Saturday, September 6, 2014

বিনোদবাবুর প্ল্যান


বিনোদবাবুর মোবাইলে ব্যাঙ্ক থেকে এস – এম – এস এলো ঠিক বিকেল চারটেয়। একলাখ তিরিশ হাজার ক্রেডিট হয়ে গেছে। প্রভিডেন্ড ফান্ড থেকে টাকা তোলার রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিলেন একসপ্তাহ আগে; প্রসেস হয়ে ব্যাঙ্কে এলো আজ। ক্যানিংয়ের দেড় কাঠা জমি বেচা দুলাখ টাকা আগেই ঢুকে গেছে।
ডালহৌসির পাশে অকল্যান্ড রোডের কোনের এক সরকারি অফিসের জুনিয়র ক্লার্ক বিনোদবাবু; এত টাকা এক সাথে আগে কখনও দেখেননি তিনি। গলা শুকিয়ে আসছিল। আনন্দে। ঘরে রয়েছে কড়কড়ে আরও চুয়াত্তর হাজার টাকা; ক্যাশ; দেরাজে। মায়ের শেষ স্মৃতিটুকু হাওয়া; কেয়ার অফ কর্মকার জুয়েলারি।
***
- ব্রেজিল? বলেন কি মশায়?
- আমি অবিশ্যি ব্রাজিলই বলি
- না মানে রে নিজেতো...
- রে নয় রায়।
- যাকগে, স্ট্রেট টু সাও পাওলো ? আপনার ট্যাঁকের জোর আছে মশাই। যদিও আপনাকে দেখে ঠিক তেমন মনে হয় না। নয়তো এই ভর-দুপুরে মিনিবাসে...
- ঠিকই ধরেছেন। ট্যাঁকের জোর নেই। সখের জোর আছে। প্যাশন আছে।
- নিজে খেলতেন নাকি কখনও ?
- মেদিনীপুরকে রিপ্রেজেন্ট করেছি।
- ট্যুর প্ল্যান কিরকম ?
- নয় দিন থাকা।
- নয় দিন?
- অ্যাট রামকৃষ্ণ মিশন। কন্ট্যাক্ট ছিল। মিনিমাল খাওয়া - দাওয়া। ডর্মিটরিতে থাকা। ফ্রিতে। এক প্রতিবেশীর বেলুড় মঠে একটু ইয়ে আছে। তিনি ম্যানেজ করে দিয়েছেন। আমার খরচ বলতে প্লেনের টিকিট আর ম্যাচের টিকিট। যদিও সামান্য গ্রুপ ম্যাচ। তাও হোম-টিমের নয়। তবু বেজায় খরচ। আমার সমস্ত সেভিংস্ই... নেহাত সংসারে একলা মানুষ...

Monday, September 1, 2014

রবীন্দ্রনাথের কাণ্ডকারখানা

১।
ট্রেনের জানালার বাইরে উদাস হয়ে তাকিয়ে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ফুরফুরে বসন্তের হাওয়া। আহা। মনে কেমন করে ওঠে গো। কিন্তু এই ভালো লাগার মধ্যেই আচমকা দাড়িতে অস্বস্তিকর চুলকানি শুরু হল; ট্রেনের জানালার পাশে বসবার এই এক ঝামেলা। এত কয়লা মাখা ধুলো ওড়ে; যাচ্ছেতাই এক্কেবারে। এদিকে আজিমগঞ্জ ঢুকতে এখনও আধ ঘণ্টাজল সাবান দিয়ে ভালো করে মুখ না ধোয়া পর্যন্ত সোয়াস্তি নেই। গুনগুন করে একটা চলতি গানের কলি ভেজে নিজের মনকে নিজের দাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলেন রবীন্দ্রনাথ।

২।
-   “ আমি কোথায় ?”
-   “ বোলপুরে”
-   “ কিন্তু আজিমগঞ্জ যাচ্ছিলাম যে...”
-   “ আমাদের ভারি ইচ্ছে হল তোমায়  এখানে রেখে দুদিন একটু সেবা যত্ন করি”

Tuesday, August 26, 2014

বটু গোয়েন্দা ও দুর্গা

-   তুই বটু ? বটু গোয়েন্দা ?

-   আ...আ...আ...

-   কি আ্‌ আ করছিস র‍্যা? চিনতে পারছিস না নাকি ?

-   আ...আ...আ...

-   কি রে? অমন করছিস কেন? মৃগীতে ধরেছে নাকি ?

-   আ...আ...আপনি দেবী দুউউউউউউউউ...

-   দুয়ো দুয়ো। দুউউউউ কি করছিস...হ্যাঁ রে হ্যাঁ আমিই দুর্গা...

-   দশভুউউউউউউ...

-   অহ...যত বাড়াবাড়ি তোদের। হ্যাঁ হ্যাঁ। দশভুজা। এই দশ খানা হাত ড্যাং ড্যাং করে তোর সামনে নাচাচ্ছি...তাতেও বিশ্বাস হচ্ছে না ?

ভীষ্ম

-   বিনোদবাবু ?

-   কে ? নির্মল নাকি ?

-   আজ্ঞে।

-   এসো। ভিতরে এসো। বাইরে দাঁড়িয়ে কেন ? ভিতরে এসো।

-   সাড়ে আটটা বাজে বিনোদবাবু।

-   ও। তাইতো। আমার ব্যাপারটা কখন যেন ?

-   নটা বেজে বত্রিশ মিনিটে।

-   না না। দেরি হয়নি তাহলে। স্নান-টান সেরে রেডি হয়ে বসেছি।

-   না না। তাড়াহুড়ো নেই।

-   তা নেই। ছাদে কেমন ডালিয়া হয়েছে এবার দেখেছ তো ? দেখো। মাঝে মাঝে এসে দেখে যেও।

-   আজ্ঞে।

-   আর বাগানে ক্রিসেন্থিমাম লাগিয়েছিলাম, বিধু মালী কে বল যাতে ফাঁকি না দেয়। যত্নআত্তি করে।

-   আজ্ঞে

-   মিলু এসেছে ?

-   উনি গাড়িতে রয়েছেন।

-   বেচারাকে আজ অফিস কামাই করে কি ঝক্কিই না পোয়াতে হল। ভীষ্মর নাম শুনেছ বাবা নির্মল ?

Sunday, August 10, 2014

বিনয়বাবুরা

বিনয়বাবু জানালা খুলতেই ঘাবড়ে গেলেন। জানালা ঘেঁষে গলি, আর গলির ওপারেই নিমুর চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে যে ভদ্রলোক গাল চুলকচ্ছেন সে যে বিনয়বাবু নিজে।

অথচ বিনয়বাবু নিজেই নিজের বাড়ির জানালা খুলেছেন, যে জানালা গলির এক দিকে আর নিমুর চায়ের দোকান যার ঠিক উল্টো দিকে। মাথা বিগড়ে গেল বিনয়বাবুর। সকাল সকাল এ কেমন বেয়াড়া ব্যাপার।

মাথা গরম হলে বিনয়বাবুর হিতাহিত জ্ঞান থাকে না, এ বদনাম তার পাড়া জুড়ে। নিজের পায়ের থেকে এক পাটি হাওয়াই চটি খুলে সোজা ছুঁড়ে মারলেন গলির উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা তার নিজের দিকে। কিন্তু বিনয়বাবু কিছু টের পাওয়ার আগেই নিমুর চায়ের দোকানের দিক থেকে একটা হাওয়াই চটি উড়ে এসে; বিনয়বাবুর ঘরের জানালার শিক দিয়ে গলে; সোজা বিনয়বাবুর গালে সপাটে এসে পড়ল।