Monday, January 7, 2013

ট্রাম -দুর্ঘটনা


গড়িয়াহাট থেকে চটপট উঠে পড়লাম ট্রামে। টিপ-টিপ বৃষ্টি এড়িয়ে রাসবিহারীর ওদিকে চলে যাবো সহজেবেদম ভীড়ফুটবোর্ড ছাড়িয়ে কোনও মতে দু পা এগিয়েই দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। ক্ষতি নেই। কয় মিনিটের ব্যাপার। হ্যান্ডেল আঁকড়ে গৌরাঙ্গ হয়ে দু-তিন মিনিট। কী আর ক্ষতি।

গায়ে চেপ্টে কলকাতার রকমারি ঘাম। ঘাম-গন্ধ বিচার করে কি শার্লক জনৈকের মুদ্রাদোষ চিনতে পারতেন ? বোধ হয় না, লন্ডনে কি আর এমন প্যাচ-প্যাচে ঘামের হিসেব আছে ছাইআমি ঘাড় নাড়তে পারছি না কিন্তু একজন জেলি-লজেন্স বিক্রেতা ভীড় ম্যানেজ করে সুড়সুর করে ভেতরে চলে গেলেন

শুধু ঘামের গন্ধ নয়, ভালো করে নাক-ফোকাস করলে অনেক নাসিক-রসদ জুটে যায়; ট্রামের নিজেস্ব গন্ধ, সহযাত্রীর ব্যাগ-বন্দী কাগজের ঠোঙ্গা আর তেলেভাজা মেশানো গন্ধ, নারকোল তেলে চুপচুপ তেলের গন্ধ। অলফ্যাক্টরি সেল্স্সয়ের এমন জিম আর হয় না।

চা'য়ের চাওয়া

বোলপুর যাওয়ার পথে। ইলামবাজারের কাছাকাছিই হবে। রাস্তার ধারের একটা ছোট্ট চায়ের দোকান। সেখানেই থামলেন এক সুডৌল চার-মাথার পরিবার; পিতৃদেব, মা, বেটার-হাফ আর ব্যাজার-হাফ। পরিবারটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চায়ের অর্ডার দিয়েই নিজেদের শর্তগুলো শুনিয়ে গেলেন।

পিতৃদেব বললেন যে তার চা যেন চিনামাটির কাপেই আসে। পেয়ালা-মেজাজ বিনে চা-পান বৃথা।
মা অমনি বললেন, হাজার মুখের এঁটো কাপ যেন তাকে না দেওয়া হয়, প্লাস্টিকের কাপ ছাড়া তিনি চা গ্রহণ করবেন না।
ঝকঝকে বেটার-হাফ পুত্রবধুটি  কুই করে কইলেন যে এঁটো কাপ তো চলবেই না, এমনকী প্লাস্টিকও নাকি যথেষ্ট প্রো-প্রকৃতি নয়, অতএব তাকে যেন কাগজের কাপে চা দেওয়া হয়।
ব্যাজার-হাফ পুত্র সোজাসুজি জানালেন যে মাটির ভাঁড় বিনে নাকি রাস্তার চায়ের স্বাদ ঘনীভূত আদৌ হয় না।

Friday, January 4, 2013

আসুন, ঢেকে ফেলি

আমরা ভারতীয়জিনিষ-পত্তর আমরা সযত্নে ঢেকে রাখি; আগলে রাখি; চির-নতুন করে রাখি।

আমরা ফ্রিজ ঢাকি কভারে; ওয়াশিং মেশিন, এমন কী মাইক্রোওয়েভ যন্ত্র ঢেকে রাখি নরম কাপড়ে। আহা দামি জিনিষ সমস্ত, যেন ধুলো না বসে গায়ে
ডাইনিং টেবিলের গায়ে পাতা বাহারি টেবিল ক্লথ এবং সেই বাহারি ক্লথ বাঁচাতে তার ওপর পাতা স্বচ্ছ প্লাস্টিক মোড়ক।
নতুন মোবাইল ? স্ক্রীন-গার্ড আঁচড় বাঁচতে, ব্যাক-কভার মোবাইলের রঙ বাঁচাতে।

