Tuesday, August 20, 2013

বাঙালি ও বৃষ্টির ব্যাপার-স্যাপার



বৃষ্টির ব্যাপারে কবিতা লিখে আর গান বেঁধেই যেন সব্বার দায়িত্ব খালাস। বৃষ্টিতে ভেজার বেলায় শুধু রবিনা ট্যান্ডন।  বৃষ্টির ছাঁট সামান্য গায়ে এসে পড়েছে কি আঁতকে ওঠা শুরু। জামা কাপড় বিগড়ে যাওয়া, অসময়ে জ্বর; এমন হাজার চিন্তা মানুষের মনে।  
বৃষ্টির উৎপাত এড়াতে মানুষের কত ফন্দি ফিকির।
কেউ বানালেন ছাদ।
কেউ বুদ্ধি করে আবিষ্কার করে ফেললেন ছাতা।
তৈরি হল হাই-ড্রেন।
পথ চলতি মানুষের গায়ে উঠলো বর্ষাতি, পা ঢাকতে গাম বুট।

Sunday, August 18, 2013

একটি মই কেনার আগ্রহ ও বাঁশ


ডাকনাম খোকন হলে কি হবে, খোকনবাবু রীতিমত কলপে এবং চ্যবনপ্রাশে জীবনযাপন করেন। সেদিনকেও চ্যবনপ্রাশের চামচ সবে মুখে চালান করেছেন, ঠিক তখন খবরের কাগজের একটি বিজ্ঞাপনে তার নজর আটকে গেল।

দেখলেন এক মাদ্রাজি কোম্পানি টেলিফোনে অর্ডার নিয়ে বাড়ি বাড়ি মই সাপ্লাই করে। বাঙালি বাঁশের মই নয়, ফাইবার ল্যাডার। সেই মই নাকি ইচ্ছে মত ছোট-বড় করে নেওয়া যায় । কোনাকুনি, লম্বালম্বি যে কোন ভাবে বাড়ির দেওয়ালে লাগানো যায়। মইয়ের মাথায় উঠে অনায়াসে হেলান দিয়ে বসে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা যেতে পারে; এতটা সুরক্ষিত ব্যবস্থা তার । খোকনবাবুর মনে হল যে সিলিং ফ্যানের ঝুল ঝাড়তে বা বুক শেল্ফের একদম উপরের তাকে গিয়ে কেরদানি করতে বা বাড়ির পুরনো ইলেকট্রিক মিটারের রিডিং পড়তে তাকে যে হিমশিম খেতে হয়, এই ফাইবার মই জুটলে সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। এমনকি ঘরোয়া স্পাইডারম্যান বনে যেতেও কোনও অসুবিধে নেই। এমন মজবুত মই যে খোকনবাবুর মনে হল যে এবার থেকে সকাল বেলা চা আর আনন্দবাজার হাতে ফাইবার’র মই’ইয়ের  মাথায় গিয়ে কিছুক্ষনের জন্য বসে থাকলে বেশ হয়।

Monday, August 12, 2013

পলিটিক্স ইজ ইন আওয়ার ব্লাড


পলিটিক্স ইজ ইন আওয়ার ব্লাড। শুধু গোল্ডফ্লেক্‌ ফুঁকে আর লিট্‌ল ম্যাগ ঘেঁটে ইন্টেলেকচুয়াল বনে থাকা যায় না। পলিটিক্স বুঝতে হবে এবং টেবিল চাপড়ে বোঝাতে হবে। ব্রাজিলে যদি সবাই ফুটবল-বিদগ্ধ হন, তবে কলকাতাইয়া মাত্রই রাজনীতিজ্ঞ এবং রীতিমত থুঁতনি চুলকনো সেফলজিস্ট। অবিশ্যি আমাদের রাজনীতিতে ডান-বাম তেমন কিছু নেই। উইং বলতে দুটিই ; অতি-বাম এবং প্রবল-বাম। বুর্জোয়া রাজনীতি এবং পনীরের ঝোলের পরোয়া বাংলাই কোনোদিন করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।


কলেজে ভালো ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করেন, গবেটরা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে নবাবী করেন আর বুদ্ধিমানেরা রাজনীতি করেন। উপযুক্ত দাদা-দিদিদের চিনে নেওয়া, মিছিল-টিছিলে র্যাীম্প ওয়াক, ইউনিয়ন রুমে দেদার ফ্রি চা-বিস্কুট, ব্রিগেড মিটিং’য়ের দিনে পার্টি ব্যাজ আর বিরিয়ানির বাক্স এবং সর্বোপরি; এলেম থাকলে কচি নেতা’র উপাধি – এইসব মিলে ছাত্র রাজনীতি।

ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হাতেখড়ি না হলেও ক্ষতি নেই। সক্রিয় বলে অবিশ্যি কিছুই হয় না; আদতে সবই ইন-ডাইরেক্ট ; অন্যের মাথায় কাঁঠাল ক্র্যাক করে দুনিয়া চলছে।

Saturday, August 3, 2013

মধুময়ের ঘুম




ঘুম পাওয়ার প্রথম ধাপে মাথার তালুতে নরম শিরশিরানি টের পান মধুময়। রাত এগারোটা নাগাদ রাতের খাওয়া সেরে নিজের বিছানায় চলে আসেন তিনি। সঙ্গে থাকে কোন সরল বই কিংবা পত্রিকা। বাসে-ট্রেনের টানাহ্যাঁচড়া আর চাকরির চক্করে শরীরে ক্লান্তি জমে থাকেই। মধুময় তিন কি চার নম্বর পাতায় গিয়েই বুঝতে পারেন যে চোখের পাতার ওজন বেড়ে চলেছে। থুঁতনি ক্রমশ নেমে আসে পাশ বালিশের বুকে। ছয় নম্বর পাতায় পৌছনোর আগেই বইটা আলগা হয়ে খাটে লুটিয়ে পড়ে। ঘুমের দানা যত জমতে থাকে , মধুময়ের কানে সিলিং ফ্যানের এক ঘেয়ে আওয়াজ তত দাপুটে হয়ে ওঠে। রোজই তিনি টের পান যে তার ডান চোখ যখন আধবোজা , তার বাঁ চোখ সম্পূর্ণ ভাবে বুজে গেছে। বেশ দৃপ্ত ভঙ্গিতে ঘুমের পিছু পিছু বেশ কিছুক্ষন ছুটে চলেন মধুময়।

Thursday, August 1, 2013

অ-লংকা-র


শুকনো লংকার ঝালে রয়েছে বনেদী মেজাজের গন্ধ। জলসাঘরের ভাঙ্গা কাঁচের গেলাসের খনক্‌। চাবুকের সপাং’য়ের মেজাজ। মাছের কালিয়ার দাপটের উৎস। আলু সেদ্ধ মাখার জৌলুস। মুসুরি ডালের বাহারি ফোঁড়ন। আদরহীন সোহাগ, সাবেকী দাপট। ব্যবহার করতে জানলে মাঞ্জাবতী সুতো, না জানলে গলার দড়ি।