Monday, February 4, 2013

সাবান-দানি

সাবান-দানি হয়ে বেঁচে থাকতে মন চায়। প্লাস্টিকের নধর কোমর বাঁকানো দেহ। বেলেল্লা লুঙ্গি মাফিক সর্বক্ষণ আধ-খোলা ঢাকনা। গায়ে বাহারি কারুকাজ, অথচ দেহের অন্য প্রান্তে ফুঁটোর মেলা – যা কিছু জলজ ও অস্থির; টুপটাপ করে ইজেক্ট করে যাওয়া। বুক-পেট ভর্তি ফেনাময় সম্ভাবনা।

সাবানেও ফ্যানা, বেধড়ক মদ গিলেও গ্যাঁজলা ওঠা ফ্যানা; দুইই সাফ করে – দেহ, হৃদয়, লিভার, ভবিষ্যৎ।

মাতাল হলেই নিজেকে সাবান-দানি ভেবে ডন ক্যুয়োটে হয়ে যাই। পেটের মদে সাবানের খুশবু- ল্যাভেন্ডার। লিভারে ফুটো গুলো স্রেফ সাবান-দানির পারফরেসনস।  

Friday, February 1, 2013

বইমেলার এখন তখন

একদিকে আপনার পেটে প্রবল ক্ষিদে, অন্যদিকে আপনার চারিদিকে হিমসাগর, জলভরা, পাঠিসাপটার পাহাড় – আপনি দেখছেন, নাড়া-চারা করেছেন কিন্তু কিচ্ছুটি মুখে পুরতে পারছেন নাডায়েবেটিস! আপনার জিভের ডগায় চিনির কনা আর মাটির বুকে প্লাস্টিক প্যাকেট একই ব্যাপার 

অবশেষে আপনি একটি বিস্বাদ ক্রিম-ক্র্যকার বিস্কুট, চিনি-হীন গরম জল-মাফিক চায়ে চুবিয়ে মুখে চালান করলেনতারপর ঢেকুর তোলার চেষ্টা করে বললেন “এই তোফা”

কলেজ ছাত্র হিসেবে যখন বইমেলায় ঘুরঘুর করতে যেতাম তখন ওই পেটের ক্ষিদের বদলে থাকতো বইয়ের নেশাযাবতীয় বুক-স্টল গুলো ছিলো হিমসাগর-জলভরার পাহাড়আর বাদলা-হাওয়া খেলে যাওয়া পকেট ছিলো ডায়েবেটিসএক ঠোঙ্গা বাদাম ছিলো আমার সেই ক্রিম-ক্র্যকার বিস্কুট

বয়েস বেড়েছেচাকরি এসে পকেটকে পেশী-বহুল করে তুলেছেউমদা জিন্দেগিকিন্তু কোথায় ক্ষিদে স্যার! বসয়ের ফাইল আর বউয়ের শপিং কে তোল্লাই দিতে দিতে, অম্বল অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে- কোন ব্যাটার সাধ্য বই-ক্ষিদে বয়ে বেড়ায়। আর বই কিনেই বা কি হবে জনাব, আমি দেখবো টিভি জুড়ে মুন্নির কোমর-দুলুনি আর আমার শো-কেস বুক-ভর্তি বঙ্কিম-শঙ্খ-বিভুতি নিয়ে হুপিং কাশবে।

সব গেজে গ্যাছে গুরু। এখন শুধু অপেক্ষা কবে আসলি ডায়েবেটিস এসে কলজের হাতে বাটি ধরিয়ে দিয়ে যাবে। 

Wednesday, January 30, 2013

চুমুর কথা

পাল্টে যাওয়ার প্রয়োজন আছে। আর্তজনে দান করবার কি রাম-হিড়িক চতুর্দিকে, কিন্তু সে হিড়িক কি নিদারুণ সংকীর্ণ। আরে অভাব কি শুধু পেটের খাদ্যের আর দেহের আভরণের ? রাবিশ!

