Sunday, December 9, 2012

ট্যাক্সির টক্করে

উবের ওলার ঠেলায় কলকাতার ট্যাক্সি অ্যাডভেঞ্চার কমে আসছে। ইলেক্ট্রনিকালি সার্জ-সহ ভাড়া দিতে গায়ে লাগে না। টেকনোলজির কাঁঠাল কেউ মাথায় দমাদম ভাঙলেও গায়ে লাগে না। কিন্তু ওলা-উবেরের আগে ব্যাপারটা অন্য রকম ছিল। শুধু অন্য রকম নয়; রীতিমত অ্যাডভেঞ্চার।
আমি সেই সব দিনগুলোতে অ্যাডভেঞ্চারিস্ট ছিলাম । ট্রেকিংয়ে গিয়ে নয়, জঙ্গলে পথ হারিয়ে নয়; আমার যাবতীয় অ্যাডভেঞ্চার ছিল কলকাতায় ট্যাক্সি পাকড়াও করার গালগল্পে। সে এক জমজমাট উত্তেজনা, বুকে দমাদম হাতুড়ি।

কী রকম?

এই ধরুন রাত আটটা। পার্ক স্ট্রিট। ফাঁকা এক জোড়া ট্যাক্সি ফুটপাথ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে।
প্রথমটিকে ধরলাম; “বালিগঞ্জ ফাঁড়ি যাবে ভাই?”
-“বেহালা যাবেন দাদা?” সপাট উত্তর।
-“বেহালা? আরে আমি চাইছি বলিগঞ্জ যেতে....বালিগঞ্জ ফাঁড়ি”!
-“আমি বেহালা যাবো, ইচ্ছে হলে চলুন...নয়ত অন্য ট্যাক্সি দেখুন”।
-“ইয়ার্কি পেয়েছেন নাকি ? আমি বালিগঞ্জ যাব!”
-“পঞ্চাশ টাকা বেশি লাগবে, বলিগঞ্জ যেতে হলে...”।
-“কী ? জুলুম নাকি ?”।
-“গলা তুলে আওয়াজ দেবেন না স্যার, গায়ে পড়ে ইনসাল্ট সহ্য করবো না...”!
-“বটে?আপনি এমএলএ অনিল মিত্রকে চেনেন? আপনি জানেন সে আমার কে হয় ”?
-“ আপনি জানেন হাত কাটা কার্তিককে চেনেন? আপনি জানেন সে আমার কে হয়”?
_ “বটে? আপনার গাড়ির নম্বর আমি পুলিশে দেবো”!
-“বিধানসভায় দিন, কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করবেন না”!

ভীষ্ন জরুরী দরকার। ট্যাক্সি না পেলেই নয়। হুড়মুড় করে ছুটে গেলাম পাশেই দাঁড়িয়ে থাক দ্বিতীয় ট্যাক্সিটির কাছে। ভাবলাম এইবারে নিজেই ট্যাক্সির দরজা খুলে গ্যাঁট হয়ে বসে পড়ব। তবে দরজার হাতলে হাত দেওয়ার আগেই ড্রাইভারের প্রশ্ন: “দম করে দরজা খুলবেন না স্যার, যাবেন কোথায়”?

-“ যেখানেই যাই,আপনি নিয়ে যাবেন”, কড়া হতে চেষ্টা করলাম। গলা ইস্পাত কঠিন করতে চাইলাম কিন্তু কেমন একটা কুঁক শব্দ বেরিয়ে সব মাটি করল।
-“ট্যাক্সির ইঞ্জিন ডাউন হতে পারে”, নির্ভীক উত্তর।
-“ইঞ্জিন ডাউন হতে পারে? হতে পারে মানে কী? ইঞ্জিন ডাউন আছে না নেই”?
-“যাবেন কোথায়”?
-“সেটা শুনে বলবেন যে সত্যি ইঞ্জিন ডাউন কী না”?
-“অত কথার সময় নেই আমার”!
-“বালিগঞ্জ যাবো”!
_ “আশি টাকা বেশি লাগবে”।
-“হোয়াট ? আশি? মগের মুলুক নাকি?”
-“ইঞ্জিন ডাউন আছে, অন্য ট্যাক্সি দেখুন”।
-“পঞ্চাশ টাকা বেশি দিতে রাজি আছি”, সত্যিই ভীষণ জরুরী দরকার ছিলো।

-“উঠে বসুন”, পেছনের দরজা খুলে দিতে দিতে বললেন ড্রাইভার-দাদা।

Wednesday, November 28, 2012

বিবাহ বার্ষিকী

“বিবাহবার্ষিকী”র মধ্যে একটা রবীন্দ্র-জয়ন্তীজাত ব্যাপার ছিলো। এই সেই দিন পর্যন্ত। রবীন্দ্রনাথের ঝাড়-পোছ করা ক্যালেণ্ডার বাঁধানো ছবির মত বউটি সন্ধ্যে থেকে এসো-বসো ভঙ্গিতে প্রস্তুত। রঙিন হাফ পাঞ্জাবিতে পুরোনো হয়ে যাওয়া বর-রূপি ধুপ কাঠি। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের শুভেচ্ছার হারমোনিয়াম।

