দুর্গাপুরে যে পাড়ায় আমাদের বাড়ি, সে পাড়ার এক কোনে ছোট্ট বাজার। বাজারের
কোনে ছোট্ট ভাত-রুটির হোটেল। উমা-আহার-সেন্টার।
মালিক উমাপদ সমাদ্দার। পিছনে রান্নাঘর। সামনের চত্বরে পাঁচটা পুরনো কাঠের টেবিল আর
খান কুড়ি চেয়ার। দোকানের সামনে মেনু-বোর্ড টাঙানো। আর দেওয়ালে টাঙানো সেই মেনু-বোর্ড
আর মা তাঁরা ফার্নিচারের ক্যালেন্ডারের নিচে ভাব-গম্ভীর মুখে বসে থাকেন উমাপদবাবু।
তাঁর সামনের টেবিলে হিসেবের খাতা আর মৌরির বাটি। উমা-আহার-সেন্টারে সকালের জলখাবার
পাওয়া যায়; লুচি-তরকারি বা কচুরি-ডাল। পাওয়া যায় দুপুরের ও রাতের ভাত-মাছ-ডিম বা
মুর্গির মাংস (পাঁঠার ঝোল পাওয়া যায় শনিবার রাত্রি ও রবিবার দুপুরে)। এ ছাড়া
রাত্তিরে পাওয়া যায় রুটি ও ডিম বা প্লেন তড়কা (ঝাল, কম ঝাল, নো-ঝাল; তিন রকমের
তড়কা মশলা পাওয়া যায়)। ওমলেট-টমলেটও পাওয়া যায়। এ হোটেলের কচুরি, মাছের ডিমের বড়া,
ডিমের ঝোল আর তড়কার বিশেষ সুখ্যাতি রয়েছে। উমাপদবাবুর ছেলে মিন্টু বাপকে বহুদিন ধরে বলে
চলেছে সন্ধেবেলা এগরোল-চাউমিনের ব্যবস্থা রাখতে; কিন্তু উমাপদ রাজি হচ্ছেন না নতুন
‘প্রোডাক্ট’ চালু করবার ঝুঁকি নিতে।
Tuesday, April 15, 2014
Sunday, April 13, 2014
ফাদার্স অ্যান্ড সান্স
- স্যার আসবো ?
- আসুন।
- আজ্ঞে আমি সামন্ত। ভজহরি সামন্ত। ঢাকুরিয়া থেকে আসছি। ওই গতকাল কথা হয়েছিল।
- ও, হ্যাভ আ সিট।
- থ্যাঙ্ক ইউ স্যার। ওই স্ক্র্যাপ’য়ের ব্যাপারে…
- জাস্ট গিভ মি আ মিনিট। একটা আর্জেন্ট মেইল সেন্ড করে নি।…………………………………………...হুম, এই বার বলুন।
- আজ্ঞে আমি সামন্ত। ভজহরি…
- বললেন তো।কাজের কথায় আসুন।
- আপনাদের লোহার স্ক্র্যাপ প্রচুর জেনারেট হয় শুনলাম।
- লোহা নয়। সোনা।
- আজ্ঞে ?
- ওয়েল, আই মিন আমাদের যে আয়রন ওয়েস্ট জেনারেট হয়, রোলিং মিল্সগুলোর কাছে সেগুলো সোনার সমান।
- হে হে, বটেই তো স্যার। সান্যাল সাহেবও তাই কথাই বললে।
- সান্যাল আপনাকে পাঠিয়েছে ?
- আজ্ঞে। উনি বুঝি আপনাকে বলেননি কিছু ?
- বলছিল বটে কিছু একটা আমাদের সাঁতরাগাছির ফ্যাক্টরির ব্যাপারে। এনিওয়েজ বলুন আপনার এখানে আসার অবজেক্টিভ। সিগারেট চলে ?