চুমু-বিতরণ শিবির আয়োজন হবে কবে ? পাবলিকের ঠোঁটে বোরোলিন আর খিস্তি ছাড়া যে কিছুই টিকছে না। পাবলিকের হৃদয় যে সবুজ ময়দান থেকে বিটকেল গন্ধওয়ালা ধাপার মাঠ হয়ে চলেছে ক্রমশ। শুধু অমুক যোজনা, তমুক প্রকল্পের বার-ফাট্টাই মারলে হবে ?

রাজ্যের মাথায় ঋণ আর অন্যদিকে পাবলিক চুমুতে দীন; হাউ উইল বেঙ্গল মুভ অ্যাহেড মাই ডিয়ার বেহেড মুখ্যুস ?

ঋণ-টিন বাদ দিন, লেট দ্য চুমুস কাম ইন। দেশের ছেলেরা শুকিয়ে মরছে, রোম্যান্সের গ্লুকোজ ঢালুন, নয়তো জিন্দেগি আন্ত্রিক। ল্যালল্যাল ঘুরে বেড়ানো ইয়ুথ; এম-পি-থ্রি প্লেয়ার যুক্ত সস্তা মোবাইলে ফেসবুক ব্রাউজ করেচিপস-কোলা মাখা হাফ-আনার ভুঁড়ি দুলিয়ে বখে গেলো; জাস্ট বখে গেলো। চুমু-টুমু ঢালো ঈশ্বর

নন্দন-নলবন-ভিক্টোরিয়ায়-পার্কে বিস্তর কেস। দুমিনিট ধরে মন দিয়ে চুমুতে চুমুক দেবেন উপায় নেই; চারিদিকে হাভাতে চোখ; শালা থার্ড ওয়ার্ল্ড। এগিয়ে আসুক সরকার। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিস্তর ট্যাক্সর টাকা উজাড় করা হয়েছে; এবার হোক সংরক্ষিত চুমুদ্যান। ফরেস্ট রিজার্ভ গোছের কিস্‌-রিজার্ভ; প্রতি পাড়ায়; যেখানে দু জোড়া ল্যাপ্টালেপ্টি ঠোঁট ছাড়া প্রবেশ নিষেধ। প্রত্যেকে নিজ-নিজ চুমুতে ব্যস্ত থাকবে, এ অন্যকে উই শালাবলে আওয়াজ মারবে না। এছাড়া প্রত্যেক বাড়ির চিলেকোঠায় বাড়ির গার্জেনদের ওঠা বেআইনি বলে ঘোষিত হোক।

আর হ্যাঁ, যারা অতি পাতি ? যাদের চুমু বিলোবার কেউ নেই ? তারা কি বেওয়ারিশ এক জোড়া ঠোঁট নিয়েই ঈর্ষা-অম্বল পুষে লটকে রবে ? নেভার! বারোয়ারী দুর্গা পুজোয় কাঙালি ভোজন হতে পারে, নেতাজীর জন্মদিনে কম্বল বিতরণ চলতে পারে, তবে চুমু-বিলি উৎসব হবে না কেন ?

একদিন মাইকে এমন অ্যানাউন্স করা হবে না কেন:

চুমু-প্রার্থীরা দয়া করে লাইনে ভাঙ্গবেন না। ধৈর্য ধরে দাঁড়ান, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হতে

চলেছে বেলতলা নবারুণ সংঘের উনিশ-তম চুমু-বিতরণ উৎসবভলেন্টিয়ার ঘণ্টা কে অনুরোধ করছি যে পিছনের দিকে যেসব চুমু-প্রার্থী হল্লা করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছেন তাঁদের যেন কিছুতেই ফ্রেঞ্চ-চুমুর স্লিপ ইস্যু না করা হয়। বন্ধুরা, আজকের চুমুদান অনুষ্ঠানে চুমু দিতে এগিয়ে এসেছেন বলিউডের লতিকা ও প্রখ্যাত ঠোঁটসেবী বিনীতা। অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাজ্যের মাননীয় চুম্বন-মন্ত্রী শ্রী মখমল হালদার লতিকা ও বিনীতা দেবীকে ফুলের তোরা ও লিপ-স্টিক দিয়ে অভ্যর্থনা করবেন....ইত্যাদি, ইত্যাদি

