Thursday, January 10, 2013

কহাকা ইনসাফ

ভগবান, কমলালেবুই যদি দিলেন, তবে তাতে বীচি দিলেন কেন ? এমন শীতের মুচমুচে সকাল, সুমিষ্ট কমলা-কোয়া সড়াক-সড়াক করে মুখে মিলিয়ে যাচ্ছে। এর মাঝে, অমন মিনিবাসের সিটে পেরেকের খোঁচার মত লেবুর বীচিগুলি যে কী বিশ্রী।

মোটের ওপর, ব্রহ্মান্ডের হর্ত্তা-কর্ত্তা হিসেবে নিজের যাবতীয় ভালো কাজের মাঝে এমন বিস্তর চোনা ছিটিয়ে রেখেছেন স্যার, যে আর বলার নয়। ভিন্ডী বারো-মেসে ফল করেছেন আর ফুলকপি ডিসেম্বরিয়া; কহাকা ইনসাফ গুরু। চোখ জুড়ে নিউ মার্কেটের পসরা রেখেছো, পকেটে ধাপার মাঠ। কহাকা ইনসাফ।

Wednesday, January 9, 2013

যেমন করে জড়িয়ে ধরা

যেমন করে জড়িয়ে ধরা

অল্প সুরে, স্পষ্ট মনে, অন্য কথায়। অন্য গানে। সুমনে। ধুলো-ময়লা-মাখা ধোঁয়া মাখানো ফুসফুসে। বিবাদিবাগে।ওই হাঁটু-জলে ঢেকে থাকা চকিত ম্যানহোলে, মিউনিসিপালিটির মিচকি হাসিতে। দেওয়ালে দেওয়ালে ফুটে থাকা আব্দারে, আমাদের ভোটে। ফুটপাথের দোকানি আর আমাদের হাঁটতে না পারায় সম্প্রীতিতে, মিনিবাসে ঘামে। বাংলা মনে কলকাতা বুঝে,ফালতু বিলেত খুঁজে, ভুল বুঝে।
যেমন করে মায়ের জড়িয়ে ধরা।

এক পরিচিতের আজ চাকরি গ্যালো।

স্মৃতি-গাঁট্টা

কফি-শপের কোনে চেয়ার টেনে নিয়ে বসতেই চমক

-   পচা না ?”

দেখি, মিতুস্কুলের সহপাঠী। অঙ্ক টিউশনের সহ-যোদ্ধা। স্কুলের গড়পড়তা বন্ধুত্বের মত স্কুলেই খতম যোগাযোগ। মাঝখানে বারোটা বছর, আজ ফের দ্যাখা

-   “তুই মিতু না ?”
-   “কফিশপে একা ?”
-   “অপেক্ষায়, তুই ?”
-   “অপেক্ষায়, তুই ঢোকার পর থেকেই আমি তোকে নীহারছিলাম

Monday, January 7, 2013

ট্রাম -দুর্ঘটনা


গড়িয়াহাট থেকে চটপট উঠে পড়লাম ট্রামে। টিপ-টিপ বৃষ্টি এড়িয়ে রাসবিহারীর ওদিকে চলে যাবো সহজেবেদম ভীড়ফুটবোর্ড ছাড়িয়ে কোনও মতে দু পা এগিয়েই দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। ক্ষতি নেই। কয় মিনিটের ব্যাপার। হ্যান্ডেল আঁকড়ে গৌরাঙ্গ হয়ে দু-তিন মিনিট। কী আর ক্ষতি।

গায়ে চেপ্টে কলকাতার রকমারি ঘাম। ঘাম-গন্ধ বিচার করে কি শার্লক জনৈকের মুদ্রাদোষ চিনতে পারতেন ? বোধ হয় না, লন্ডনে কি আর এমন প্যাচ-প্যাচে ঘামের হিসেব আছে ছাইআমি ঘাড় নাড়তে পারছি না কিন্তু একজন জেলি-লজেন্স বিক্রেতা ভীড় ম্যানেজ করে সুড়সুর করে ভেতরে চলে গেলেন

শুধু ঘামের গন্ধ নয়, ভালো করে নাক-ফোকাস করলে অনেক নাসিক-রসদ জুটে যায়; ট্রামের নিজেস্ব গন্ধ, সহযাত্রীর ব্যাগ-বন্দী কাগজের ঠোঙ্গা আর তেলেভাজা মেশানো গন্ধ, নারকোল তেলে চুপচুপ তেলের গন্ধ। অলফ্যাক্টরি সেল্স্সয়ের এমন জিম আর হয় না।

চা'য়ের চাওয়া

বোলপুর যাওয়ার পথে। ইলামবাজারের কাছাকাছিই হবে। রাস্তার ধারের একটা ছোট্ট চায়ের দোকান। সেখানেই থামলেন এক সুডৌল চার-মাথার পরিবার; পিতৃদেব, মা, বেটার-হাফ আর ব্যাজার-হাফ। পরিবারটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চায়ের অর্ডার দিয়েই নিজেদের শর্তগুলো শুনিয়ে গেলেন।

পিতৃদেব বললেন যে তার চা যেন চিনামাটির কাপেই আসে। পেয়ালা-মেজাজ বিনে চা-পান বৃথা।
মা অমনি বললেন, হাজার মুখের এঁটো কাপ যেন তাকে না দেওয়া হয়, প্লাস্টিকের কাপ ছাড়া তিনি চা গ্রহণ করবেন না।
ঝকঝকে বেটার-হাফ পুত্রবধুটি  কুই করে কইলেন যে এঁটো কাপ তো চলবেই না, এমনকী প্লাস্টিকও নাকি যথেষ্ট প্রো-প্রকৃতি নয়, অতএব তাকে যেন কাগজের কাপে চা দেওয়া হয়।
ব্যাজার-হাফ পুত্র সোজাসুজি জানালেন যে মাটির ভাঁড় বিনে নাকি রাস্তার চায়ের স্বাদ ঘনীভূত আদৌ হয় না।