Friday, November 16, 2012

ভালো থাকুন সায়ন্তনি

আজ এ শহরে এক মধ্যবয়স্ক দম্পতী ছুটে আসছেন। একে অপরকে সামলে রাখবার প্রবল চেষ্টা করে চলেছেন দুজনে। তবু সমস্ত কিছু চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে। দাউ দাউ আগুনে চামড়া গলে যাওয়ার যন্ত্রনা। বুকের রক্তে ঠান্ডা জল মিশে যাওয়ার আভাস। কষ্ট শব্দটি কী আলখেল্লা। মানুষ মারা যাওয়ার সময় কেমন কষ্ট হয় ? দু:খ টের পাওয়া যায় ? স্বামী-স্ত্রী সযত্নে ভাবতে চাইছেন। ভেসে যেতে চাইছেন। চুরমার হতে চাইছেন। মারা যেতে চাইছেন।

এই মূহুর্তে, যখন আমরা কেউ অফিসে ব্যস্ত, কেউ রাস্তায়, কেউ চাকরির খোঁজে, কেউ ঘরের আরামে, কেউ দুপুর ঘুমে; দুইজন মানুষ সুতীব্র ভাবে ধেয়ে আসছেন কোলকাতার দিকে। ছুটছেন, অথচ পৌছতে চাইছেন না

Thursday, November 8, 2012

বং প্যাকিং -(দ্বিতীয় কিস্তি)

বাঙালির  দিগ্বিজয়ে বেরোতে এমন কোনও তোপ-প্রস্তুতি লাগে নাঅতি সহজ কয়টি সরঞ্জাম জুটে গেলেই বাঙালি অতি সহজে বিশ্ব-ভ্রমণ করে আসতে পারেন। সেগুলো কী?

(আগাম বলে রাখা : লিষ্টিটি ঘোরতর পুরুষ-রুচি ভিত্ত্বিক )

১। জেলুসিল এবং ইসবগুল। কম্যুনিজ্ম এবং ক্যাপিটালিজ্ম; দুটো দিকয়েই সামাল দেওয়ার সঠিক প্রস্তুতি তো চাই।

২। টর্চ। অন্ধকারে হেল্পলেস হয়ে ল্যাজে-গোবরে হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। নেকু পুচকে মাল নয়; চার কী পাঁচ সেলের মিনি গদা মার্কা টর্চ; আলোর আলো, অস্ত্রর অস্ত্র।

Tuesday, November 6, 2012

নারী ঠ্যাকাতে নারি


পুরুষ কণ্ঠ : যা বলছি, মন দিয়ে শোনোএবার থেকে আমার এলাকায় তোমার ধেই ধেই করে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ানো চলবে না

নারী কণ্ঠ: হে: , শখ দ্যাখো বুড়োরভারী তো ভূতুড়ে এলাকার মালিক, তার এলাকায় আবার ঘুরে বেড়ানো বারণ। আর এই হাড় হিম কড়া ঠাণ্ডায় কোন ভদ্রমহিলা ঘুরে বেড়াতে চায়?

পুরুষ কণ্ঠ: খবরদার গিন্নী! আমার পাড়া নিয়ে কুত্‍সা করেছো কি....

নারী কণ্ঠ: কি করবে মিনসে? ঝুটি ধরে মাথায় জেনুইন অর্ধ-চন্দ্র বসিয়ে দেবো....

পুরুষ কণ্ঠ: আহ:, লজ্জা নারীর ইয়ে....

নারী কণ্ঠ: থামো....ন্যাকা ভূত।

পুরুষ কণ্ঠ: না মানে বলছিলাম কি, এ পাড়ার আমিই নেতা কিনা, তাই আমি ভাবছিলাম যে নিয়ম করে দেবো যা পাড়ার রাস্তায় মেয়ে-বৌদের বেরোনো বারণ....

নারী কণ্ঠ: পেটে পেটে এতো ? মেয়েদের বাইরে বেরোনো বারণ? এই দু;সাহসের কারণ?

পরুষ কণ্ঠ: আহ চটছো কেনো ডার্লিং, আসলে নেতা হিসেবে তেমন কেউ মানতে চাইছে নে, আমার ডাইরেক্ট এসিসট্যান্ট দুজনেই আমায় গাঁজাখোর বলে আড়ালে ঠাট্টা করে। এমন অবস্থায় একটা কঠিন নিয়ম যদি বলবত্‍ নাই করতে পারি, তবে তো ইজ্জত্‍ ধুলোয় মিশবে....

নারী কণ্ঠ: অ! তোমার কেরদানি দ্যাখাবে বলে মেয়ে চাবকানো নিয়ম চালু করা? মানবো না!

পুরুষ কণ্ঠ: আহ, স্যুইটি! একটু ভেবে দ্যাখো দেকিনি, দন্ড-মুণ্ডের কর্ত্তার ওয়াইফ যদি নিয়ম না মানে, পাবলিকে মানবে নাকি?

নারী কণ্ঠ: তোমাদের মত মালের চামড়া ছাড়িয়ে ডুগডুগি বানানো উচিত্‍...