Tuesday, January 29, 2013

গুরু

এ জীবনে গুরু ব্যাপারটা ভারী দরকারিপিতা পরম গুরু-ফুরু বাতেলা অতি নরমেই ঘুচে যায়। ছেলেবেলাতেই ইচ্ছে করে রিভার্স-স্যুইপ-খ্যাত নেত্যদার চরণে অজন্তা হাওয়াই হয়ে যাইনেত্যদার হাতের তালু আমার মাথার তালুতে না ঠেকলে যে পাড়ার টিমেও সাত নম্বরের আগে ব্যাট করতে নামা যাবে নাবয়স এগোলো, অন্য গুরু এলো অন্য খেলা শেখাতে; মেয়ে-খেলাএকজন কে খেলিয়ে খেলিয়ে যেই না ডাঙ্গায় তোলা অমনি গুরুভার চলে গেলো ঈপ্সিতার কাঁধে

বউ বললে মাই ওয়ে অর হাইওয়ে।

বস বললে- দ্যাখো বাওয়া, আমার জুতো চেরি-ব্লসমে নয়; তেলে চমকায়

এরপর হয়তো ডায়াবেটিক রক্ত আর বাইপাসিও হৃদয় বয়ে ছুটে যাবো দক্ষিণেশ্বর; পরমহংসের পদতলে থেবড়ে বসে বলতে হবে: “রহিসিয়ানার গোস্তাখি মাফ খোদা, ওসব নির্ভানা-টির্ভানাও আর চাই না- শুধু হাঁটুর বাত আর ছেলের হেরোইনের নেশাটা একটু কন্ট্রোলে এনে দাও গুরু”।  
  
এই গুরু থেকে ওই গুরুর হাতে খেলে গেলামঘুরে গেলামলটকে গেলামচমকে গেলামভেবড়ে গেলাম। গুরুভার বয়ে জীবন কাবার হয়ে গেলো। শুধু “বেওসা-বিজনেস” করে, নিষ্পাপ ভালোবাসাগুলো জানান দেওয়া হলো না। 

Sunday, January 20, 2013

রবিবারের শেষ পাতে

রবিবারটি মরে আসছে গো, মরে আসছেশনিবার বিকেল থেকে তা-ধই-তা-ধই বেয়াদপি নেচে চললামকচুরী খায়েগা, দুপুরে ঘুমায়েগা, বিশের চায়ের দোকানে আড্ডা মারেগা, ফ্রেঞ্চ ওপেনে মেয়েদের টেনিস দেখেগা, মটন গিলকে চিকেন কো ডাঁটা-মাফিক বোলকে গালি পাড়েগা, দায়-দাইত্বর নিকুচি করেগাধুর শালা

পলিটিকাল গুণ্ডাবাজি শেষ হয় না, বউয়ের চাহিদার ফিরিস্তি শেষ হয় না, কফি হাউসের আঁতলামি শেষ হয় না, আনন্দবাজারে পাত্র-পাত্রী বিজ্ঞাপন পড়ে শেষ হয় না - এই রবিবার শেষ হয় কেন ?

শুক্রবারের শেষ বেলায় দাঁড়িয়ে মনে হয় রবিবারের পর পৃথিবী ক্ষতমউইকেণ্ড-মুখী অফিসের শেষ বেলায় যে ফাইল হাফ-খামচা মেরে রেখে চলে এসেছি, সেই ফাইল কাল আমায় গিলে মুখ আচাবেবস কলার পাকড়িয়ে চেল্লাবে, “পাকড়াশীর ফাইল কমপ্লীট হয়নি কেন ? তোমার পাবলিক ফাঁসি হচ্ছে না কেন?”