Wednesday, September 21, 2011

মদ্য পঞ্চ-প্রদীপ





মাতালের মদ্যপান নিতান্তই অকারণ, তাই সে মাতালকিন্তু আমরা Connoisseur, সুরা-উপভোগী, মদ্দ্যপ বেল্লিক-পনা আমাদের নয়আমাদের কারণ-সেবনে অতিশয় কারণ মিশে থাকে; তাই আমাদের মদ্য-স্পর্শে স্বয়ং ঈশ্বরের অমৃতরস প্রাপ্তি ঘটে।


কোন কারণ-গুলি স্পর্শ করে আমাদের গেলাসে ডুব?




১। বৃষ্টি : এ দেহ মৃত্তিকাবত, মাটিতে একদিন মিশে গিয়েই মুক্তিবর্ষা নেমে যখন মাটি ভিজিয়ে প্রকৃতিতে নরম স্পর্শ টেনে আনে, এ মেটে-শরীর তখন সুধা-মগ্ন হতে চায়অই, হূইস্কি, আইসো ব্রাদার, এ পচা কন্ঠ বাইয়া আনন্দ-বর্ষা হইয়া নামিয়া আইসো পঞ্জর জুড়িয়াবৃষ্টি নামলেই মশাই আমার হৃদয় এক মরণ-thirst জুড়ে বসে


২। শনিবার রাত: Weekend আমায় Weak করে তোলে বন্ধু।

Saturday, September 17, 2011

বং-প্যাকিং




-'প্যাকিং একটা আর্ট বুঝলি পচা, ইন ফ্যাক্ট খুবই আন্ডার-রেটেড আর্ট। তবে যেহেতু ঘুর-ঘুর করবার টেনডেন্সি বাঙালীদের মধ্যেই বেশি, সেহেতু কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে জিনিষপত্র গোছ-গাছ করবার ব্যাপারে আমাদের ফোকাসটা বেশি তীক্ষ্ণ হওয়া দরকার'- মেজোমামা ফি বছর পুজোর ছুটিতে ঘুরতে বেরোয়। ব্যাচেলর মানুষ, এক ঘুরতে বিশেষ ভালবাসে। এবার চলেছে সিক্কিম। দুপুরে খাওয়ার পর নিজের ব্যাগ গোছাতে গোছাতে আমার সাথে কথা হচ্ছিল। রাত্রি বেলা ট্রেন।


-'আর্ট কিরকম?', আমিও গ্যাঁজানোর মেজাজে ছিলাম।


-'ওয়েল, শিল্প, কারণ চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে, কী ভাবে তুই জিনিস পত্তর বয়ে নেওয়াটাকে অপ্টিমাইজ করতে পারবি যাতে তোকে মুটের মত না ঘুরতে হয়, আবার বেসিক জিনিস পত্রের অভাবে ঘুরে বেড়ানোর মজাটাও যাতে ঘষে না যায়। অবশ্য আর্ট শুধু ব্যাটাছেলের লাগেজের ক্ষেত্রেই হতে পারে। মেয়েরা আর্ট-টার্ট মনে না। ওরা বোঝে কোয়ান্টিটি। ইউসলেস, মেয়েদের সঙ্গে কক্ষনও ঘুরতে যাওয়া নয়, ফার্স্ট রুল অফ প্যাকিং, বুঝলি?'


-'সেই জন্যেই বুঝি তুমি বিয়ে করলে না?'


-'সেটা একটা ফ্যাক্টর তো বটেই।'


-'তো প্রথম রুলটা বুঝলাম, নারী সঙ্গে সর্বনাশ, তারপর?'


