Thursday, October 11, 2012

পুজোর ছক

পুজো ইজ হিয়ার
মেদু-বৌদি হিল স্টেশন ও বালুচরীর প্ল্যানে মশগুল
মেদু-পুত্র বিল্টা লজিষ্টিকাল ছক কষছে রকমারি রকমারি রেস্তের রেষ্টুরেন্ট গমনের।  
মেদু-কন্যা গোপন দশমী ডেট ও মিনিতর মিনি-স্কার্টের প্রতি নিবেদিত প্রাণ।

তামাম বুদ্ধি একজোট হয়ে  পুজো ব্লু-প্রিন্ট কনক্রিট:

চতুর্থী শপিং।
পঞ্চমী তো অষ্টমি দার্জিলিং এন্ড ব্যাক টু ক্যালক্যাটা।  
অষ্টমী ডিনার টু দশমী লাঞ্চ তক আরসালান-মোকাম্বো-ট্যাঙ্গরা থেকে পিটার ক্যাট।
দশমী রাত্রে কন্যার অভিসার।
গিন্নী ঝকমক। পুত্র-কন্যা ডগমগম্যাডক্স স্কোয়ারে গ্রুপ ফটোমেদুদা এন্ড ফ্যামিলি- সহাস্যইস্টম্যান কালার মাখা পুজো মস্তি।

শুধু মেদুদার প্ল্যানটুকু আর খোলসা করা হলো না কারুর কাছে। মেদুদার ভারী ইচ্ছে ছিলো ভদ্রেশ্বরে পৈত্রিক ভিটেতে গিয়ে গোটা পুজোটা গ্যাট হয়ে বসে থাকা।

বাবার স্মৃতিমায়ের নরম আঙ্গুলে চুলে বিলি কেটে যাওয়ামায়ের হাতের ঝিঙ্গে পোস্ত, লাউ চিংড়ি। 
ছেলেবেলার পুজোর গন্ধপাড়ার আদুরে মণ্ডপচেনা মুখ চারিদিকেতুমি-তুই-আপনিতে জমজমাট। মণ্ডপ চত্তরে স্টেজ বেঁধে নাটক, খিচুড়ি ভোগ, অঞ্জলি, সন্ধি-পুজো, প্ংক্তি ভোজন, ধুনুচি নাচ, আড্ডা, বারোয়ারী বেগার খাটা, ভোগ পরিবেশন, সিদ্ধি, হাড়ি ভাঙ্গা প্রতিযোগিতা,  বিসর্জনের নাচ: শৈশব, কৈশোর এবং ফেলে আসা সহজ সরল ভালোবাসাগুলো। 

প্রতি বছরের বুক মুচড়ে ওঠা পুজোর প্ল্যান মেদুদারকোনও বারই খোলতাই করে ছেলে-মেয়ে-বউ কে বলে ওঠা হয় নাবাকি সবার কত রকমারি প্ল্যান। কত প্রস্তুতি
প্রতি বছর পুজোর ফ্যামিলি-ফটোতেনিজের শহীদ-শারদ-ইচ্ছেগুলোকে ছয় সেন্টিমিটারের ক্যামেরা-অনুগত হাসিতে ঢেকেবুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মেদুদা
বয়েস মা আমি তোমার কাছে যাবোবলার অধিকার,  বহু আগেই লোপাট করে দিয়েছে 

Wednesday, September 26, 2012

পুজোর ছুটি ঘটিত


দত্ত: মে আই কাম ইন স্যার?
বস: দস্তুরের ফাইলটা কমপ্লিট করেছো?
দত্ত: ইয়ে স্যার ,ওই আর ঘন্টা-খানেকে হয়ে যাবে স্যার
বস: তাহলে ইয়ে দত্ত, তুমিও ঘন্টা-খানেক পরেই এসো
দত্ত: ভারী আর্জেণ্ট স্যার!
বস: দস্তুরের ফাইলের চেয়েও বেশি?
দত্ত: ইয়েস স্যার!
বস: প্রমোশোন নিয়ে ন্যাকা কান্না জুড়বে না তো?
দত্ত: না স্যার
বস: কাম ইন
দত্ত: থ্যাঙ্ক ইউ স্যার
বস: কী ব্যাপার? দস্তুরের ফাইলটা এখনো কমপ্লিট হলো না?
দত্ত: ওই যে বললাম, আর ঘন্টা খানেক...
বস: তবে তার আগে এসেছো কেনো?
দত্ত: ইয়ে স্যার, ভারী জরুরি ব্যাপার!
বস: জলদি বলে ফেলো, টাইম ইস মানি এন্ড মানি ইজ ইন দস্তুরস পকেট

Tuesday, September 25, 2012

মনের বাইসেপ, হৃদয়ের ট্রাইসেপ


“এই যে স্যার, হ্যাঁ, এই যে, আপনাকেই বলছি স্যার,গুড মর্নিং, এই যে ট্রেড-মিলে ঝড় তুলে আপনি বেদম দৌড়চ্ছেন, এ তে আপনার মেদ ঝড়ছে ঠিকই, কিন্তু মগজের জং সাফ হচ্ছে কই?হৃদয়ের ঝুল ঝাড়-পোছ হচ্ছে কই? কলজেতে হাওয়া খেলছে কই? চাবুক শরীরে খেন্তী-বুড়ির মন পুষে কী লাভ? মাল্টি-জিম ছেড়ে মনটি জিমে দিন। দৈন্য দূর করুন।

