Sunday, June 12, 2011

বউ-লেস চিলি চিকেন



“A Man is emancipated from the clutches of his wife, when he successfully makes Chilli Chicken all by himself, in his own kitchen, in the absence of his wife” ~ An Old Chinese Saying

প্রশ্নচিহ্ন :
বউ বাড়ি না থাকলে পাউরুটি-আমূলস্প্রে খেয়ে থাকতে হবে? সেদ্ধ-ভাত'ই বা খেতে হবে কেন? রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়ার আনতে যাওয়াই বা জরুরি কেন?
বউ বাপের বাড়ি গ্যাছে বলে রোববার রাত্রে বাড়িতে মুরগি ঢুকবে না এটা কি কোনো ইজ্জতের কথা হলো?
অতএব :
@finelychopped (টুইটার পরিচিতি) ব্লগে হানা দিলাম (মুম্বাই-বাসী কল্যাণ কর্মকারের এই ব্লগ'টি যে কোনও খাদ্য-রসিকের কাছে একটি সোনার খনি, যারা এখনো এই ব্লগ'টি তে যান নি, এই পোস্ট পড়া বন্ধ রেখে আগে গিয়ে ওই ব্লগটা দেখুন) চিলি চিকেনের সহজ অথচ গরম রেসিপি টুকে নিলাম, আর তারপর...তারপর.. ইতিহাস নেমে এল রান্নাঘরে।
রেসিপিটা এত সহজে এক লাইনে সাজিয়ে দিয়েছেন @finelychopped যে সেটাকে বাস্তবায়িত করা অতি সহজ
Heat oil, add chopped garlic, add soy sauce and chili sauce, add, chopped onion bulbs, add chicken, salt and ajino moto, stir till cooked and oil dries, add green chillies. End of story. Ten minutes from start to Finish
আমি শুধু সামান্য দুটো ইনোভেসন গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেছি :
১. চিকেন'টা কে এক ডিম ফাটিয়ে ও সামান্য নুন-শুকনো লঙ্কার গুড়ো, কর্ণ-ফ্লাওয়ার দিয়ে ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রেখেছি (ডিম'এর প্রতি আমার অগাধ আস্থা, পারলে..ইয়ে..শুক্ত'তেও )
২. মূল রান্নার আগে চিকেনটাকে অল্প আঁচে একটু ভেজে নিয়েছি
ব্যাস.. তারপর @finelychopped'এর সহজ লাইন মেপে চালিয়ে দিয়েছি
ফলাফল? অনবদ্য, অভাবনীয়, ঐতিহাসিক
বউ ছাড়া রান্না ঘরে মুরগি ঢুকবে না, এই পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে গ্যালো...
"আমার প্রথম চিলি চিকেনে রাঙানো ভাত এক কাঁড়ি / আমি কি ভুলতে পারি " - প্রাচীন চিনা গণ-সঙ্গীত (দয়া করে ক্রস-চেক করতে যাবেন না)

১. যা যা দরকার

Tuesday, February 22, 2011

মৃত্যু ফন্দি




জন্মিলে মরিতে হবে..ইত্যাদি..ইত্যাদি..ত্যান্ডাই-ম্যান্ডাই..

তো কিরকম মৃত্যু আমার কাছে একসেপ্টেবল?

১. মারণ-অসুখ:

কিরকম?

এইডস? শাট আপ!
ক্যান্সার? না দাদা। যন্ত্রণা-কেমো-খরচ সব মিলে কেলোর কীর্তি। এ চলবে না।
হার্ট এট্যাক? নোটিশ পিরিয়ড় বড্ড খাঁটো।একজন ফস করে মারা যাবে আর তাকে ঘিরে কেন মেলোড্রামা থাকবে না, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। কাজেই অসুখ ব্যাপারটা বাদ থাক।

Monday, February 21, 2011

ভাষা দিবসিও কথোপকথন


স্থান: 17 তলার একটি ফ্ল্যাট, দক্ষিণ কোলকাতা
কাল: ২১ ফেব্রুয়ারী
পাত্র-দ্বয়: পিতা, বয়স ৩৯, চাকুরে / পুত্র, বয়স ৭, ছাত্র
কাল্পনিক?: আদৌ নয়। পিতা'টির অনুরোধে নাম গুলি চেপে যাওয়া হলো।


পুত্র: হোয়াট ইস দিস ল্যাংগুয়েজ-ডে ড্যাড? এনি আইডিয়া?
পিতা: গেট আইডিয়া মাই সন!
পুত্র: হোয়াট?
পিতা: ইয়ে, ল্যাংগুয়েজ ডে মিন্স ভাষা দিবস, আই মিন দ্য ডে টু সেলিব্রেট ইওর ল্যাংগুয়েজ ডিয়ার সনি।