Thursday, January 3, 2013

সিংহ

মন দিয়ে কম্পিউটারে হিসেব করে চলেছিপৃথিবী ভ্যানিস হয়ে গ্যাছে চোখের সামনে থেকেশুধু মাইক্রোসফ্ট-এক্সেলের কারিকুরি আর কী-বোর্ডে আঙ্গুলের খট খটমুণ্ডু স্থির-শুধু চোখের এপাশ-ওপাশতিরিং-তিরিং করে এক স্প্রেডসীট থেকে অন্যতে ছুটে চলেছে কারসর, ফর্মুলার ভেলকি ছুটছে সমস্ত এক্সেলিও খোপেমগজ মনসংযোগের চোটে অবশ হয়ে আসছে। আমি অর্জুন, ওই এক্সেল ফাইল আমার পাখির চোখ! উত্তেজনা।

এ সব সময়ে,এই প্রবল নিরবিচ্ছিন্ন ফোকাস কে এদিক হতে দেওয়া যায় না।

চাপরাসি চা নিয়ে এলো – “ সাহাব, চায়”
আমি তো আগুন : “চায় চায় করে উদ্ধার করেগা ? দেখতা নাহি ব্যস্ত হ্যায় ? ভাগ”

পিওন ফাইল নিয়ে এলো – “ একটা সই দরকার ছিলো স্যার”
ডিসগাস্টিং। “ এইটাই তোমার সময় হলো ফাইল আনার ? ইউসলেস ফেলো কোথাকার!”

হেড-ক্লার্ক একটা প্রশ্ন নিয়ে এলো – “ মুখার্জীদা, এই স্টেটমেন্ট একটু আবার দেখুন তো...”
অসহ্য। গর্জে উঠতে হলো “ আচ্ছা আমি কী একটু যত্ন করে কাজ করতে পারবো না ?কিসের স্টেটমেন্ট ? নাউ ইজ নট দ্য টাইম!”

Tuesday, January 1, 2013

বলো দেখি কত দূরে যাবে



বসে বসে গাইছিলেনগানটা শেষ হতেই, গীটারটা কাঁধে ঝুলিয়ে দাঁড়ালেন। গীটারে একটা টুঙ দিয়েই মিচকি হাসি দিলেন। সম্ভবত গীটারটার প্রতিতারপর, সপাট চাইলেন সামনের অন্ধকারে ঢেকে থাকা দর্শক আসনের মুখগুলোর দিকে। ওই মুখগুলি দেখতে হয়তো সুমনের বাহির-বাতির দরকার তেমনটা হয় না।

মিচকি হাসিটা আলতো প্রসারিত করেই গলা ছাড়লেন : “ ছেড়েছো তো অনেক কিছু পুরনো অভ্যেস...”
ঠিক যেন এতক্ষন তাঁর আর দর্শকদের মধ্যে মুষ্টিযুদ্ধ চলছিলো; বহুক্ষণ সেটা চলায় তিনি ক্লান্ত হয়ে পকেট থেকে রিভলভার বার করে দড়াম করে ফায়ার করলেন।

মুখে গেয়ে চললেন, “অসুখ বিসুখ হওয়ার পরে জিলিপি সন্দেশ...”। দৃষ্টিতে তিনি খেলে ক্ষতমের ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, “ কেমন, দেখলে তো ? তোমাদের সব কটা হৃদয়কে এক ধাক্কায় অবশ করে দেওয়া আমার বাঁয়ে হাত কা খেল ? দেখলে তো ?”

উপচে পড়লো পরিচিত গান;
“ছেড়েছো তো অনেক কিছুই পুরনো বোল-চাল
পুরনো ঘর পুরনো ঘর কুড়োনো জঞ্জাল
হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে