Friday, May 10, 2013

কলকাতার ডাকনাম

কলকাতা একটি অতি ধামড়া, বেয়াক্কেলে, উচ্চমাধ্যমিক-অঙ্কে ব্যাক পাওয়া ছেলে।  ক্লাস সেভেন থেকে কবিতা লিখে আর ক্লাস নাইন থেকে বিড়ি ফুঁকে যে বেমালুম বখে গিয়েছে। বাহানাবাজিতে নোবেল থাকলে সে বিশ্বের কনিষ্ঠতম নোবেল লরিয়েট হতো। ফাঁকিবাজির দুনিয়ায় সে আলেকজ্যান্দার। বাপের গালি , মায়ের মুখ ঝামটা, ভাই-বোনের বিদ্রুপ আর খুচরো প্রেমিকার অবজ্ঞায় বেড়ে ওঠা হেলদোল-বিহীন একটি চরিত্র। একধার দিয়ে পেটুক এবং অন্য ধার দিয়ে পেট পাতলা - এবং সেই কারণেই তার বুকের পাঁজর গোনা যায় আবার অন্যদিকে তলপেটে সে সামান্য নেদু ভুড়িটি যত্নে পুষে রেখেছে । এই কলকাতা ; মদ না খেয়েই  মাতালামি করে  যে পাবলিক-ক্যালানি খায়। 

কিছুই আর করে উঠতে পারেনা

Wednesday, May 8, 2013

রবিজ্ঞান

রবি ইজ আওয়ার কম্যুনিটি-হবি। হেবি আমেজ। 

কবিত্বের গভীরতা সম্বন্ধে বিশেষ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না; কারণ ভদ্রলোক মদ্যপান তেমন করতেন বলে শোনা যায় না। তবে  দাঁড়ি তে যদি থাকে জীবন-মুখির আসলি মেজাজ, তাহলে  নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে রবি'ই হলেন প্রাচীন নচিকেতা।  শুধু জিন্স আর বাতেলা বাদ থাকায় নচি-সম গ্ল্যামার-রূপ  বাদ থেকে গেলো। নচির ওই হু-লা-লা-লা'র ছোঁয়ায় অবশ্য রবিবাবুর পাগলা হওয়া গানটা অনেকটাই দাঁড়িয়ে গেছে।  

তবে নেহাৎ হেলাফেলার মাল নন। হাজার হলেও নোবেল ম্যানেজ করেছেন, বোলপুরে ইস্কুল আর গুচ্ছ আঁতলামো ছেড়ে গেছেন। রাস্তায় মূর্তি, শো-কেসে সাজানো রচনাবলী এবং শাওয়ারের তলে একলা চলো'র সুর। এলেম তো আছেই। তাছাড়া  বুদ্ধিমান পাবলিক  মাত্রই বুঝবেন যে ওনার আঁকার হাতটা অনেকটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর মত।

ইয়ে, দাঁড়িওয়ালার বৌদির সাথে একটা ইয়ে ছিলো না ? কে একটা বলছিলো যেন, আমি অবিশ্যি পাত্তা দিইনি।

চুমুতে হামিতে





ঠোঁটে ঠোঁট চকামে তৈয়ার হল চুমু।

চুমুতে রইলো আকস্মিকতা। রইলো চলকে ওঠা হুইস্কি গেলাসের মিচকে হাসি, ছাদের গন্ধ, মাথা ঝিমঝিম, ঠোঁট-বুক-হাতের স্পর্শে পেলব বিস্ফোরণ।  ফার্স্ট-ইয়ারের বেমক্কা দু জোড়া ঠোঁটের কলম্বাস-হিউয়েন সাং জুটি বনে ওঠা। চার পাশের বিশ্ব-যুদ্ধ বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, থকথকে বুক-জোড়া পড়ে থাকে। খেজুর রসের হাঁড়ির মত সুর জমে ওঠে চুমুর ভেজা-ভেজা আবেশে। পৃথিবী লেংচে চলে।  চুমুর পালা শেষ হলেই অক্সিজেন খতম হয়ে যাবে দুনিয়া থেকে; এমন ভয় জুড়ে থাকে নলবন, দত্ত-বাড়ির পুকুর-ঘাট, মন্টুদের চিলেকোঠা এবং অন্য প্রতিটি পাঁজর-তীর্থে

Tuesday, May 7, 2013

অতি স্যার-বাজি

আসুন স্যার। 
বসুন স্যার। 
বলুন স্যার। 

আমি কি করতে পারি স্যার। 
আপনি বললে আমি সব করতে পারি স্যার। 
আমায় এক বার বলেই দেখুন না স্যার। 
আপনি হলেন ভগবান স্যার, আমি মাছি পাতি।

দুপুরগুলো


বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুরগুলো ভারী মামুলি হয়ে পড়লে। মা'র বকুনি নেই, বুন্তু-দিদির হাতে মাখা কাঁচা আম কুচি নেই, ভর দুপুরে ইয়ার-দোস্তের হাঁক-ডাক নেই অন্য পাড়ায় ম্যাচ খেলতে যাওয়ার জন্যে। এমন কি ঠা-ঠা রোদ্দুর মাখা ছাদের কোনের ভিজে মায়াও নেই; যেখান থেকে পাশের বাড়ির মেয়ে মামনের ঘরের জানলা দেখা যেত। গরমের ছুটিতে পাড়ার নাটকের দলের রিহার্সাল, দত্ত-পুকুরে ছিপ ফেলা, ভূদেব-কাকার কাছে টুয়েন্টি-নাইন শেখা, সন্তুর কাছে মান্জা রহস্যের পাঠ নেওয়া - সমস্তই দুপুরের অছিলায়। 


এখন ফাইল এসেছে, বসের হাঁক-ডাক এসেছে; দুপুর-গুলো বেমক্কা আফটার-নুন গোছের মুরুব্বি বনে গেছে। অধুনা দুপুরের সামান্য একলা মুহুর্তে মামনের কথা মনে আসে। সে এখন ক্যানাডাতে চমত্কার এক চাকরি এবং অনাবিল এক সংসার সামলায়- আমাদের দুজনার দুপুর এখন আর একসাথে আসে না।