Thursday, January 15, 2015

চক্র

১।
-হ্যালো, কী ব্যাপার...।
-হ্যালো...সেন সাহেব...সেন সাহেব...।
-কী ব্যাপার সামন্ত, তোমার গলা এমন শোনাচ্ছে কেন?
-আগুন সেন সাহেব...আগুন...।
-আগুন? কোথায়?
-ফ্যাক্টরি জুড়ে...।
-কী বলছো...সামন্ত...কী বলছো...ফিনিশ্‌ড স্টক? নতুন মেশিনারি?
-সব শেষ সেন সাহেব। সব শেষ। এত কিছু করেও পারলাম না স্যার...পারলাম না...।
-কখন লাগলো? দমকল?
-আধ ঘণ্টা আগে, কিন্তু এতটাই ছড়িয়ে গেছে যে...আর দমকলের এখনও দেখা নেই!
-কী শুনলাম সামন্ত। আমি যে পথে বসে গেলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেল...।

২।
-বোসবাবু। হ্যালো। আমি সামন্ত।

Tuesday, January 13, 2015

কলকাতার মার্ফি


সবচেয়ে ছোট আলুর টুকরোটি পড়বে আপনার পাতের বিরিয়ানিতে।

তাড়াহুড়োর মাথায় নেওয়া ট্যাক্সিটা গোটা রাস্তা থমকে চলবে ট্রামের পিছনে।

কফি হাউসে আপনার টেবিল বাদে সমস্ত টেবিলে ওয়েটারদের নিয়মিত আনাগোনা।

গড়িয়াহাট ভরপুর টাটকা ইলিশে। খড়ের গাদা থেকে বেছে নেওয়া ছুঁচের খোঁচার মত বিস্বাদ কোল্ডস্টোরেজের পুরনো মালটি আপনার থলিতে।

Monday, January 12, 2015

জন্মদিনের কলরব


- ভাই নরেন, তোমাকে হ্যাপি বার্থডে বলতে ভুলে গেছি বলে কিছু মনে করলে?

- ধুর। আরে ও দুনিয়ার জন্মদিনের কী এই জগতে কোন মূল্য আছে ? ও নিয়ে ভেবো না।
- না মানে আমি মুখ্যুসুখ্যু চোর ছ্যাঁচোড় মানুষ ছিলাম। তুমি সাধু। ও পারে থাকলে তো তোমার ধারে কাছেই ঘেঁষতে পারতাম না। এ দুনিয়ায় এসে তুমি যে আমায় বন্ধু বানিয়েছি তাতে আমার যে কী ইয়ে...তবু তোমার জন্মদিনটা যে কী করে ভুলে মেরে দিলাম...
- ছাড়ো দেখি ওসব কথা। তামাক সেজেছি। খাবে?
- জানো তো ভাই নরেন। বেঁচে থাকতে তামাক, আফিং কিছুই বাদ দিই নি। কিন্তু এ পারে এসে ঠিক করেছি ওসব আসক্তিতে আর কাজ নেই।
- আমি কিন্তু ভাই ঢেঁকি, স্বর্গে এসেও স্বভাব পাল্টাতে পারিনি।
- ভাই নরেন, একটা কথা বল দেখি! তোমার চেহারায় একটা বেশ চকমকি ভাব দেখতে পারছি আজ। একশো তিপ্পান্ন গুনে গুনে মৌজ করছো বুঝি? অ্যাঁ?
- চকমকটা ঠিক ধরেছ গুরু। মর্ত্যের জন্মদিন উপলক্ষে আজ একটু ফুর্তি করতে ইচ্ছে হওয়ায় একটা নিয়ম ভেঙেছি। বলতে পারো, একটা বদমায়েশি করে ফেলেছি। তাই আমোদ নিচ্ছি আর কী। 
- এ-লোকের নিয়ম ভেঙ্গেছ?
- ঠিক।
- তুমি ভেঙ্গেছ?
- না হলে বলছি কেন। 
- তুমি যে দেবতুল্য নরেন! বরপুত্র। তুমি তো বাপু আমাদের মত অকালকুষ্মাণ্ড আত্মা নয়। তোমার তো একটা ইয়ে আছে গো। কী করেছ শুনি! ওয়ার্ডেন জানতে পারলে আবার গণ্ডগোল না পাকায়।

