Friday, January 18, 2013

মহাকাশে বাঙালি


বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে তৈয়ার হওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। পাক্কা তিন মাসের মহাকাশ-Cruise। অনন্তবাবুর কাছে এ এক হিল্লে ব্যাপার। দেড়-খানা গ্যালাক্সি জুড়ে প্রমোদ ট্যুর। নন্দী-ট্র্যাভেলস চমত্‍কার ডিসকাউণ্ট অফার করেছে। এই মাগ্গির বাজারে এত সস্তার এই মহাকাশট্যুর টা মিস করার মানে হয় না।তাছাড়া বেশ কিছুদিনের ছুটি জমে ছিলো। বে-থা নেই, ঝাড়া হাত-পা। দেড় বছরের মধ্যে রিটায়ারমেন্ট, এই তো ঘুরে নেওয়ার সময়। মিল্কি-ওয়ে ছাড়া অন্য কোনও গ্যালাক্সি  আজ পর্যন্ত দেখা হয়নি অনন্তবাবুর; শেমফুল। দু খানা বেঢপ সুইট-কেস আর একটা ঝোলা ব্যাগে সমস্ত জিনিষ-পত্তর ধরে গ্যাছে। দুগ্গা বলে হাউই-ট্যাক্সি ধরে সিধে গিয়ে হাজির হলেন টলিগঞ্জ এয়ার-বোর্ন সিটির নতুন এই ভাসমান টারমাকে। 

***

কাঁচের ১৭ তলা নন্দী-ট্র্যাভেল স্পেশ্যাল মহাকাশ-ক্রুজ-ক্র্যাফ্টয়ে মৌজ করে বসে আছেন অনন্তবাবু। কিউবিকেলের দ্বিতীয় বেডের সঙ্গীটি এখনো আসেন নি। কী মুস্কিল। আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে ক্রুজ যাত্রা শুরু করবে যে। লোকে এত দেরি যে কেন করে। একবার মনে হলো যে আর হয়তো কেউ আসবেন না। একা পুরো কিউবিকেল জুড়ে থাকতে পারবেন ভেবে মন্দ লাগছিলো না অনন্তবাবুর, তবে তিন মাসের ভ্রমণে একজন রুম-মেট পেলে সুবিধে হয়; এটাও একটা ফ্যাক্টর।

ক্রুজ-ক্র্যাফ্ট ছাড়তে যখন ঠিক আধ-মিনিট বাকি, তখন কিউবিকেলে হুড়মুড় করে ঢুকলেন অনন্তবাবুর কিউবিকেল সঙ্গী। তাড়াহুড়োর চোটে ভদ্রলোকের বেদম হাঁপাচ্ছেন।

হেসে-ভালোবেসে

মগ হবে তো এলুমিনিয়ামে
নাড়ু হবে তো মিল্কমেডি নারকোলে
মুড়ি মাখা হবে তো আম-তেলে।
ইলিশ হবে তো ডিমে টইটুম্বুর পেটীতে।
আড্ডা হবে তো গোল্ডফ্লেকে।
একলা হবে তো বৃষ্টিতে।
দোস্তি হবে তো খিস্তিতে।  
জানুয়ারীও ভাত-ঘুম হবে তো জেলুসিল আর লেপ-মুড়িতে।
প্রেম হবে তো হাত-চিঠিতে।
চুমু হবে তো জিভ-চকামে।

আর সুর হবে তো ব্যথায়
শিরশিরে চিনচিনে যন্ত্রনায়, অন্ধকারে। যখন দুমরে-মুচড়ে ঘাপটি মেরে থাকা যন্ত্রণাগুলো মাকে পায় না; তখন গুটিগুটি সলিল এসে জড়িয়ে ধরবেন ,

“কখন জানি না সে, তুমি আমার জীবনে এসে, যেন সঘন শ্রাবণে প্লাবনে দুকুলে ভেসে...শুধু হেসে; ভালোবেসে”

Sunday, January 13, 2013

আমি শুধু রইনু

ঠিক সন্ধ্যের মুখে। আজকাল লোডশেডিং এমনিতে হয় না, আজ হটাত্‍। অন্ধকার রাস্তা ঘেঁষা চুপড়ি আঁধারে ব্যালকনি। টুপটাপ ঝড়ে চলেছে শীত। গায়ের শাল, শরীরে লাক্স ও ঠোঁটে বোরোলীন মিলে মধ্য-বয়স্ক জানুয়ারীর মায়া-বসন্ত। বউটি হাওয়া; কোনও এক পার্লারে দেহ-লালনেআমার হাতে রয়েছে ফাঁকা কফির কাপ ও কোলে রয়েছেন ঘুপচি অন্ধকারে অসহায় ভাঁজ হওয়া মুজতাবাবেশবেশ

পকেটে রয়েছে মোবাইল। এখনই চুপুক করে কাউকে ফোনে ডাকতে পারি, ঝুপুক করে একটু ফেসবুকে উঁকি মারতে পারিচালিয়ে দিতে পারি এফ-এম; ,মিহি হিন্দী সুর বা কোন রেডিও জকির কোদাল-ধার মস্করায় নিজেকে বলতে পারি; লোডশেডিং আর আমাদের একা করতে পারে না

এও ভারি নাজুক হিসেব। আজকাল একা হওয়া যায় নাবাথরুমেও খবরের কাগজের ধর্ষণ নিমকি হাসে, মহা মুস্কিলহাল-ফ্যাশন আনন্দবাজারকে কমড-পণ্য বানিয়ে ছেড়েছে। একা আর থাকতে দেয় না দুনিয়া।

