Tuesday, September 25, 2012

মনের বাইসেপ, হৃদয়ের ট্রাইসেপ


“এই যে স্যার, হ্যাঁ, এই যে, আপনাকেই বলছি স্যার,গুড মর্নিং, এই যে ট্রেড-মিলে ঝড় তুলে আপনি বেদম দৌড়চ্ছেন, এ তে আপনার মেদ ঝড়ছে ঠিকই, কিন্তু মগজের জং সাফ হচ্ছে কই?হৃদয়ের ঝুল ঝাড়-পোছ হচ্ছে কই? কলজেতে হাওয়া খেলছে কই? চাবুক শরীরে খেন্তী-বুড়ির মন পুষে কী লাভ? মাল্টি-জিম ছেড়ে মনটি জিমে দিন। দৈন্য দূর করুন।

রোল-কাবাবের তেলে রক্ত ভরিয়ে নিতে কসুর করবেন না; জিহ্বা শাণিত হবে।
দুম-ফটাস হাসতে গিয়ে আটকে যাবেন না; হৃত্পিণ্ড অক্সিজেন পাবে।
জমাটি প্রেম করুন, বউ-প্রেম, বিয়ণ্ড বউ-ভালো লাগা জড়ো করুন; মনের শিকল আলগা হবে।
হুইস্কি খান; পাঁজড় কড়ক পাবে।
মাসে একবার গাঁজা টানুন; মগজে তিরিং যাবে।
খিস্তি করুন; ফুসফুস বল পাবে।

Monday, September 24, 2012

গৌরহরি বস্ত্রালয়


গৌরহরি বস্ত্রালয়দেড়-তলার কাপড়ের দোকান। দোকানের মাথার গ্লো-সাইন আর মালিক মধু মল্লিকের চামড়ায় ভাঁজ ছাড়া, জন্ম হতে আজ তক; দোকানটি কে একই চেহারায় দেখে অভ্যস্তহাজার শপার্স স্টপ এসেও এর হুলিয়া বদলাতে পারেনি বা এর ব্যবসায় চাকু বসাতে পারেনি। নিচের তলা জুড়ে শুধুই শাড়ি, এবং ওপরের হাফ-তলা জুড়ে “জেণ্টস কাম কিডস সেকশন” । ধবধবে গদিতে বসে মধুকাকু কর্মচারীদের ধোনী-ভঙ্গিতে চালনা করছেন এবং চকাম শব্দে মিঠে সুপুরি চিবুচ্ছেন, এ দৃশ্য অতি পরিচিত। দোকান-ময় ধুপ, ঘাম, কাপড় এবং পুরনো দেওয়ালের গন্ধ মেশানো একটা হাওয়া ঘুর-পাক খাচ্ছে সর্বক্ষণ কিন্তু তবুও সাবেকি রুচির ক্রেতাদের ভীড় লেগেই আছে; “বেস্ট কোয়ালিটি এন্ড প্রাইস ইন দ্য টাউন” পিতৃদেবের মতে।

পিতৃদেব বছরে দুইবার কাপড়-জামা কেনেন, পুজো এবং পয়লা বৈশাখ; গুষ্টির সক্কলের জন্যে; এবং জন্মাবধি দেখে আসছি যে প্রত্যেকের জন্যে একি ধরনের পোশাক প্রত্যেক বার। যেমন পয়লা বোশেখে আমার জোটে একটা ফতুয়া, একটা পাঞ্জাবি ও একটি কমন পায়জামা। পুজো এলে জোটে একটা চকমকে হাফ শার্ট, একটা গম্ভীর ফুল শার্ট এবং একটা ট্রাউজার। ক্লাস সিক্স থেকে এই বয়স পর্যন্ত এর অন্যথা হয় নি। এবং গৌরহরি বস্ত্রালয়য়ের মধু মল্লিক পিতৃদেব কে ভারী খাতির করেন; কর্মচারীদের হাতে ছেড়ে দেন না; পিতৃদেব এলে নিজেই এগিয়ে এসে কাপড়-জামা দেখান।

Sunday, September 23, 2012

বঙ্গ-জব



যাবতীয় বেকার সমস্যা সত্ত্বেও, বাঙালি অন্তত জব-লেস নয়। জোড়া জবে বাঙালির শৌখিন-ব্যস্ততা হিমালয় হয়ে থাকবে চিরকাল।
   
বঙ্গ-হৃদয়য়ের ক্যালরি-ক্ষরণের সব চেয়ে বড় অস্ত্র: গুজব।
প্রতিবেশীর বৌদির গোপন মনোভাব, মেদু-বাবুর নব্য-ভূড়ির রহস্য, অমুক অভিনেত্রীর ঢল-ঢলে ঢল, ভোটের ফলের চোরা আভাস, ময়দানে গড়াপেটা, বিদেশী আক্রমন; গুজবে পরিচয়তে

দুসরা বৃহত্‍-জব: আজব।
বাঙালির ধড়াম-বুকে অবাক বনে যাওয়ার অভ্যেস চির-অমলিন। মাধ্যমিকে লেটার? আজব! গড়িয়াহাটের ভীড়? আজব! দেবয়ের পাগলু একশন? আজব! সুমন চাটুজ্যের সুর; আজব! প্রেম: আজব। আমরা জাতিগত ভাবে আজবিয়া। পৃথিবীর সামান্যতম হেল-দোল আমাদের কাছে এক আজব-খেল।

