চিরঞ্জিত আমায়
যদি একবার “ এই ভাই” বলে ডাকতেন
Thursday, July 25, 2013
Monday, July 22, 2013
দিবাকর এবং হাওড়া ব্রিজ
হাওড়া ব্রিজের একটা ডাকনাম দিলেন দিবাকর।
একটা চটের থলিতে ছয় কিলো গেঞ্জি-কাপড় বয়ে দৈনিক
বড়বাজার টু হাওড়া হেঁটে আসেন তিনি। একটা বাস ধরতেই পারেন কিন্তু অফিস টাইমের দম
বন্ধ করা ভিড়কে ভীষণ ভয় পান দিবাকর। তবে তার চেয়েও বড় কারণ হচ্ছে হাওড়া
ব্রিজের মায়া। সেই সতের বছর বয়স থেকে বড়বাজার থেকে গেঞ্জি কাপড় কিনে রিষড়া’র একটা আধ-কানা কারখানায়
সাপ্লাই করে চলেছেন দিবাকর। বয়স এখন চুয়াল্লিশ। দিবাকর ভেবে দেখেছেন যে সময়মত
বিয়ে হলে তাঁর ছেলে নান্টু এখন ক্লাস এইটে পড়তো আর মেয়ে নিপা ক্লাস ফাইভে। এটাও
ভাবা আছে যে তাঁর একটা এলো-আই-সি আর দুটো ফিক্সড্ ডিপোজিট হতে পারত এ বয়েসে।
বুদ্ধি করে চললে সান্যালদের এক কাঠা জমি কিনে একটা ছোট পুঁচকে বাড়ি হাঁকানো কি
মহা-অসম্ভব কিছু কিস্সা হত ?
মুস্কিল হল, বিয়ে-থা আর করা হয়ে ওঠেনি দিবাকরের। গেঞ্জির
কাপড় সাপ্লাই দিয়ে যে দু পয়সা আসে তাতে তাঁর আর পিসিমার সংসার প্রায় চলে না
বললেই হয়। তাও ভাগ্যি পিসেমশাই আধ-ভাঙ্গা বাড়িটা রেখে গত হয়েছেন। নয়ত পিসিমা’র সাথে ষ্টেশনের বস্তিতে
গিয়ে থাকতে হত। এলো-আই-সি’র গুড়ে বালি, দিবাকরের নিজের কোনও ব্যাঙ্ক
একাউন্টই নেই।
পিসিমা’র প্রেশারের ওষুধ কিনতে
গিয়েই হিমশিম খেতে হয়। দিবাকর শেষ পাঁঠার মাংস খেয়েছিলেন চার মাস আগে, পাড়ার বাদলদা’র মেয়ের বিয়েতে।
Friday, July 19, 2013
কেউ কেউ
অনেকে বিপ্লব-বিপ্লব করে করে গেঁজে গেলেন।
কেউ হুট-হাট ক্যামেরায় খচ্খচ্ করে চলেন।
কেউ হারমোনিয়ামে মেজাজি তাজমহল।
কেউ আপিসে ছুট্টে যান, ফাইল ঘাটেন, বস পোষেন, ওয়াপস আসেন।
কয়েকজন বলেন ভুতের গল্প মোমবাতিতে আর তেলেভাজায়।
কেউ বা বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে “গ্লব-ট্রট্” করেন।
কেউ যেন চুমু বিশারদ।
আর কেউ কেউ
ছেলেবেলার ফেলে আসা এঁদো গলির গন্ধ মনে করে হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠেন মাত্র।
সরলীকরণ
রাজনীতির সরলীকরণ
হতেই পারে। এবং এই সরলীকরণের ভারি প্রয়োজন রয়েছে। তাতে আখেরে আমাদের প্রচুর লাভ।
আহঃ, এই আখের শব্দটিতে কি সুফিয়ানা মেজাজ রয়েছে; আখের রসের মত মিষ্টি বাহার রয়েছে।
তবে আখেরের কথা অন্যদিন।
আজ কথা রাজনৈতিক
সরলীকরণের। বর্তমানের হিসেব-কিতেব ভারি জটিল। এবং কুটিল। ভোট দিয়ে নেতা ঠিক করা। তারপর সেই নেতাদের হাতে
নিজেদের সঁপে দেওয়া। নিজেদের ভবিষ্যতকে তাদের দায়িত্বশীল হাতে অর্পণ করা। নিজেদের
ছোট ছেলেমেয়েগুলোকে রাজনৈতিক মাঞ্জায় ধারালো করে নেওয়া। সরকার-বাহাদুর আমাদের আখের
গুছিয়ে দেবেন এমন সব মেজাজি অঙ্কে সামিল হওয়া। কি অব্যর্থ রোমান্টিসিজ্ম। অথচ কি জটিল।
Wednesday, July 17, 2013
রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা
রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা কাকে বলে ?
ব্যাসন মাখা পাতলা-লম্বাটে বেগুনের টুকরোকে; টগবগে গরম তেলে ছেঁকে, কড়াই থেকে তুলে নেওয়ায় যে প্রস্তুতি।তাকে।
চীনেবাদামের ঠোঙা থেকে শেষ বাদাম টুকরোটি তুলে; শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে নিজের জিভের ডগা দিয়ে লুফে নেওয়ার যে দেড় সেকন্ড। তাকে।
আতপের ধোঁয়া ওঠা সেদ্ধ ভাতে ঘি'য়ের ফোঁটা মিশে যাওয়ার যে সুবাস। তাকে।
দাস কেবিনের রঙ চটা টেবিলের এক কোনে বসে, প্লাস্টিকের নুন-দানি নিয়ে খেলতে খেলতে ফিশ-কবিরাজির জন্য যে অপেক্ষা। তাকে।
বেদম গরমের রোদ মাখা জুন-দুপুরে- রাস্তার মোরের লেবু-জলের প্রথম চুমুকের গলা বেয়ে নেমে আসা। তাকে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