Saturday, January 12, 2013

বিবেকানন্দ ও আনন্দ



নেতাজীপল্লী নব বালক সংঘএলাকার তরুণ-তুর্কি তথা মধ্যমনিদের পাড়া-তুতো পার্লামেন্টদুর্গা-পুজো, শীতলা পুজোর মেলা, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যে, একটি রক্ত দান শিবির, একটি বস্ত্রদান উত্‍সব এবং একটি কাঙালি ভোজন আয়োজন করে থাকে প্রতি-বছরঅবশ্যই এর সাথে থাকে একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট, একটা একদিনের বিরাট ক্রিকেট প্রতিযোগিতা এবং দুটি ক্যারম টুর্নামেন্ট

ক্লাবের সেক্রেটারি বলাদার বাবা জগন্নাথ সমাজপতি সদ্য এম-এল-এ হওয়ায় ক্লাবের জাঁক দ্বিগুন হয়েছে। ক্যাশিয়ার হুলোদা আর ব্যাজার মুখে সর্বক্ষণ বসে থাকেন না। ক্লাব-ঘরে এসেছে নতুন কালার টিভি, দ্বিতীয় ক্যারাম বোর্ড।   

আধুনিক কেতা মেনেই নব-বালক সংঘেরও রয়েছে কোর-কমিটিকোর-সভ্যদের মধ্যে রয়েছে সেক্রেটারি বলা-দা, আড়তদার বিভুতিবাবুর পুত্র ও রিসোর্স শ্রীমান বাপ্পা, ক্যাশিয়ার হুলোদা, উঠতি পার্টি-কর্মী এবং প্রাক্তন হাত-বোমা বিশারদ গুলে এবং লিটল-ম্যাগিও কবি নবারুন ওরফে নবা

নতুন বছরে কোর-কমিটির ফুলকপির-সিঙ্গাড়া আর কড়া কফি সহ বৈঠক একটা ট্র্যাডিসনের মধ্যে পড়ে। যথারীতি বছরের প্রথম শনিবার, ক্যারামের আসর ভেঙ্গে যাওয়ার পর, ক্লাবঘরে সন্ধ্যে বেলা বসেছে কোর-কমিটি
আলোচনার সার-বস্তু কীভাবে আমার কাছে এসে পৌছলো সেইটে বলে কাউকে বিব্রত করতে চাই না। আমি শুধু সাজিয়ে দিলাম সেদিনের নব-বালক সংঘের কোর-কমিটিও আলোচোনাটা

বলাদা : “ উপেন ময়রার সিঙ্গাড়ায় আজকাল ফুলকপি খুঁজতে হলে লালবাজারের কুত্তা লাগাতে হবে, হিউমান নাকে ধরা পড়বে না এমন সিঙ্গাড়ার ট্রেস”
নবা: “ ইয়ে বলাদা, এ মাসের ফুটবল টুর্নামেন্টটা তো ক্যানসেল হয়ে গ্যালো, মাঠ পার্টি নিয়েছে সভা করবে বলে। কিন্তু কিছু একটা না করলেই নয়ইজ্জতে মরচে চড়ছে।“
বলাদা: হ্যাঁ, এমনিতেও একটা নতুন কিছু করা দরকার আমাদের। ওই শেতলা পুজোর মেলা আর রক্তদান ভারী এক ঘেয়ে হয়ে গ্যাছে"

Friday, January 11, 2013

পাবলিক ও কবি ও কবিতা

পাবলিক :

কি ? কবিতার বই কিনবো ? সে কি ? কিনলেই হলো নাকি? পড়বো কি করে ? গাইড বই কই ? ভূষণবাবুর টীকা-আলোচনা কই ? সুনীল-শ্রীজাত ব্লাফ মেরে গছিয়ে দেবেন তারপর কি সে সব মাল সাজিয়ে রাখবো? এই সেদিন ড্রয়িঙ রুমের শো-কেসটাও দিলাম বেচে, আসলে বিপিন ভালো একটা অফার দিলে, এমনিতেই ঘুণ পড়বে মনে হচ্ছিলো ;দিলাম চালান করে আর কিকাজেই ওই কাব্যির কেতাব যে সাজিয়ে রাখবো তারও উপায় নেই

আরে মশাই, ছেলেবেলা থেকে দেখছি মাস্টার মশাই কবিতা পড়ে যান, শিরোনামের মানে খোলসা করে দেন, ভাব বুঝিয়ে দেন, বিশেষ লাইনগুলো আন্ডারলাইন করতে বলেন; এত কিছু করে তবে গিয়ে কবিতাতে কি কাগের ঠ্যাং-বগের ঠ্যাং গপ্প আছে তা মালুম চলে। এরপরেও ছিলো সহায়িকা। এভাবেই তো কবিতা পড়তে শিখেছি, আউড়াতে শিখেছি। এ বয়সে এসে যদি বলেন এসব পদ্য পড়লেই বুঝে ফেলবোউঈদাউট মানবেন্দ্রবাবু বা দীপেনবাবুস ক্লাস, তো আপনি খেপেছেন। আনন্দলোক দিন চলবে; চেতন ভগতের বাংলা অনুবাদ দিন চলবে, এমনকি সুনীল-শীর্ষেন্দুর প্রেমের গপ্প-গদ্যও চলবে, কিন্তু কবিতায় ইনভেষ্ট করতে বলবেন না প্লিজ।