুম করে উদয় হবেন না।

-   মগনলালের নম্বর জোগাড় করে একবার ডায়াল করতেন। বৃদ্ধ বেনারসির গোলার মত কণ্ঠস্বর খড়খড়ে হয়ে কোনক্রমে পড়ে আছে জেনে সামান্য অবাক হতেন। এবং বলতেন “নো হার্ড ফিলিংস মগনলালজি, ইউ হ্যাভ বিন আ ট্রু কম্পিটিটর অ্যান্ড কাইন্ড অফ আ ফ্রেন্ড। আ ভেরি স্পেশাল কাইন্ড ইফ আই মে অ্যাড। আপনার বজরাতে করে গঙ্গা ভ্রমণের অফারটা কী এখনও বহাল রয়েছে?”

-   নিজের পুরনো ডায়েরিগুলো ঘেঁটে দেখতেন আরেকবার। শেষ পাতার হিজিবিজিগুলোর মর্ম তোপসেও পারেনি কোনদিন উদ্ধার করতে। আসলে ফেলুদার সঙ্গে প্রেম কানেক্ট করতে কারুর কী ভালো লাগতো? কে জানে। নরম ইমেজ নিয়ে ক্রিমিনালদের পিছনে ধাওয়া করা যায় না।

-   তোপসে রাত্রেই ফোন করেছিল। ব্যবসা সূত্রে দিল্লীতে সে আছে বছর কুড়ি হল, কিন্তু এই দিনটা সে ভোলে না। জন্মদিনের উপহারও পাঠিয়েছে সে, খান কয়েক বই। আর এক প্যাকেট স্পেশাল ডালমুট। হগ মার্কেটের ডালমুটের সে টেস্ট অবিশ্যি এখন নেই। তাছাড়া এ জিনিষ দিল্লীর। তবু, তোপসের পাঠানো তো। 

Sunday, January 18, 2015

রাম


রাম সেবার অনেক তপস্যা-টপস্যা করে মহাদেবকে প্রসন্ন করলেন।
মহাদেব আবির্ভূত হয়ে বললেন - "কনে আমার কাছে নেই। তবে বর চাইলে দিতে পারি। খিক খিক"।

রাম অবাক - "আজ্ঞে?"

মহাদেব - "আরে বাজে ঠাট্টা। ফ্যাশনে আসবে। একদিন আসবে। যাক গে। বর চাও ভাই"। 

রাম বললেন - "আমি আপনার শক্তির সাথে নিজের ভক্তি মিলিয়ে কিছু করতে চাই "।

মহাদেব - "বেশ। তাই হবে। আমরা দু'জনে মিলে একদিন হর্ষবর্ধন আর গোবর্ধনের গপ্প লিখবো"।

Saturday, January 17, 2015

চামচ-অমনিবাস

মারা যাওয়ার পরেই কোথাও একটা যাওয়া দরকার। লাশটা ক্যালক্যাটাতে পড়লেও নিধুবাবু প্রথমে ভাবলেন বৈঁচিতে যাবেন। বাপ-কাকার ভিটের পাশে দিব্যি বাঁশবন, সেখানে কাটাবেন কিছুদিন। তারপর ভাবলেন মধ্যমগ্রাম গেলে কেমন হয়?  মেজোপিসির শ্বশুরবাড়ি সেখানে। সেই ছেলেবেলার পর আর সেখানে যাওয়া হয়নি, পিসেমশায়দের বিশ বিঘে জমির ওপরের আম বাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যাবে। তারপর মনে হল পান্ডুয়া ব্যান্ডেল করে তো জীবনটাই কেটে গেল। ভূত হয়ে যদি সামান্য ঘোরাঘুরিই না হল তবে তেমন মারা যাওয়ার মূল্য কোথায়।

তাই তিনি সোজা চলে এলেন প্যারিসে। প্যারিসে আইফেল টাওয়ার আছে সে কথা তিনি জানতেন। ফরাসীদের কেতার জবাব নেই; তা সে খাওয়া-দাওয়া, গান-বাজনা, প্রেম-চুমু, সাহিত্য; যে ব্যাপারই হোক না কেন। এটাও অবিশ্যি তার শোনা। তাছাড়া চন্দননগরটাও তো ওদেরই হাতে গড়া শহর। জায়গাটা নিশ্চয়ই মধ্যমগ্রামের চেয়ে কম যাবে না। পছন্দমত গাছপালা ও প্রতিবেশী জুটলে সেখানে কিছুদিন থাকবেন, নয়তো হাতের পাঁচ বৈঁচি তো রইলই।

প্যারিসের ঝাঁ চকচকে একটা রাস্তার ওপর নামতেই অঘোরের সঙ্গে দেখা। অঘোর দে,  বারাসাত পোস্টঅফিসে তার সহকেরানী ছিলেন। গত পৌষের আগের পৌষে মারা যান। বাতাসে ভাসছিলেন অঘোর, সেই নিধুবাবুকে প্রথম চিনতে পারলে।

-“আরে নিধু যে, কী ব্যাপার। কবে টাসলে?”।

Friday, January 16, 2015

দুই ভাগ

"হাওড়া ব্রিজের চুড়োয় উঠুন নীচে তাকান, ঊর্ধ্বে চান - দুটোই মাত্র সম্প্রদায় নির্বোধ আর বুদ্ধিমান।" -শঙ্খ ঘোষ


পৃথিবীতে মানুষকে দুই ভাবে ভাগ করা যায়।

এক, যাদের পকেটে কলম রয়ে যায় আর কলমের ঢাকনাটা হারিয়ে যায়। দুই। যাদের কাছে কলমের ঢাকনারা রয়ে যায় আর কলমটা হারিয়ে যায়।

এক, যারা হঠাৎ বৃষ্টি ভালবাসেন আর দুই, যারা হঠাৎ বৃষ্টিকে ভালো না বাসার ভান করেন।

এক, যারা অঙ্কে ভালো আর দুই, যাদের অঙ্ককে ভালো করে চিনিয়ে দেওয়া হয়নি, স্রেফ শেখানো হয়েছে।