Tuesday, January 1, 2013

বলো দেখি কত দূরে যাবে



বসে বসে গাইছিলেনগানটা শেষ হতেই, গীটারটা কাঁধে ঝুলিয়ে দাঁড়ালেন। গীটারে একটা টুঙ দিয়েই মিচকি হাসি দিলেন। সম্ভবত গীটারটার প্রতিতারপর, সপাট চাইলেন সামনের অন্ধকারে ঢেকে থাকা দর্শক আসনের মুখগুলোর দিকে। ওই মুখগুলি দেখতে হয়তো সুমনের বাহির-বাতির দরকার তেমনটা হয় না।

মিচকি হাসিটা আলতো প্রসারিত করেই গলা ছাড়লেন : “ ছেড়েছো তো অনেক কিছু পুরনো অভ্যেস...”
ঠিক যেন এতক্ষন তাঁর আর দর্শকদের মধ্যে মুষ্টিযুদ্ধ চলছিলো; বহুক্ষণ সেটা চলায় তিনি ক্লান্ত হয়ে পকেট থেকে রিভলভার বার করে দড়াম করে ফায়ার করলেন।

মুখে গেয়ে চললেন, “অসুখ বিসুখ হওয়ার পরে জিলিপি সন্দেশ...”। দৃষ্টিতে তিনি খেলে ক্ষতমের ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, “ কেমন, দেখলে তো ? তোমাদের সব কটা হৃদয়কে এক ধাক্কায় অবশ করে দেওয়া আমার বাঁয়ে হাত কা খেল ? দেখলে তো ?”

উপচে পড়লো পরিচিত গান;
“ছেড়েছো তো অনেক কিছুই পুরনো বোল-চাল
পুরনো ঘর পুরনো ঘর কুড়োনো জঞ্জাল
হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে

Monday, December 31, 2012

কসম নববর্ষের


নিউ ইয়ার ইজ হিয়ার। সামগ্রিক ভাবে উত্তেজিতনা, রাতে অফিস পার্টিতে মাগনা-মদের ফোয়ারা ছুটবে বলে নয়, রিসলিউশণের সময় চলে এসেছে বলেনতুন বছরে অমুক-পণ, তমুক-পণ করে নিজের কলজেটাকে চাঙ্গা রাখাটা বিশেষ জরুরীতাছাড়া আজকাল নিউ ইয়ার রিজলিউশন ব্যাপারটা বেশ চলতি, এক-দুটো বাজারে না ছাড়তে পারলে লোকে ভাববে উলুবেড়িয়া থেকে লুঙ্গি পড়ে এসেছে বোধ হয়

তবে ব্যাপারটা আমি বেশ সিরিয়াসলি নিচ্ছিস্পষ্ট একট লিষ্টি-সৃষ্টি করেছি; ২০১৩ জুড়ে কী করিবো; কী করিবো না :

মুলাকাত

সমুদ্দুরের ধারে বসেরাত সোয়া এগারোটাশেষ ডিসেম্বরছ্যাত করে ছুয়ে যাওয়া হাওয়াপুরোনো দীঘার সৈকত-চত্তর প্রায় সম্পুর্ন ফাঁকাশেষ চা-ওয়ালা এলুমিনিয়ামের বালতি বয়ে ওয়াপস চলে গেছে আধ ঘণ্টা আগে। এই ঠান্ডায় একটু চা পেলে মন্দ হতো না কিন্তু উপায় নেই; তার জন্যে হোটেলে ফিরতে হবে। কিন্তু বসে থাকতে থাকতে নেশা ধরে গেছিলো। উঠতে গভীর অনিচ্ছা। অগত্যা গায়ের শালটাকে আরও আঁকড়ে বসলাম।

অফিসের সঙ্গী-সাথীরা হোটেলে আড্ডায় মশগুল। ফেরত গেলে সেই গতানুগতিক আধো-অফিস-আড্ডা। ধুর সমুদ্রের ধারে এমন নিরবিলি খুঁজে পেলেই বাপ্টুদার সেই অমোঘ বাতেলাতা মনে পড়ে যায় ; “ সমুদ্রের বালি-জল-হাওয়া মেলানো পরিবেশের মত এমন ল্যাদানুকূল পরিবেশ আর হয় না। হুল্লোড় বিহিন সমুদ্রের দিকে চেয়ে থাকার চেয়ে স্বাস্থকর মেডিটেশন আর হয় না।

