Sunday, August 10, 2014

বিনয়বাবুরা

বিনয়বাবু জানালা খুলতেই ঘাবড়ে গেলেন। জানালা ঘেঁষে গলি, আর গলির ওপারেই নিমুর চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে যে ভদ্রলোক গাল চুলকচ্ছেন সে যে বিনয়বাবু নিজে।

অথচ বিনয়বাবু নিজেই নিজের বাড়ির জানালা খুলেছেন, যে জানালা গলির এক দিকে আর নিমুর চায়ের দোকান যার ঠিক উল্টো দিকে। মাথা বিগড়ে গেল বিনয়বাবুর। সকাল সকাল এ কেমন বেয়াড়া ব্যাপার।

মাথা গরম হলে বিনয়বাবুর হিতাহিত জ্ঞান থাকে না, এ বদনাম তার পাড়া জুড়ে। নিজের পায়ের থেকে এক পাটি হাওয়াই চটি খুলে সোজা ছুঁড়ে মারলেন গলির উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা তার নিজের দিকে। কিন্তু বিনয়বাবু কিছু টের পাওয়ার আগেই নিমুর চায়ের দোকানের দিক থেকে একটা হাওয়াই চটি উড়ে এসে; বিনয়বাবুর ঘরের জানালার শিক দিয়ে গলে; সোজা বিনয়বাবুর গালে সপাটে এসে পড়ল।

তুকতাক

ট্রিগার টিপলেন অনিল। সঙ্গে সঙ্গে মেঘলার বুক থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত।
-   যন্ত্রণা হচ্ছে মেঘলা ?
-   সোজা লাংসে এ মনে হচ্ছে। অমানুষিক যন্ত্রণা। রিভলভারে টিপ তোমার এমন শার্প তা তো আগে জানতাম না অনিল ?
-   তলে তলে তুমি যে বিপিনের সঙ্গে এতটা এগিয়ে গেছিলে সেটাও তো এর আগে জানতে পারিনি।
-   যাক। শোধ বোধ তাহলে।
-   ভীষণ ছটফট করছ।
-   মনে হচ্ছে বুক ফেটে যাচ্ছে।
-   ফর এ চেঞ্জ, কথাটা ফিগার অফ স্পিচ নয়। তোমার বুক ফেটে সত্যিই রক্ত ঝরছে। ফিনকি দিয়ে।
-   কমলার মা আট’টা রুটি করে গেছিল। সয়াবিনের তরকারি সাথে। আমার তিনটে রুটি নষ্ট হল। তোমার জন্যে।
-   আমার জীবনের তিনটে বছর তুমি নষ্ট করেছ।
-   যাক। শোধবোধ হল তাহলে।
-   কতক্ষণ আর টানতে পারবে বলে মনে হচ্ছে মেঘলা ?
-   দম আটকে আসছে। নট মোর দ্যান ফাইভ-টেন মিনিট্‌স আই সাপোস।

Wednesday, August 6, 2014

রোদ্দুর রায়




রোদ্দুর রায় ? তুমি ভাবতে পারো ?

-   এত চটছো কেন ?

-   তোমার বিশেষ কিছু এসে না যেতে পারে। আমার যায়।

-   সে তো তোমার বাড়ি বয়ে এসে তোমায় গালাগাল দিয়ে যায়নি।

-   গাল দিলে পাত্তা দিতাম না গো। ভূতের আবার গালাগালে আপত্তি কিসে। মুখ ভেংচে দিলেই ঝামেলা চুকে যেত। কিন্তু এমন ভাবে সঙ্গীত কে কচুকাটা করা...অপরাধ নয় ?

-   সে বেচারা মনের সুখে প্রাণ খুলে গান গাইছে, নিজের গান অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে। বিশ্বভারতীর মত ব্যবসা ফাঁদছে না। লোকে নিশ্চিন্তে পারে তার গান না শুনে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে। তাতে কার পাকা ধানে মই পড়ে শুনি ? আর আমি তুমি তো ভূত। পৃথিবীতে তে কে কী করছে তা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা কেন ?

Tuesday, August 5, 2014

আমির আমি

“দেশের আমি। দশের আমি। তোমার আমি। । ছোটমামার আমি। ফজলির আমি। ছাতার বাঁটের খোঁচার আমি। আলু পোস্ত ঢেঁকুরের আমি। ফুটবল গ্যালারির বুক ভরা খিস্তির আমি।
আমি যে কি মনোরম। আমার পাসপোর্ট সাইজ ছবি ল্যামিনেট করে নিজের মানিব্যাগে আমার রাখা উচিৎ।
আমার হাসি আমার পেটের মেদ ঢেকে দেয়। আমার লুচি আদরের ক্ষমতা আমার বানান ভুলের হিসেব চুকিয়ে দেয়। আমি সুপার। আমি আমার বিছানার প্রধান মন্ত্রী, আমার সোফার ফাটা কেষ্ট, আমার ব্যালকনির হাওলা কেলেঙ্কারি। আমি নিজের থুঁতনি ছুঁয়ে বলছি; এমন সেকেন্ড পিস কহি নেহি”  