গুজব-আজবই বাঙালির হৃদিয়ানা জব; বাঙালির আদি দুধ-ভাত। 

Saturday, September 22, 2012

ফ্লপকার্ট

অনলাইন কেতাব খরিদের সুবিধে আমাদের জীবনে এক দৈবিক আশীর্বাদফ্লিপকার্ট এক দেবদূতশুধু বই কেন? যাবতীয় খুচরো বিকিকিনি এখন কী মায়াময় ভাবে সহজএকটা ক্লিক আর ফিক হাসি, দিব্যি কাজ হাসিলবই, ব্যাগ, গানের সিডি বসন্তের আনন্দ বয়ে দরজায় হাজিরটেকনোলজির কাঁধে হাত রেখে বলতে ইচ্ছে করে, “সাবাস তোপসে”

নিজে কেনো, অন্যকে উপহার দাও। সহজিয়া ইজ দ্য ওয়ার্ডশুধু কী ঘরে বসে খরিদ্দারী? যেমন ভাবে খুশি দাম মেটানো; নগদে, ক্রেডিট কার্ডে, এমনকি রয়েছে ক্যাশ-অন-ডেলিভারির হিমালয় মাফিক সুবিধে

Thursday, September 20, 2012

ব্যর্থ বাংলা-বন্ধ, বমকানো বাঙালি

“বোল্টুদার বাড়িতে ডাকাত পড়েছে”। হুড়ুম হল্লাব্যাপারটা অত সস্তা নয়বোল্টুদা আমার প্রতিবেশী এবং পাড়ার রক-স্টার মাস্তান।তোলা আদায় করতে, মড়া পোড়াতে, চোয়াল ভাঙ্গতে, চাঁদা তুলতে, রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে, রক্তদান শিবির আয়োজন করতে; বোল্টুদার কোনও জুড়ি নেই। লোকাল এম-এল-এয়ের ডান হাত। এক দিন নিজেই কাউন্সিলর হবেএমন লোকের বাড়িতে ডাকাত?

বেরিয়ে এসে দেখি, ডাকাত নয়; পাড়ার বিজুকাকু দমাদম লাথি কষাচ্ছেন বোল্টুদার বাড়ির দরজায় আর উদোম চিত্‍কার করে চলেছেনবিজুকাকু রাগে-উত্তেজনায় থর থর করে কাঁপচ্ছেন, বোঝা যাচ্ছে অফিস ফেরতা সোজা চলে এসেছেন বোল্টুদার বাড়িতেগায়ের হাফ-শার্ট ঘামে চপচপ, চুল উস্ক-খুস্ক আর একটানা গলা ফাটিয়ে চলেছেন : “বেরিয়ে আয় শালা বল্টে, আজ তোরই একদিন কী আমার, একটা এস্পার-ওস্পার না করে আমি হটছি না। কাম আউট শালা স্কাউন্ড্রেল”

বিজুকাকুর কাছে গিয়ে কী ঘটেছে জানতে চাওয়াতে কেস স্পষ্ট হলো ; 

“এই শালা বল্টে, একটা ইউজলেস রাস্কেল কোথাকার, এমন একটা দলের হয়ে লেজ নাড়ে যে যাদের মুরোদ নেই ডাল-ভাতের আর ঢেকুর তোলে বিরিয়ানিরশালা, কতদিন পরে একটা বন্ধ ডাকলোআমি ভাবলাম আপিস কেচে যাবেরাস্তা-ঘাট শুনসান থাকবে।কাল সন্ধ্যে বেলা খাসি নিয়ে এলাম কষিয়ে বন্ধের দুপুরে আমেজ করবো। আর এই আহাম্মকদের জন্যে সব গেলো রসাতলেআপিস শালা যথারীতি খোলা, বাঙালির ইজ্জত যে ধুলোয় লুটিল আজসেই ফাইলের নোংরা ঘাটা, সেই বসের চিত্‍কার, উল্টে যাতায়াতে বাসের বাড়তি ভীড়ে নাকালবন্ধের আশা জাগিয়ে এমন বিট্রে? শালারা দু-চারটে বাস জ্বালাতে পারলো না? দু একটা আপিস ভাঙ্গচুর করতে পারলো না? ন্যাকা-কুসুমের দল এসেছে রাজনীতি করতে? বন্ধ করতে পারে না, সরকার গড়বেআমার মুণ্ডু করবেআমি বল্টে আর বল্টের দলের বিরুদ্ধে কনজিউমার কোর্টে মামলা করবো এই কোয়ালিটি-লেস বন্ধ ডাকবার জন্যেএই বল্টে শুয়ার আসুক এবার চাঁদা চাইতে, ওর হাড় দিয়ে আমি থিম প্যান্ডেল বানিয়ে ছাড়বোসাধারণ মানুষকে অফিস-কামাইয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে ধোকা? কাম আউট বল্টে, তোর নেতাগিরি ন্যাতা না করে আজ আমি ছাড়বো না”

সত্যি-মিথ্যা জানি না, তবে ফিসফাস শুনলাম যে বিজুদা এমন রন-মূর্তি দেখে বোল্টুদা নাকি পিছনের দরজা দিয়ে ভেগে হাপিস হয়ে গেছে। পুজোর আগে আর পাড়া-মুখো হচ্ছে না হয়তো।