- হে হে হে। সো কাইন্ড অফ ইউ।
- আসুন।
- ওই সাঁতরাগাছির ফ্যাক্টরির স্ক্র্যাপের ব্যাপারে ইন্টারেস্ট নিয়ে এসেছিলাম। সান্যাল সাহেব বললেন যে আপনিই ডিসিশন-মেকার।
- আদৌ নয়। আমি স্টোর আর পারচেজ সামলাই বটে, তবে আমারও ওপরওয়ালা রয়েছেন।
Thursday, April 3, 2014
মাছের বাজার
বাজারের মুখে এসে
রিক্সা থামতে কালোকইবাবু আনন্দবাজারটা মুড়ে পাঞ্জাবির ঝোলা পকেটে গুঁজলেন। ছপাত
শব্দে আনাজ বাজারের ঘোলা জল ঠেলে এগিয়ে গেলেন আমিষ বাজারের দিকে। শাক-পাতি পরে
কিনলেও হবে, কিন্তু বেলা বেড়েছে কি টাটকা মানুষজন সব হাওয়া হয়ে যাবে। গিন্নী
এদিকে আবার কচি মানুষের মাথা দিয়ে আজ ঘিলু-চচ্চড়ি রাঁধবেন, খোকা বড়-খাল থেকে
ফিরছে আজ গরমের ছুটিতে।
হুড়মুড় করে এগিয়ে
যাবেন এমন সময় ছলবাত শব্দে ধাক্কা বিধুকাতলা বাবুর সঙ্গে।
-“ সামলে কালোকইবাবু, সামলে। আমার এমন
ধ্যাপস চেহারাটি চোখ এড়ায় কি করে মশায় ?”, এক গাল হেসে বললেন
বিধুকাতলা।
-“ ইয়ে, মানে দেরি হয়ে গেল
কিনা। বেলা বাড়লেই তো আবার সেই অন্ধ্র থেকে চালান আসা মরে সাদা হয়ে যাওয়া মানুষ কিনতে হবে। টেস্ট নেই, কেরোসিনের গন্ধ। দাম
দু পয়সা বেশি দেব কিন্তু বাঙালি কচি খোকামানুষ ছাড়া রবিবারের পাতে পোষায় না”
-“ তা যা বলেছেন। তবে
মাগ্যির বাজারে, রোজ রোজ বাঙালি খেতে হলে যে ব্যাঙ্ক ব্যাল্যান্স লাটে উঠবে মশায়
মৃদুলবাবু এবং আলু-সেদ্ধ
মৃদুলবাবুর একটা জবরদস্ত চাকরি নেই; কাজ বলতে বড়বাজারের এক মাড়োয়ারি গদিতে খাতা সামলানো।
কিন্তু তাঁর রাতের
খাবারের স্টিলের থালাটির কোনায় এক খাবলা চন্দ্রমুখী আলু-সেদ্ধ রয়েছে।
মৃদুলবাবুর আর সংসার করা
হয়ে উঠলো না। বয়স প্রায় পঞ্চাশ, নতুন করে কিছু হবে- সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায়।
বাপ-মা বহু আগেই গত হয়েছেন, সময়মত উঠে-পড়ে তাঁর বিয়ে দেওয়ার জন্যে তেমন কেউ ছিলেননা।
তবে তাঁর পাতের কোণে
রাখা আলু-সেদ্ধর ড্যালাখানা অতি মিহি ভাবে যত্নে চটকে মাখা।
পার্টির কাজ
- “ পার্টির কাজ ? খুব পারবো বিনুদা। আমি খুব খাটবো, দেখো। কিন্তু চাকরিটা হবে তো ?”
- “ ডিগ্রী দিয়ে তো কিস্যু করতে পারলি না, পার্টিকে ভরসা করে দেখ”
২।
- “ জান লড়িয়ে দেব বিনুদা। দরকার হলে পাড়ায় প্রত্যেককে জনে জনে বোঝাব। আমাদের পলিসির কথা, আমাদের লক্ষ্যের কথা। কিন্তু ভোট এদিক ওদিক হতে দেব না। তুমি দেখো”
- “ মুখের ভাষা সকলে বোঝেনা নীলয়। প্রয়োজনে…”
- “ কিন্তু আইডোলজির কথা যদি…”
- “ পেটের কথা ভাব। তোর মা’র ক্যানসারের কথা ভাব। আইডোলজিতে পেট ভরে না ক্যানসার সারে?”
Subscribe to:
Posts (Atom)