Tuesday, May 7, 2013

অতি স্যার-বাজি

আসুন স্যার। 
বসুন স্যার। 
বলুন স্যার। 

আমি কি করতে পারি স্যার। 
আপনি বললে আমি সব করতে পারি স্যার। 
আমায় এক বার বলেই দেখুন না স্যার। 
আপনি হলেন ভগবান স্যার, আমি মাছি পাতি।

দুপুরগুলো


বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুরগুলো ভারী মামুলি হয়ে পড়লে। মা'র বকুনি নেই, বুন্তু-দিদির হাতে মাখা কাঁচা আম কুচি নেই, ভর দুপুরে ইয়ার-দোস্তের হাঁক-ডাক নেই অন্য পাড়ায় ম্যাচ খেলতে যাওয়ার জন্যে। এমন কি ঠা-ঠা রোদ্দুর মাখা ছাদের কোনের ভিজে মায়াও নেই; যেখান থেকে পাশের বাড়ির মেয়ে মামনের ঘরের জানলা দেখা যেত। গরমের ছুটিতে পাড়ার নাটকের দলের রিহার্সাল, দত্ত-পুকুরে ছিপ ফেলা, ভূদেব-কাকার কাছে টুয়েন্টি-নাইন শেখা, সন্তুর কাছে মান্জা রহস্যের পাঠ নেওয়া - সমস্তই দুপুরের অছিলায়। 


এখন ফাইল এসেছে, বসের হাঁক-ডাক এসেছে; দুপুর-গুলো বেমক্কা আফটার-নুন গোছের মুরুব্বি বনে গেছে। অধুনা দুপুরের সামান্য একলা মুহুর্তে মামনের কথা মনে আসে। সে এখন ক্যানাডাতে চমত্কার এক চাকরি এবং অনাবিল এক সংসার সামলায়- আমাদের দুজনার দুপুর এখন আর একসাথে আসে না। 

কিছু দাবিময় ডাক-নাম

কিছু ডাকনাম যে কেন তেমন ভাবে চলে না। ভেবে মন খারাপ হয় যায়। ছোটমামা হামেশাই বলে যে পোটেনশিয়াল নষ্ট করেই এ দেশ গোল্লায় গেল। হক কথা। কত ফোনেটিক বাহার যে কেতা-দুরুস্ত হতে গিয়ে মূর্ছা গেল তার ইয়ত্তা নেই। এই যেমন নিমকি ; কি অপূর্ব নাম খানি। নিমকি মা’কে বল জলখাবার দিতে, নিমকি পড়তে বস, নিমকি বাঁদরামো করিসনে – কি ব্যাঞ্জনাময় সমস্ত ব্যাবহার।

অথবা ধরা যাক বম্বে। শহর হিসেবে নয়; ডাকনাম হিসেবে। বুম্বা-টুম্বা ফালতু; ওসব ভারি সিনেম্যাটিক। বম্বে – বেশ নাদুস-নুদুস আদুরে নাম।অমন শুনেই মনে হয় কাছে ডেকে নি – কাম হিয়ার বম্বে। একটা আলতো গ্ল্যামার আছে।

ডাকনামের কথাই যখন উঠলো তখন বলি; ভেল্কি নামটির প্রতি আমার বেশ গুচ্ছ দুর্বলতা আছে। ডাক-নামেদের মধ্যে এমন তরুন-তুর্কী নাম পাওয়া দুস্কর।

Monday, May 6, 2013

ঠকানে বৃত্তান্ত

প্রেমিক চোরা প্রেমে প্রেমিকাকে ঠকালে ।

প্রেমিকা ঠকিয়ে অন্য ঠোঁটে চুমু খেলে।

মেঘলা আকাশ ঠকিয়ে দিয়ে ঢেলে দিলে মেঘ।

দোকানি ঠকিয়ে গছিয়ে দিলে বাসি রসগোল্লা।

টেরি ঠকিয়ে টাক নামালে।

বয়েস ঠকিয়ে বাত পাঠালে।

সি-পি-এম ঠকিয়ে গাঁট্টা দিলে, তৃনমূল ঠকিয়ে চাটি মারলে।

কিন্তু সব চেয়ে খুনে ঠকানে বৃত্তান্ত;

ধোকার ডালনা কে ঠকিয়ে; পনীর-ন্যাকামোর বাঙালি রসনায় ঢুকে পড়া।

মর্মান্তিক। মর্মান্তিক। মর্মান্তিক।  

Thursday, May 2, 2013

বাঙালির বিপন্ন ক্যারিস্মা

বাঙালির ক্যারিস্মা কমে যাচ্ছে ক্রমশ। মধ্যবিত্তের ভুঁড়ি নেই, মধ্যবয়স্কের গেঁটে বাত নেই, মধ্য-বুদ্ধি ছাত্রের নধর আলিস্যি নেই। বিরক্তিকর।

পাড়ায় পাড়ায় এখন মাল্টী-জিম আর তার কব্জায় পড়ে পাবলিক চিমসে মেরে চলেছে। এক সময় ধুম ছিল ভোরবেলা আলতো হেঁটে এসে মৌজ করে পরোটা আলুর দম গেলার। এখন ছাই ট্রেড-মিলে নাচুনি ঝেড়ে , ডাইনিং টেবিলে বসে, ইকনমিক্স টাইমসে মুখ গুঁজে; করনফ্লেক্স গেলা। ছিঃ ছিঃ, অমন ফিটনেসের মাথায় বাজ।

ভাত-ঘুম ছিল এক কালের বিউটি-ফ্যাসন। এখন দেবীরা দুপুরে এরবিক্সে নিজেদের নিমজ্জিত করছেন।  ফল ? তোবড়ানো গাল, হাড়গিলে দেহ-পল্লব – অমনটা না হলে নাকি আজকাল চাবুক বলা চলে না। আরে বাবা, বং-ললনা যদি আলতো থলথলে সৌন্দর্য-রসে না ভিজে থাকেন; তাকে কি আর পাতে দেওয়া চলে ?

জিম যে অতি হাড়-হিম করা ব্যাপার; তা এই বেলা পাবলিকে টের না পেলে সমুহ বিপদ।