Friday, January 9, 2015

প্রফেসর ও রোবট

- এই যে, অমন জড়সড় হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে কেন অনির্বাণ? ভেতরে এসো।
- না না, আমি এখানেই ঠিক আছি।
- বোঝ। কী ব্যাপার। কোন কারণে রাগ করেছ?
- রাগ? করেছি। তবে তোমার ওপর নয়।
- আবার কার ওপর রাগ করলে বাবা অনির্বাণ। আরে শোন। আগে ভেতরে তো এসো।
- না।
- আচ্ছা এসো না। এসো। ঘরে আসলে আজই তোমার স্পাইনের লুব্রিকেটিং অয়েলটা পাল্টে দেব।
- সে তুমি অনেকদিন থেকে বলছো। দিচ্ছ না।
- আসলে পয়সাকড়ির একটু টান চলছিল কী না। সায়নেটিস্টদের নিয়মিত আয় আর কত বলো। আর রোবট বানানো সহজ, কিন্তু পোষা যে হাতির চেয়েও বেশি ডিফিকাল্ট। তোমার চেয়ে ভালো আর তা কে জানবে। এসো অনির্বাণ ভেতরে এসো। এসো। এসে দ্যাখ দেখি, তোমার সেন্সর কী বলছে আমার এই নতুন কাজগুলোর ব্যাপারে। এই তো। এসো। গুড বয়।
- তুমি এত জোর করলে তাই এলাম।
- আচ্ছা, কার ওপর এত রাগ তোমার অনির্বাণ?
- তুমি ছাড়া আর কে আছে এখানে যার ওপর রাগ করা যায়?
- অনিন্দ্য? অনিন্দ্যর ওপর রাগ করেছে।
- সে হারামজাদার নাম নিও না আমার সামনে।
- ছিঃ, ভকাবুলারি অ্যাবসর্ব করেছ গোটাটা তা ভালো কথা, কিন্তু তা বলে ভাষার এমন কদর্য  ব্যাবহার?

Wednesday, January 7, 2015

খিস্তি বিন্যাস

খিস্তি বালিতে বাদাম ভাজা নয়। চড়াত করে কেলটে কড়াইয়ের বালিতে ঢেলে দু’-পাঁচ মিনিট নেড়ে ডাঙায় তুলে নিলেই হল। খিস্তিকে খেলাতে হবে। নুনে হলুদে মেখে ফেলে রাখতে হবে এক বেলা। তারপর ডুবো তেলে নরম আঁচে ফেলে খিস্তির রঙ রাঙা করে আনা। ঝাঁঝরির আলতো চাপে খেলিয়ে চলা, তারপর ডাগর হলে গরম গরম পাতে তুলে আনা। খিস্তি পাখি নয় ঘুড়ি, সে নিজে থেকে ডানা মেলে না; সে অন্যের সুতোর টানে ল্যাজ বাগিয়ে ওড়ে। তাকে ওড়াতে জানতে হয়। খিস্তিকে অশ্লীল হতে হবেই এ দিব্য দেবে মধ্যমরা (অধম তারা যারা খিস্তিতে বিশ্বাস রাখেন না)। উত্তমরা খেলবেন পরতে পরতে এবং তারাই খিস্তিকে নিয়ে যাবেন – “টু দ্য টপ, টু দ্য টপ, টু দ্য টপ”। 

যথা?

বলি।

স্টুপিড নয়।
ইস্টুপিড। ইস্টুপিড নয়। ইস্টুপিডের দল। ইস্টুপিডের দল নয়। ইস্টুপিডের দলের হোতা। ইস্টুপিডের দলের হোতা নয়। ইস্টুপিডের দলের হোতার মাথার উকুন। ইস্টুপিডের দলের হোতার মাথার উকুন নয়। ইস্টুপিডের দলের হোতার মাথার উকুনের গায়ের গন্ধ। ইস্টুপিডের দলের হোতার মাথার উকুনের গায়ের গন্ধ নয়। ইস্টুপিডের দলের হোতার মাথার উকুনের গায়ের বোটকা মানুষ মারা গন্ধ।