 এমন সব চমৎকার ভাবনা আর এক কাপ চায়ের মাখোমাখো মিলন ঘটবে এমন সময় মদনা এলে পূজোর চাঁদা চাইতে। সে বললে ‘পাঁচশো’ আমি বললাম ‘পঁচাত্তর’। আমি বললাম ‘প্লিজ স্যার’, মদনা বললে ‘ঢ্যামনা ব্যাটাছেলে’। আমি বললাম ‘একটু কনসিডার করুন স্যার,মাগ্যির বাজার’ মদনা বললে ‘প্যান্ট খুলে দেব ভাট বকলে’।

প্যান্ট খোলার কথায় মেজাজ সড়কে গেল। ভীষণ রেগে গেলাম। আগুন।বিস্ফোরণ। সটাং করে একটা পাঁচশো কা নোট মদনার হাতে দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। মদনা মুখে বললে ‘আসছি’! আমি মনে মনে বললাম ‘হারামজাদা’।

নব্বুই সেকেন্ডের মধ্যে নিজের ওপর কনফিডেন্স চটকে গেল। মালুম হল; আমি দেশের নই, আমি বারোয়ারীর। আমি দশের নই, আমি পার্টির। স্পষ্ট বুঝতে পারলাম গাওয়া ঘিয়ে ভাজা ময়দার সফেদ মায়াবী লুচি আমার জন্যে নয়, সর্ষের তেলে ভাজা আটার লালচে মোটা পুরি গিলবার মাল আমি। ঘেন্না ধরে গেল জীবনের ওপর।

Wednesday, July 30, 2014

টেকনোলজিক

-   টেকনোলজির নিরিখে; ভাবতে পারছেন মশাই ঠিক কোন জায়গায় আমরা পৌঁছে গেছি ? এই যে হাতের তালুতে মোবাইল। তাতে সম্পূর্ণ মহাজগৎ লুকিয়ে আছে। ভাইব্রেশনটা ফিল করুন গুপ্তবাবু। ফিল করুন।
-   ফিল করবো ?
-   আলবাত করবেন। এই বারুইপুরে বসে আপনি জেনে নিতে পারেন প্যারিসের বাজারে টমেটোর কি দাম চলছে। কিনসাসায় কাল দু এক পশলা নেমেছিল কি না। বাদুরের ঝোলের রেসিপি।
-   বেশ চমৎকার।
-   শুধু চমৎকার ? অভাবনীয় বলুন মশায়।
-   না অভাবনীয় ঠিক বলতে পারছি না।
-   বটে ? এর চেয়ে তাবড় টেকনোলজি কিছু আপনি ব্যবহার করেছেন ? হ্যাঁ ?
-   নিশ্চয়ই করেছি। নয়তো বলছি কেন! জ্যৈষ্ঠের গরমে, ভেজা গামছায় গা মুছে, মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে শুয়ে থাকার টেকনোলজি। ট্রাই করেছেন না কি ?
-   হোয়াট দ্য...
-   ফ্যাক্ট। ইট ইজ। হাজার এয়ার কন্ডিশনার কচলে যাবে সে শান্তির কাছে। বুঝলেন ?

**
-   আচ্ছা গুপ্তবাবু, স্পেস-ট্র্যাভেল সম্বন্ধে আপনার কি ওপিনিয়ন? মানে এই যে এতো স্পেসক্র্যাফট...
-   মহাকাশ ভ্রমণ...হুম...
-   ম্যাগনিচিউড টা বুঝুন। আজ পৌঁছে যাচ্ছি মঙ্গলে। কাল হয়তো অন্য কেন গ্যালাক্সি। পরশু হয়তো...
-   আরে মশাই স্পেসক্র্যাফট বাদ দিন। সকালের টুয়েল্ভ সি বাই ওয়ান ধরে শিয়ালদা যেতেই স্পাইন টস্‌কে যাচ্ছে। সোজা হিসেব। প্লুটোয় বারোয়ারী দুর্গাপুজো করার চেয়ে বেশি কঠিন হচ্ছে অফিস টাইমে রানিং বাস ধরে জানালার ধারে সিট পাওয়া। এন্ড অফ ডিসকাশন।

**
-   বুঝলেন গুপ্তবাবু, মেডিকেল সায়েন্স যে ভাবে প্রোগ্রেস করছে...অভাবনীয়
-   টোটালি এগ্রি করছি। স্ট্রবেরী ফ্লেভারের ইসবগুল, ক্যান ইউ ইম্যাজিন ?