Tuesday, December 16, 2014

অজিতবাবুর দুপুর



অজিতবাবু নিয়মিত গঙ্গার এ ধারটায় এসে দাঁড়ান। প্রতিদিন অন্তত ঘণ্টা খানেক। বসেন না। দাঁড়িয়ে থাকেন। মাথায় রোদ থাকুক না থাকুক, ছাতাটি মেলা থাকে। লোক-চক্ষুর ধার রোদের চেয়ে তো কম নয়। অজিতবাবু নিজের মধ্যে গুটিয়ে আসেন।

Monday, December 15, 2014

মাদুলি

-   আসুন আসুন অমলবাবু। বসুন।
-   নমস্কার স্পীকার সাহেব। ইয়ে, হাউস কিছুক্ষণের মধ্যেই তো...
-   শুরু হতে চলেছে। ইয়েস।
-   না মানে। নিতাইদা বললেন আপনি আমায় ডেকেছেন। তাই আর কী...
-   নতুন এমএলএ’দের বিধানসভায় হাতেখড়ির আগে স্পীকারের সঙ্গে একান্তে দেখা করাটা আড়াইশো বছরের ট্র্যাডিশন অমলবাবু।

Friday, December 12, 2014

গান ও রাত



গান এমন ভাবে কানে এসে পড়বে যেন ধোঁয়া ওঠা ধবধবে সাদা ভাতের ঢিপির বুকে টপটপ করে পড়া গলা মাখনের ফোঁটা। রাত জমাট বেঁধে আসবে। আধো জেগে থাকা ছলছলে স্বপ্নের জেলির মত বুকে ছড়িয়ে যাবে।

Wednesday, December 10, 2014

প্রেমালাপ

-আজকে আমার তোকে প্রোপোজ করার কথা।

-তাহলে ভাবছিস কী। করে ফেল।

-ওকে। প্লীজ তুই ডায়েট আর সেদ্ধ-সেদ্ধ আহাম্মকি ছেড়ে সর্ষের তেলে শিফ্ট‌ কর।


***

-কাল তুমি আমার সঙ্গে দেখা করবে?

-তোমার মত একটা বেকার ছেলে ডাকলেই আমি ড্যাং ড্যাং করে চলে আসবো?

-কাল বুঝি তোমার নাসায় রকেট পালিশ করার দিন?

Monday, December 8, 2014

ইতিহাস

সমুদ্রের ঠাণ্ডা হাওয়া মন্দ্ররাচের মুখে ঝাঁপটা মেরে যাচ্ছিল বারবার। হাওয়ায় হালকা শীতের মিশেল। আলোয়ানটা ভালো করে গায়ের সঙ্গে লেপটে নিলেন তিনি। ঢেউয়ের দাপট দেখে ঠাহর করলেন যে জোয়ার এসেছে। সূর্য উঠতে আর ঘণ্টাখানেকের বেশি দেরি নেই তবে। তবে এখনও চারপাশে চাপ চাপ অন্ধকার। ঢেউয়ের ফেনার সফেদ ছাড়া আর নজরে কিছুই পড়ে না। দুশ্চিন্তা সামান্য ছিলই মন্দ্ররাচের মনে। সকলের এতক্ষণে চলে আসার কথা ছিল। কিন্তু কেউই আসেনি। তবে কি পরিকল্পনা মুলতুবি হল?মেঘ-কালো নিকষ আকাশের দিকে চেয়ে আকাশ-কুসুম ভাবনায় ঋজু হয়ে আসছিলেন মন্দ্ররাচ।

“মন্দ্র,কতক্ষণ হল এসেছো? দুঃখিত, আমার দেরী হল। আসলে রাস্তার যা অবস্থা তা তো জানোই” হম্মদ্ম’র ডাকে সম্বিত ফিরে পেলেন মন্দ্ররাচ, আলিঙ্গন করলেন তাকে। দু’জনে মিলে ঢেউ বাঁচিয়ে বালির ওপর বসলেন।

“কী যে বলবো, ঠাহর করতে পারছি না হে হম্মদ্ম। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে হয়তো ভুল করছি। যার যন্ত্র ঘিরে এতসব পরিকল্পনা, সেই উটননি ব্যাটারই সন্দেহ দূর হচ্ছে না”, ঢেউয়ের দাপুটে শব্দ ছাপিয়ে মন্দ্রারাচের দীর্ঘশ্বাস হম্মদ্মের কানে এলো।

“উটননির বয়স অল্প, তিরিশও নয় বোধ হয়, আমাদের মত চল্লিশে ভোঁতা হওয়া তেতো বয়স নয় ওর”, নম্র বিষণ্ণতা কে আড়াল করার চেষ্টায় হাসলেন হম্মদ্ম, “তার মাথায় বিস্তর চিন্তা আসবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। তা ছাড়া, সে পরম জ্ঞানীও বটে। তবে অর্জিত জ্ঞানের পরিধি মানুষকে অজ্ঞানতার মতই কখনও কখনও তীব্র ভাবে বেঁধে ফেলতে পারে মন্দ্র”।