-'তারপর! তারপর তোকে দেখতে হবে ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যটা কি, তুই কি কোনও অফিশিয়াল ট্যুরে যাচ্ছিস নাকি ছুটি উপভোগ করতে। যদি অফিসিয়াল ট্যুর হয়ে, তবে অবশ্যই সঙ্গে একটা হালকা স্যুইট-কেস, এবং বাকি আবশ্যক জিনিস। ওটাও কোনও চ্যালেঞ্জ নয়, ধরা বাঁধা জিনিস পুরে নিলেই হল। আসল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যখন তুই যাচ্ছিস ভ্যাকেসনে, সাত-আট দিন জুড়ে, বাংলাদেশের এই শস্য-শ্যামলা কম্ফর্ট ছেড়ে কোনও তুবড়ি মার্কা জাগায়। যেমন আমি এবার চললাম সিক্কিমি বিরাশী-সিক্কার এক দুর্দান্ত ভ্রমণে। সাত দিনের ঘুরলি, চাট্টি-খানি কথা নয় পচা। যে লিষ্টি টা বানিয়েছি সেটা তোকে পড়ে শোনাই

Friday, July 22, 2011

সার-কথা


অতিথি লেখক: কেলো


পরিচয়: কোলকাতা-বাসী




ভয়ানক কান্ডএই যে আমি বেঁচে অছি, শিয়ার গডস গ্রেস যাকে বলেট্যাক্সিটা মিনিমাম সত্তরে ছিল, হাফ-ইঞ্চির তফাতে হুশ করে বেরিয়ে গেল।মাইনর এদিক ওদিক হলেই অক্কা, ভাবতেই কেঁপে উঠছি। ঘটনাটার মিনিট পনেরো পরেও, গাএর সমস্ত লোম এককেবারে পারপেণ্ডীকুলার হয়ে আছেবোকা পাঁঠা ভাববেননা আমাকে, রীতিমত জেব্রা ধরে পার হচ্ছিলুমআফটার অল, জন্ম থেকে তো প্রায় কলকাতার রাস্তাতেই মানুষকলকাতা চিরদিনই একটু কেয়ারলেস, কিন্তু সিভিক-সেন্সএর এত অধঃপতনটা কিন্তু হালফিল বেশি দেখছি


ছেলেবেলা কেটেছে উত্তর কলকাতার অলি-গলি চষে, সেসব জাগায় হাত-টানা রিক্সাদের মুভমেন্ট যে ভারী প্রেডিক্টেবল ছিল তা নয়, তবে মোটর-চালিয়ে সায়েব বা ট্যাক্সিচালকরা ছিলেন অনেক বেশি সাবধানী

Thursday, July 14, 2011

শফিকের সাইকেল

-'এই দ্যাখ ব্যাটা, ওই পুরনো সাইকেল আর চড়তে হবে না, বাইক চালাবে এবার তর আব্বু.."

-'বেশ আব্বু, এবার তবে এই বাইকটা তোমার আর সাইকেলটা আমি চালাব, কেমন আব্বু ?"

-'আর সাইকেল কেউ চালায় নাকি রে, তুই আর একটু বড় হয়ে যা, তারপর তোকে আমি এক্কেবারে বাইক চালানো শিখিয়ে দেব, তখন দেখবি বাইক চালাবার কি আনন্দ'


Sunday, June 19, 2011

পেঁয়াজী কথা


আরেকটা বৃষ্টির সন্ধ্যে। এবারের আশ্রয়দাতা পড়শী পিয়ালদা। শিক্ষক এবং সমঝদার খাইয়ে। আজকের সন্ধ্যেটা মাত হল পিয়াল-বৌদির হাতে বানানো পেঁয়াজী'তে। বাংলাদেশের অতি পরিচিত, জাতীয়-পতাকা-সম তেলেভাজা হলো এই পেঁয়াজী, কিন্তু পিয়ালদার প্রবল পেঁয়াজী-রোম্যান্স'কে সম্মান জানিয়ে, পেঁয়াজী ভাজার ব্যাপারটা গ্রাফিকালি সাজিয়ে দেওয়ার লোভ সামলানো গ্যালো না। অতি সহজ অথচ অতি-সুস্বাদু।