Wednesday, July 10, 2013

এক রেল অন্য রেল


রেলগাড়ি শব্দটার মধ্যে কি গড়িমসি স্নেহ কাঠের হাতলের দুলুনি, বাদাম-ওয়ালার হাঁক, ঘটরঘটর ছন্দএকটু চেপে বসবেন দাদা জুলুম-হীন আবদার ভাঁড়ে চা শীতের দুপুরের রোদ; অসময়ে বৃষ্টির ছাঁট; ট্রেন জানলায় কলেজ-ফেরতা পথে রেলগাড়ির ফাঁকা সীটগুলোকে অবজ্ঞা করে দরজায় দাঁড়ানো; সদ্য আবিষ্কৃত প্রেমিকার আঙুলের ডগায় গোপন নিষ্পাপ ছোঁয়া   ভিড় মেখে বন্ধুদের সাথে অক্লান্ত সব গল্পগুলো  কাঠের সীটের কোনায় কোনক্রমে বসে আনন্দবাজারি শব্দছক্নিয়ে নাড়াচাড়া

ট্রেন শব্দটার মধ্যে বড় কঠোর ভাবে একটা কারখানা রয়েছে

Saturday, July 6, 2013

তস্য তস্য ঈশ্বর

তেমন কিছু নয়। একটি পোকা। কালচে, পুচকে, বিশ্রী; যেমন তারা হয়। আঙুলের ডগায় কেতরে পরে আছে। চলৎশক্তি-হীন বলেই বোধ হয়। অকিঞ্চিৎকর হুল’টির ইতিউতি নড়াচড়ায় বোঝা যায় যে বেঁচে রয়েছে। আয়তনে একটি বাঁশকাঠি চালের দানার চেয়ে দেড়গুনের বেশি  বড় নয়। মুদির দোকান থেকে বয়ে আনা ডালের প্যাকেট থেকে বের হওয়া প্রাণী। দোকানিকে যে রগড়ানি দিতে হবে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু এই পোকাটাকে টুসকি মেরে উড়িয়ে দিতে মন চাইলো না। অতি চমৎকার দেবতা দেবতা ভাব মনে। চটকে দিতে পারি, ক্যারমের স্ট্রাইকার চালানোর ভঙ্গিতে উড়িয়ে দিতে পারি, আলতো চাপে ভবলীলা সাঙ্গ  করে ঝাড় দিয়ে সটকে দিতে পারি। আমি এই পোকাটির ঈশ্বর; আমি রাখলে থাকবে-আমি মারলে মরবে। আমার মুখের সামনে এই মুহূর্তে কেউ আয়না ধরলে  নিজের স্মিত হাসিটুকু দেখতে পারতাম।

Thursday, May 30, 2013

তাঁরা




- আরে বাবা কেউ দরজাটা খোল, কখন থেকে কড়া নেড়ে চলেছি...বিশ্রি মানুষ তোরা...।

- কে?

- যাক,এতক্ষণে অন্তত কেউ ডাক শুনেছে , এ'বার দরজাটা খোল দেখি।

- দরজা খোলার ভার যার ওপর সে কিছুক্ষনের জন্যে নেই। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। তিনি এলেই...।

- এই এলাম। ঘেমে-নেয়ে একাকার। এদ্দূর ঠেঙিয়ে আসা কি চাট্টিখানি কথা? একটু দরজাটা খুলে দিলে ভিতরে ঢুকে আগে জিরিয়ে নিতে পারি৷

- দরজা খোলার অধিকার যে আমার নেই ভাই। আর একটু দাঁড়াও, তাঁর আসার সময় হল বলে। আচ্ছা, তোমার কণ্ঠস্বর শুনে মনে হয় বয়স অল্প৷ তাই তুমি করেই ডাকছি, কেমন? 

- তুইও চলবে। তুই ব্যাপারটা আমার বেশ মিষ্টি লাগে৷

- তা'বটে৷ অসুবিধে নেই।

- ইয়ে, তোর...মানে আপনার কন্ঠস্বরটা চেনা ঠেকছে। 

- তুই ব্যাপারটা চালিয়ে যেতে পারো ঋতুপর্ণ৷ আমার কিন্তু বেশ লাগছে৷ 

- মা..মাণিকবাবু? ওহ্..।

- মনে হয় দারোয়ান-বাবুর সহজে পাত্তা মিলবে না। তোমার  জন্যে নিয়ম ভাঙাটা অন্যায় হবে না। দাঁড়াও, দরজাটা খুলি৷ এত অল্ল বয়েসে এ অঞ্চলে ঢুঁ মারবে ভাবিনি। 

- বাঁচা গেল, এখানেও দেখছি কলকাতার মত ভ্যাপসা গরম। 

Tuesday, May 21, 2013

হরির কল

হরির কাজে মন নেই। গোটা দিন কল-কব্জার ঘ্যাঁচ-ঘোচ। প্রোডাকশন প্রোডাকশন করে দিনভর ধানাই-পানাই। জান বিলকুল কয়লা। দুনিয়াটাই ফালতু। ধুর।

শিপমেন্ট আসে, শিপমেন্ট যায়; বেওসা বেওসা করে হরির হাড়ে দূর্বা গজায়। তাও ম্যানুফ্যাকচারিং হলে হরির মনে হত যে কিছু একটা জব্বর কাজে আছে। তা নয়, স্রেফ প্রসেসিং। যে কাঁচা মাল ফ্যাক্টরি তে ঢুকল, তাকেই এক যন্ত্রে জীবাণু-মুক্ত করে নেওয়া, তারপর অন্য যন্ত্রে ঘষে-মেজে নেওয়া, অতঃপর সেই মান্ধাতা আমলের প্রসেসরে সেই কাঁচা মাল গুঁজে দিয়ে রি-ফরম্যাট করে নিষ্পাপ করে নেওয়া। অতি মামুলি কেস।।

Friday, May 10, 2013

কলকাতার ডাকনাম

কলকাতা একটি অতি ধামড়া, বেয়াক্কেলে, উচ্চমাধ্যমিক-অঙ্কে ব্যাক পাওয়া ছেলে।  ক্লাস সেভেন থেকে কবিতা লিখে আর ক্লাস নাইন থেকে বিড়ি ফুঁকে যে বেমালুম বখে গিয়েছে। বাহানাবাজিতে নোবেল থাকলে সে বিশ্বের কনিষ্ঠতম নোবেল লরিয়েট হতো। ফাঁকিবাজির দুনিয়ায় সে আলেকজ্যান্দার। বাপের গালি , মায়ের মুখ ঝামটা, ভাই-বোনের বিদ্রুপ আর খুচরো প্রেমিকার অবজ্ঞায় বেড়ে ওঠা হেলদোল-বিহীন একটি চরিত্র। একধার দিয়ে পেটুক এবং অন্য ধার দিয়ে পেট পাতলা - এবং সেই কারণেই তার বুকের পাঁজর গোনা যায় আবার অন্যদিকে তলপেটে সে সামান্য নেদু ভুড়িটি যত্নে পুষে রেখেছে । এই কলকাতা ; মদ না খেয়েই  মাতালামি করে  যে পাবলিক-ক্যালানি খায়। 

কিছুই আর করে উঠতে পারেনা