- বাবা সত্যেন, একটু আমার কেসটা...
- মধুময়বাবু, শুনুন। আপনি না হয় রিটায়ার করেছেন- ঝাড়া হাত পা।
কিন্তু আমাদের তো আর গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ালে চলে না। অফিসে মাথার ঘাম পায়ে
ফেলে কাজ করতে হচ্ছে...আপনি যদি দুদিন অন্তর এসে এমন ঘ্যানঘ্যান করেন, তাহলেই তো মুশকিল...
- আসলে বাবা, আমার পেনসনের টাকাটা গত দু মাস ব্যাঙ্কে আসেনি...
- শুনুন, কোম্পানি থেকে হাজার গণ্ডা পেমেন্ট রোজ ব্যাঙ্কে
যাচ্ছে। দু একটা শালটিং কেস থাকেই। আজ গণ্ডগোল কাল ম্যানেজ। কাল না হলে পরশু।
কিন্তু আপনি মাইরি এমন হুজ্জুতি করছেন যেন আপনার কাছা খুলে গেছে। দু মাস না হয়ে
পেনসন পাননি। পেয়ে যাবেন। কোম্পানি কি আপনার টাকা মেরে দেবে নাকি ? আর আপনার ছেলে তো বড় অফিসার। এত গলা শুকনো কেন আপনার মশাই ?
- এই কোম্পানিতে ঊনচল্লিশ বছর কাজ করেছি বাবা। সিক্সটি সেভেনে যখন জয়েন করি তখন
এই নয় তলা বাড়ি ছিল না। দু কামরার ছোট্ট সওদাগরী আপিস ছিল। ঘাম, রক্ত সমস্তই দিয়েছি। আমি হুজ্জুতি করতে আসিনি।
- আলবাত করছেন হুজ্জুতি। বড় সায়েবের কানে লাগাননি আপনার পেনশনের কথা ? যতসব। এবার আসুন দেখি। আপনার মত চিজ কত দেখলাম।
- সত্যেন, তোমায় আমি হাতে ধরে কাজ শিখিয়েছি...আর তুমি...
- বাদ দিন মশাই, ধান্দা ছাড়া কেউ কিছু করে না। আসুন দেখি এবারে
মধুময়বাবু। অনেক কাজ রয়েছে।