রোল-কাবাবের তেলে রক্ত ভরিয়ে নিতে কসুর করবেন না; জিহ্বা শাণিত হবে।
দুম-ফটাস হাসতে গিয়ে আটকে যাবেন না; হৃত্পিণ্ড অক্সিজেন পাবে।
জমাটি প্রেম করুন, বউ-প্রেম, বিয়ণ্ড বউ-ভালো লাগা জড়ো করুন; মনের শিকল আলগা হবে।
হুইস্কি খান; পাঁজড় কড়ক পাবে।
মাসে একবার গাঁজা টানুন; মগজে তিরিং যাবে।
খিস্তি করুন; ফুসফুস বল পাবে।

Monday, September 24, 2012

গৌরহরি বস্ত্রালয়


গৌরহরি বস্ত্রালয়দেড়-তলার কাপড়ের দোকান। দোকানের মাথার গ্লো-সাইন আর মালিক মধু মল্লিকের চামড়ায় ভাঁজ ছাড়া, জন্ম হতে আজ তক; দোকানটি কে একই চেহারায় দেখে অভ্যস্তহাজার শপার্স স্টপ এসেও এর হুলিয়া বদলাতে পারেনি বা এর ব্যবসায় চাকু বসাতে পারেনি। নিচের তলা জুড়ে শুধুই শাড়ি, এবং ওপরের হাফ-তলা জুড়ে “জেণ্টস কাম কিডস সেকশন” । ধবধবে গদিতে বসে মধুকাকু কর্মচারীদের ধোনী-ভঙ্গিতে চালনা করছেন এবং চকাম শব্দে মিঠে সুপুরি চিবুচ্ছেন, এ দৃশ্য অতি পরিচিত। দোকান-ময় ধুপ, ঘাম, কাপড় এবং পুরনো দেওয়ালের গন্ধ মেশানো একটা হাওয়া ঘুর-পাক খাচ্ছে সর্বক্ষণ কিন্তু তবুও সাবেকি রুচির ক্রেতাদের ভীড় লেগেই আছে; “বেস্ট কোয়ালিটি এন্ড প্রাইস ইন দ্য টাউন” পিতৃদেবের মতে।

পিতৃদেব বছরে দুইবার কাপড়-জামা কেনেন, পুজো এবং পয়লা বৈশাখ; গুষ্টির সক্কলের জন্যে; এবং জন্মাবধি দেখে আসছি যে প্রত্যেকের জন্যে একি ধরনের পোশাক প্রত্যেক বার। যেমন পয়লা বোশেখে আমার জোটে একটা ফতুয়া, একটা পাঞ্জাবি ও একটি কমন পায়জামা। পুজো এলে জোটে একটা চকমকে হাফ শার্ট, একটা গম্ভীর ফুল শার্ট এবং একটা ট্রাউজার। ক্লাস সিক্স থেকে এই বয়স পর্যন্ত এর অন্যথা হয় নি। এবং গৌরহরি বস্ত্রালয়য়ের মধু মল্লিক পিতৃদেব কে ভারী খাতির করেন; কর্মচারীদের হাতে ছেড়ে দেন না; পিতৃদেব এলে নিজেই এগিয়ে এসে কাপড়-জামা দেখান।

Sunday, September 23, 2012

বঙ্গ-জব



যাবতীয় বেকার সমস্যা সত্ত্বেও, বাঙালি অন্তত জব-লেস নয়। জোড়া জবে বাঙালির শৌখিন-ব্যস্ততা হিমালয় হয়ে থাকবে চিরকাল।
   
বঙ্গ-হৃদয়য়ের ক্যালরি-ক্ষরণের সব চেয়ে বড় অস্ত্র: গুজব।
প্রতিবেশীর বৌদির গোপন মনোভাব, মেদু-বাবুর নব্য-ভূড়ির রহস্য, অমুক অভিনেত্রীর ঢল-ঢলে ঢল, ভোটের ফলের চোরা আভাস, ময়দানে গড়াপেটা, বিদেশী আক্রমন; গুজবে পরিচয়তে

দুসরা বৃহত্‍-জব: আজব।
বাঙালির ধড়াম-বুকে অবাক বনে যাওয়ার অভ্যেস চির-অমলিন। মাধ্যমিকে লেটার? আজব! গড়িয়াহাটের ভীড়? আজব! দেবয়ের পাগলু একশন? আজব! সুমন চাটুজ্যের সুর; আজব! প্রেম: আজব। আমরা জাতিগত ভাবে আজবিয়া। পৃথিবীর সামান্যতম হেল-দোল আমাদের কাছে এক আজব-খেল।

গুজব-আজবই বাঙালির হৃদিয়ানা জব; বাঙালির আদি দুধ-ভাত।