ছোটমামা বলেন; পুরীর সমুদ্র হচ্ছে সত্যজিত আর দীঘার সমুদ্র হচ্ছে সন্দীপ। অনস্বীকার্যতবে পুরোনো দীঘার সৈকতের এই বিশেষ নিরবিলি অঞ্চলটি আমার ভীষণ প্রিয়, খোঁজ দিয়েছিলো ছোটমামা'ই

আলু-থালু ভাবতে ভাবতে চোখে একটু ঝিম লেগে এসেছিলো এমন সময় অনুভব করলাম পিঠে কেউ হাত রেখেছে।

Sunday, December 30, 2012

খালাসীটোলা কী ভাবে মুছে যাবে

এদিকে
অনলাইন-সোস্যাল-বাজারি পরিবেশে, জনৈকার সাথে জনৈকয়ের অচানক আলাপআপনি-সম্বোধন ঝনাত করে সম-বয়স্কতা ও সম-মনস্কতা আবিষ্কার করে এবং  তুইতে নেমে আসা। ঈষত স্নেহ ও ডাকনাম বিনিময়। বন্ধু-সুলভ গদ্য কথা।

এমন সময় প্রশ্ন আসে পান-প্রীতির। বেবাক সাড়া দুজনেরই। দুটো সপাট খালাসিটোলা ভ্রমণের ইচ্ছে মুখোমুখি মিলিত হয়একে অপরের মন চাপড়ে নেয়। বাংলায় গান মেলে, চোলাই তালে।  

মন-ছন্দ মিলে দুজনে স্বীকার করে যে নেশা মদে নয়; সেবন-পরিবেশে লুকিয়ে রয়েছে। অতএব একে অপরকে আর একটু বুঝতে; চিনে নিতে হবে একে অপরের প্রিয় কোলকাতাইয়া-মাদক পরিবেশটিকে।
শুরু করলেন জনৈকা। নিজের প্রিয় মদ্য-ঠেকের লিস্টি;
সবেকিয়ানা-সিক্ত-ব্রডওয়ে হোটেল থেকে রুফ-টপ-রোম্যান্স-মাখা-ব্লু এন্ড বিয়ণ্ড থেকে সাহেবি-স্মার্ট-রুচি-রঞ্জিত-অলিপাব হয়ে অন্য মেজাজের সঙ্গীত-সহ নেশা ছড়ানো ট্রিন্কাস পর্যন্ত

Saturday, December 29, 2012

বিদায় পরিচিতা

এই ছিলুমএই হাপিস

বাবার চাকরি, বাবার ভোট, মার হাতের পরোটা, মার ভোট, দাদার ক্রিকেট, দাদার ভোট
আমার কলেজ, আমার সদ্য একুশ, আমার হরিণ মাংস, আমার ভোট
আমার বন্ধুরা, আমার বন্ধুটিআড্ডা-গপ্প-শয়তানীআমাদের এক রাশ ভোট

আমার বিদেশ ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন, সুইজারল্যান্ড বা সিংগাপুরআহ, আর আমার ভোটটি।

বাবা বলতেন, আমি পড়াশোনা শেষ করে নিজে চাকরি করে বিদেশ ঘুরে আসবো। বাবা-মাকেও ঘুরিয়ে আনবোতিনটি ভোট, সেজে-গুজে বিদেশ ঘুরে আসবে
মা বলতেন; আমার বর আমায় বিদেশ নিয়ে যাবে। অন্য একটি পরিবারঅন্য একগুচ্ছ ভোট
বন্ধুটি বলতো আমি তোমায় বিদেশ দেখাবো, দুর্দান্ত সব ল্যান্ডস্কেপ্স, মন মাতানো শহর; প্রযুক্তির বিস্ফোরণ। সমস্ত”। একটি অসহায় সহ-পড়ুয়া ভোটনাদান ভোট
সবাই জেনে গেছিলো যে এই বুদ্ধু লড়কী বিদেশ ঘুরতে যেতে চায়।