Friday, July 22, 2011

সার-কথা


অতিথি লেখক: কেলো


পরিচয়: কোলকাতা-বাসী




ভয়ানক কান্ডএই যে আমি বেঁচে অছি, শিয়ার গডস গ্রেস যাকে বলেট্যাক্সিটা মিনিমাম সত্তরে ছিল, হাফ-ইঞ্চির তফাতে হুশ করে বেরিয়ে গেল।মাইনর এদিক ওদিক হলেই অক্কা, ভাবতেই কেঁপে উঠছি। ঘটনাটার মিনিট পনেরো পরেও, গাএর সমস্ত লোম এককেবারে পারপেণ্ডীকুলার হয়ে আছেবোকা পাঁঠা ভাববেননা আমাকে, রীতিমত জেব্রা ধরে পার হচ্ছিলুমআফটার অল, জন্ম থেকে তো প্রায় কলকাতার রাস্তাতেই মানুষকলকাতা চিরদিনই একটু কেয়ারলেস, কিন্তু সিভিক-সেন্সএর এত অধঃপতনটা কিন্তু হালফিল বেশি দেখছি


ছেলেবেলা কেটেছে উত্তর কলকাতার অলি-গলি চষে, সেসব জাগায় হাত-টানা রিক্সাদের মুভমেন্ট যে ভারী প্রেডিক্টেবল ছিল তা নয়, তবে মোটর-চালিয়ে সায়েব বা ট্যাক্সিচালকরা ছিলেন অনেক বেশি সাবধানী

Thursday, July 14, 2011

শফিকের সাইকেল

-'এই দ্যাখ ব্যাটা, ওই পুরনো সাইকেল আর চড়তে হবে না, বাইক চালাবে এবার তর আব্বু.."

-'বেশ আব্বু, এবার তবে এই বাইকটা তোমার আর সাইকেলটা আমি চালাব, কেমন আব্বু ?"

-'আর সাইকেল কেউ চালায় নাকি রে, তুই আর একটু বড় হয়ে যা, তারপর তোকে আমি এক্কেবারে বাইক চালানো শিখিয়ে দেব, তখন দেখবি বাইক চালাবার কি আনন্দ'


Sunday, June 19, 2011

পেঁয়াজী কথা


আরেকটা বৃষ্টির সন্ধ্যে। এবারের আশ্রয়দাতা পড়শী পিয়ালদা। শিক্ষক এবং সমঝদার খাইয়ে। আজকের সন্ধ্যেটা মাত হল পিয়াল-বৌদির হাতে বানানো পেঁয়াজী'তে। বাংলাদেশের অতি পরিচিত, জাতীয়-পতাকা-সম তেলেভাজা হলো এই পেঁয়াজী, কিন্তু পিয়ালদার প্রবল পেঁয়াজী-রোম্যান্স'কে সম্মান জানিয়ে, পেঁয়াজী ভাজার ব্যাপারটা গ্রাফিকালি সাজিয়ে দেওয়ার লোভ সামলানো গ্যালো না। অতি সহজ অথচ অতি-সুস্বাদু।

Thursday, June 16, 2011

চেষ্টা করেছিলাম তবুও



পিতা : তোমার রেজাল্ট যে দিন দিন গোল্লায় যাচ্ছে


আমি : ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..


পিতা : চেষ্টা আমার মুণ্ডু, তুমি শুধু ধেইধেই ফুটবল পেটাতে আর ফুচকা গিলতে জানো রাস্কেল







বউ : আজকেও দেরি, তোমার টাইমিং সেন্স দিন দিন বিগড়ে চলেছে


আমি :ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..


বউ : ড্যাম ইওর চেষ্টা, তুমি একটা আলসে ভূত আসলে







বস : সেলস ফিগার যে নায়াগ্রা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মারিয়ানা ট্রেঞ্চে নেমে চুমু খাচ্ছে চাঁদু


আমি : ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..


বস : চেষ্টা-ফেষ্টা বলে ব্লাফ ঝেড়ো না বাপ, তোমার মত স্লিপারি ফাঁকিবাজ আমি জম্মে দেখিন!







ডাক্তার : আরে মশাই, তেল-চোবানো চপ-মিসাইল গুলো খাওয়াটা এক্ষুনি বন্ধ করুন, নয়তো এত টন কোলেস্টেরল ঢোকালে, ইলেকট্রিক চুল্লিও চোক করে যাবে


আমি : ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..


ডাক্তার : আপনার মশাই এলেবেলে চেষ্টা সব, উইল-পাওয়ার আপনার মধ্যে এক আউন্স'ও নেই







মা :হ্যাঁ রে বাবা, দিন দিন এমন রোগ হয়ে চলেছিস তুই, শরীরের একটুও যত্ন নেই তোর?


আমি : ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..


মা : কিছু চেষ্টা করিস না তুই, রাজ্যের লোকের ব্যাগার খেটে যায় শুধু ছেলেটা আমার, এদিকে নিজের দিকে কোনও নজর নেই..










Monday, June 13, 2011

বৃষ্টির সন্ধ্যে ও একটি গা-কাঁপানো গল্প




জুন মাসের সন্ধ্যে।
ঝমঝম বৃষ্টি। প্রবল, ছাতা-ডিসমিস করে দেওয়া বৃষ্টি।
লোড-শেডিং। প্রবল গপ্পিয়ে বন্ধু। তার রত্ন-সম রাধুনি বর্ধমানের দিবাকর।
মোমবাতি'র আলোয় জমাট আড্ডা। আড্ডা'র ক্যাটালিস্ট হিসেবে দিবাকর কুমারের পেঁয়াজি, বেগুনী,
লঙ্কা-পকোড়া (হু হু হু হহুহু, চোখে জল কিন্তু জ্বিবে দারুন), ডিম'এর ডেভিল, আম আচার'এর তেল
এবং আলু-সহ ভাজা মুড়ি। সঙ্গে ফ্রিজ-ঠান্ডা মিষ্টি ডাব'এর জল। আহহ... জিহ্ভার্গ্সম একেই বলে।
বৃষ্টি'র সন্ধ্যে। মোমবাতি আছে, তেলে-ভাজা মুড়ি আছে, ভূতের গপ্প হবে না?