Monday, February 4, 2013

প্রেম-টেম

প্রেম করলেই হলো ? হু উইল হ্যান্ডেল দ্য পূর্বরাগ গবেট ?

তারপর একই ইয়ার-ফোনের দুই প্রান্তে দুই জাতের দুইটি কানের মিলন; এফ এমে কাল্পনিক গাছতলার গান,  কাদা আর প্যাচপ্যাচে আষাঢ়ে গরম মিলে গপ্পিয়ে রোম্যান্স।  

তারপর রয়েছে আধো-সোহাগ, নরম-আদর। কান কামড়ানো আব্দার, দেলখোসার কেবিন-ঘর।

এরপর ? এরপর মনে রাখুন ; 

প্রেম করেই যদি ইনসান খালাস হতে পারতো তবে খোদা নিশ্চিন্তে শ্রদ্ধানন্দ পার্কে বসে পাঁচ টাকার চানাচুর মিক্সচার খেয়ে দুপুর কাটাতেন। লাভ-মেকিং বিনে প্রেম করা পূর্ণ হবে কি প্রকারে জনাব ?

এত সবের মাঝেই এক ড্রপ বেমালুম চোনা – বিয়ে।

তারপর পূর্বরাগের ধনুষ্টঙ্কার, প্রেমের আমসি, রোম্যান্সের নাভিশ্বাস, সোহাগের চুলকুনি, আদরের ইস্তিরি আর লাভ মেকিং’ইয়ের হোম-ওয়ার্ক।


ঈশ্বর স্বয়ং বাঙালি। 

আব্বেয়ার

আব্বেয়ার!

কুল হও, ইংরেজিতে খিস্তি মেরে ভুত ভাগিয়ে দাও উও ভি সহি কিন্তু শালা-শূয়রের বাচ্চা হেঁকে ইজ্জতের শাকালু করে ফেলো না।

হিপ হও, প্রেমিকার কানে  “ উফ, সেক্সি বাটস”  বলে মূর্ছা যাও সেলাম পাবে, কিন্তু “তুমুল নিতম্ব” বলেছো কি সোজা হিল-জুতো-পেটা।

বেমতলব

দুনিয়াটাই শালা বেমতলবে চলে।

বেমতলবে গুলতে হওয়ার সময়ই গুলতের মা সটকে যায়। বেমতলবে গুলতের বাবা রোজ চুল্লু খেত আর মালের সাথে চাখনা হিসেবে পুচকে গুলতে’কে আড়ং ক্যালাতো। বেমতলবেই গুলতের বাবাটাও অকালে চুল্লু শহীদ বনে গেল। বিনা কিসি মতলব কা গুলতে খিদের জ্বালায় আস্তাকুঁড়ে পড়ে থাকা পচা ভাত আর সিগেরেটের পোড়া ফিল্টার একসাথে চটকে খেত; রুতি-তরকারি গেলা বড় বাপের বাচ্চারা মালুমই পাবেনা সে মণ্ডের কি অপরূপ সোয়াদ।

সাবান-দানি

সাবান-দানি হয়ে বেঁচে থাকতে মন চায়। প্লাস্টিকের নধর কোমর বাঁকানো দেহ। বেলেল্লা লুঙ্গি মাফিক সর্বক্ষণ আধ-খোলা ঢাকনা। গায়ে বাহারি কারুকাজ, অথচ দেহের অন্য প্রান্তে ফুঁটোর মেলা – যা কিছু জলজ ও অস্থির; টুপটাপ করে ইজেক্ট করে যাওয়া। বুক-পেট ভর্তি ফেনাময় সম্ভাবনা।

সাবানেও ফ্যানা, বেধড়ক মদ গিলেও গ্যাঁজলা ওঠা ফ্যানা; দুইই সাফ করে – দেহ, হৃদয়, লিভার, ভবিষ্যৎ।

মাতাল হলেই নিজেকে সাবান-দানি ভেবে ডন ক্যুয়োটে হয়ে যাই। পেটের মদে সাবানের খুশবু- ল্যাভেন্ডার। লিভারে ফুটো গুলো স্রেফ সাবান-দানির পারফরেসনস।  

Friday, February 1, 2013

বইমেলার এখন তখন

একদিকে আপনার পেটে প্রবল ক্ষিদে, অন্যদিকে আপনার চারিদিকে হিমসাগর, জলভরা, পাঠিসাপটার পাহাড় – আপনি দেখছেন, নাড়া-চারা করেছেন কিন্তু কিচ্ছুটি মুখে পুরতে পারছেন নাডায়েবেটিস! আপনার জিভের ডগায় চিনির কনা আর মাটির বুকে প্লাস্টিক প্যাকেট একই ব্যাপার 

অবশেষে আপনি একটি বিস্বাদ ক্রিম-ক্র্যকার বিস্কুট, চিনি-হীন গরম জল-মাফিক চায়ে চুবিয়ে মুখে চালান করলেনতারপর ঢেকুর তোলার চেষ্টা করে বললেন “এই তোফা”

কলেজ ছাত্র হিসেবে যখন বইমেলায় ঘুরঘুর করতে যেতাম তখন ওই পেটের ক্ষিদের বদলে থাকতো বইয়ের নেশাযাবতীয় বুক-স্টল গুলো ছিলো হিমসাগর-জলভরার পাহাড়আর বাদলা-হাওয়া খেলে যাওয়া পকেট ছিলো ডায়েবেটিসএক ঠোঙ্গা বাদাম ছিলো আমার সেই ক্রিম-ক্র্যকার বিস্কুট

বয়েস বেড়েছেচাকরি এসে পকেটকে পেশী-বহুল করে তুলেছেউমদা জিন্দেগিকিন্তু কোথায় ক্ষিদে স্যার! বসয়ের ফাইল আর বউয়ের শপিং কে তোল্লাই দিতে দিতে, অম্বল অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে- কোন ব্যাটার সাধ্য বই-ক্ষিদে বয়ে বেড়ায়। আর বই কিনেই বা কি হবে জনাব, আমি দেখবো টিভি জুড়ে মুন্নির কোমর-দুলুনি আর আমার শো-কেস বুক-ভর্তি বঙ্কিম-শঙ্খ-বিভুতি নিয়ে হুপিং কাশবে।

সব গেজে গ্যাছে গুরু। এখন শুধু অপেক্ষা কবে আসলি ডায়েবেটিস এসে কলজের হাতে বাটি ধরিয়ে দিয়ে যাবে।