Friday, January 10, 2014

মিতার মৃত্যু

(oKolkata থেকে cross-posted)

শনিবার, সন্ধ্যে ৮ বেজে ৩০ মিনিট

পরমা ফেনায় ভেসে যাচ্ছিল। বাথ টাবটাকে একটা সুরাপাত্র মনে হচ্ছিল। অবাক লাগে ভাবতে। কোথায় তার ছোটবেলার স্যাঁতস্যাঁতে কসবার বাড়ির অন্ধকার বাথরুমের এলুমিনিয়ামের মগ আর শ্যাওলা মাখা চৌবাচ্চা। আর কোথায় অর্ণবের এই তিন হাজার স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাটের পেল্লায় বাথরুম এবং সেই বাথরুমের কোনে সুসজ্জিত বাথ টাবের পাশে রাখা ওয়াইন গ্লাসে তার চুমুকের লিপস্টিক।    


আরও পাঁচ মিনিট আগে

দীপক কিছু বুঝে উঠবার আগেই মিতা বন্দুকের নলটা নিজের মুখে ঢুকিয়ে ট্রিগার টেনে দিলে। মিতা যে সোফায় বসেছিল তার পিছনের দেওয়ালে রক্ত আর ঘিলুর ছিটে লেগে একাকার।

বিলু, বাবা ও মা

(হ-য-ব-র-ল থেকে Cross Posted)

বাবাঃ বিলু ব্যাটা দিন দিন গোল্লায় যাচ্ছে। যখন দেখি, তখনই ক্রিকেট ব্যাট হাতে ধেই ধেই করছে। তাও যদি বুঝতাম দ্রাবিড়ের মতো টেকনিক ডেভেলপ করছে। পাঁড় আনাড়ির মতো ক্রস ব্যাটে খেলে। এদিকে পড়াশোনাও জলাঞ্জলি। ক্লাস সেভেনের অঙ্কে আর ফিজিক্সে ভদ্রলোকে ফেল করে? ব্যাটাকে এ্যারেস্ট করা উচিত। 

মাঃ কত করে বললাম, অঙ্কে একটা টিউশানিতে হবে না। বিপিনদার ছেলের তিনটে অঙ্ক মাস্টার ঘরে পড়িয়ে যান। একজন জ্যামিতি, একজন বীজগণিত, একজন পাটিগণিত। আমার কথা শুনলে না। বললে ছেলের ব্রেনে প্রেশার পড়বে। এখন সামলাও ঠ্যালা। দিদির ছেলে অঙ্কে মিনিমাম নব্বই পায় প্রত্যেকবার। আর আমার ছেলে... ছিঃ! লজ্জা! 

বাবাঃ ঠিক বলেছ। ব্যাটার পাড়ার পুজোয় নাটক করা আমি ঘুচোচ্ছি। এইসা প্যাঁদানি দেবো না...

নব্য বঙ্গ প্রেম

(ওমনিস্কোপ থেকে cross-posted)
রাত পৌনে এগারোটা বাজতেই বেবুলদা বৌদিকে ঘরে টেনে নিয়ে দরজায় খিল।

- “একটা সারপ্রাইজ আছে সোনা”

বৌদি তো অবাক, “এই রাত্রে আবার কিসের সারপ্রাইজ ?”

বেবুলদা মিউ মিউ করে কইলে, “ একটা, মস্ত ব্যাপার বয়ে এনেছি”

- “কী গো? লিলুয়া থেকে মেজপিসি বড়ি পাঠিয়েছে নাকি গো?”, বৌদি উত্‍সুক।

- “দ্যুত, একটা রোমান্টিক ইয়ে তৈরি করছি, আর কোথা থেকে নিয়ে এলে লিলুয়া আর বড়ি

পৃথিবী সৃষ্টির মুলকথা ও বাঙালি

  • একদিন। থুড়ি। সে সময় দিন ছিল না। সংখ্যা ছিল না। সমস্ত বলতে এত্তটুকু কনা; পরমাণুর চেয়েও ছোট; মামুলি একটা ব্যাপার।
    সেই মামুলি ব্যাপারের মধ্যে ছিল আজকের যাবতীয় সমস্ত কিছু, আজকের যতটুকু শক্তি তার সমস্তটুকু।  গ্যালাক্সিদের দল, তারা’দের ঘুর পাক, ডায়ণোসর, পিরামিড, মহেঞ্জদাড়ো, আপনার মর্নিং ওয়াক, মিনিবাসের ঘ্যাংর-ঘোর, বসের চেল্লানি, গিন্নির শপিং, কংগ্রেস-বিজেপি, উৎপাত-তবলা; সমস্ত।
    ওই এত্তটূকু দানার মধ্যে ছিলো অধুনা জিন্দগির যাবতীয় উৎপাত। তার বাইরে কিস্যুটি না, স্থান-কাল-পাত্র-বাপ্পি লাহিড়ী; কিস্যুটি না। ওই দানার পেটে রইলে সমস্ত সম্ভাবনা।  সহজ ভাষায় সর্ষে বাটা ইলিশের হাতছানি বুকে নিয়ে রয়েছিলো সেই দানাটি।

পাবলিক, কবি ও কবিতা

( okolkata থেকে cross-posted)
পাবলিক :
কি ? কবিতার বই কিনবো ? সে কি ? কিনলেই হলো নাকি? পড়বো কি করে ? গাইড বই কই ?ভূষণবাবুর টীকা-আলোচনা কই ? সুনীল-শ্রীজাত ব্লাফ মেরে গছিয়ে দেবেন তারপর কি সে সব মাল সাজিয়ে রাখবো? এই সেদিন ড্রয়িঙ রুমের শো-কেস’টাও দিলাম বেচে, আসলে বিপিন ভালো একটা অফার দিলে,এমনিতেই ঘুণ পড়বে মনে হচ্ছিলো ;দিলাম চালান করে আর কি। কাজেই ওই কাব্যির কেতাব যে সাজিয়ে রাখবো তারও উপায় নেই।
আরে মশাই, ছেলেবেলা থেকে দেখছি মাস্টার মশাই কবিতা পড়ে যান, শিরোনামের মানে খোলসা করে দেন,ভাব বুঝিয়ে দেন, বিশেষ লাইনগুলো আন্ডারলাইন করতে বলেন; এত কিছু করে তবে গিয়ে কবিতা’তে কি কাগের ঠ্যাং-বগের ঠ্যাং গপ্প আছে তা মালুম চলে। এরপরেও ছিলো সহায়িকা। এভাবেই তো কবিতা পড়তে শিখেছি, আউড়াতে শিখেছি। এ বয়সে এসে যদি বলেন এসব পদ্য পড়লেই বুঝে ফেলবো’ উঈদাউট মানবেন্দ্রবাবু বা দীপেনবাবু’স ক্লাস, তো আপনি খেপেছেন। আনন্দলোক দিন চলবে; চেতন ভগতের বাংলা অনুবাদ দিন চলবে, এমনকি সুনীল-শীর্ষেন্দুর প্রেমের গপ্প-গদ্যও চলবে, কিন্তু কবিতায় ইনভেষ্ট করতে বলবেন না প্লিজ।