Saturday, February 5, 2011

বাঙ্গালের বিশ্ব-বুদ্ধি

আমার জ্ঞান-স্ফেয়ারে, মিশর হাজার তিনেক বছর’এর তফাতে, পিরামিড’এর পর মুবারক-সাহেবের হাত ধরে প্রবেশ করল। মাঝে কিছু খুচরো এন্ট্রি ছিল বটে; এই যেমন নন এলাইনমেন্ট-পন্থী নাসের, টিনটিন’এর ফারওয়ের চুরুট খোঁজা অথবা প্রোফেসর শঙ্কুর মিশর-ভ্রমণ ইউ-এফ-ও’এর খোঁজে। ভাবলে অবাক হতে হয়, যে গ্লোবালাইজ্ড অর্থনীতি এবং টেকনোলজির যুগে, যখন গোটা পৃথিবীটা পকেটে চিরকুটের মত পড়ে থাক উচিত, আমি যে ইণ্টেলেকচুয়াল ডোবায় বাস করছি, তার রেডিয়াস’টাই সামান্য পাল্টেছে মাত্র। মিশরের মানুষ যে ওদিকে পিরামিডিও এক মানবিক যুদ্ধে নেমেছেন, তার খবরটা অন্তত আমার কাছে তখন পৌছল যখন বিস্ফোরণ ঘটে গ্যাছে, বাঁধ ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়ে গ্যাছে।


এই সময়ই মনে হল, এই ‘গোটা পৃথিবী’ই এক’ গোছের কথা আদতে স্রেফ ফালতু-বাত। মুখ’এর সামনে এটলাস খুলে বসলে ঘাবড়ে যেতে হয় যে এই ইউনিভার্সাল ব্রাদারহুডের যুগেও আমরা আসলে আমাদের ব্রাদার-দিগকে আদৌ তেমন চিনে উঠতে পারিনি। অন্ততো যে কয়েকটি গুটিকয় দেশ সম্বন্ধে সামান্য যোগ অনুভুব করি, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে মনে হয় ঝাঁপ দি। কোন কোন দেশ কে কি কি সূত্রে এবং কতটুকু জানি?বলি শুনুন:

১। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র: নমস্য। ‘মোদের গরব মোদের আশা-আমেরিকা দেশটি খাসা’। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আমাগো প্র্যাসিডেণ্ট। ডেমক্রেসির বাপ- হোয়াইট হাউস। সিনেমার ঠাকুরদা- হলিউড। সমস্ত ‘ভালো-ছেলে’দের স্পষ্ট গন্তব্য। আর মানে..ইয়ে..ফ্রি সেক্স-টেক্স চলে বোধ হয় ওখানে।

২। পাকিস্তান: ক্রিকেট। মাঝে মাঝে রাম-প্যাদানী’র ভয়; উগ্রবাদ। উচ্ছন্নে যাক, বয়ে গ্যাছে।

৩। চিন: চাউমিন। মাও সে তুং।অলিম্পিক মেডাল। আর ওরা বোধ হয় টিকটিকি খায়!

৪। বাংলাদেশ: ধুর, দেশ কি। ও তো ক্যানিং’এর ওপার। ইলিশ’এর সাপ্লাই চালিয়ে যাক, ব্যাস!

৫। নেপাল: মণিষা কইরলা। যত কান্ড কাঠমাণ্ডু’তে। আম আদমির বিদেশ ভ্রমনের শখ মিটিয়ে থাকে।

৬। শ্রীলঙ্কা: ক্রিকেট। ব্যাস। চুপ।

৭। সিংগাপুর, হংকং: ব্যাপক কিছু হবে, ঝাঁ-চকচকে শহর টহর বোধ হয়।

৮। ইন্দোনেশিয়া,জাভা, বার্মা, ভিয়েতনাম, উত্তর/দক্ষিণ কোরিয়া: হে: হে:, আরে দাদা 8B বাস স্টপ’টাই সেদিন গুলিয়ে গেছিল, আর বার্মা। তবে ভিয়েতনামে কোনও এক কালে কোনও যুদ্ধ-টুদ্ধ হয়েছিল, কমুনিষ্ট গোছের কিছু। আর কোনও এক কোরিয়ার কাছে বোমা আছে, বুড়িমা-ছাপ নয়; পরমাণু!

৯। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যাণ্ড : ক্রিকেট, নিয়মিত ভারতীয় ছাত্র-চাবকানো।

১০। জাপান: ইলেক্ট্রনিক্স: সোনি, এরাও টিকটিকি খায় না? ও হ্যাঁ, হিরোশিমা-নাগসাকি; দুম-দুমা-দুম!

১১। আরব: যাহা ওমান, তাহাই সৌদি; ওসব ফারাক বুঝি না। তেল-মরুভূমি-খেজুর-শেখ-বেলি ড্যান্স; তুখোড়!

১২। দক্ষিণ আফ্রিকা: ম্যান্ডেলা, ক্রিকেট, সাফারি; দেশটা আফ্রিকা’তে না থেকে ইউরোপে থাক উচিত ছিল।

১৩। আফ্রিকার অন্য সব দেশ: কালো, অন্ধকার, জঙ্গল, গরীব, যুদ্ধ; এককেবারে যা-তা। মিশর আফ্রিকায় নাকি? হ্যাঁ?

১৪। ইংল্যান্ড: চার্ণকের দেশ।লণ্ডন। ধোপ-দুরুস্ত সাহেবরা শুধু এখানেই থাকেন; এবং হেথায় রানি’র বাস (থেবড়ি বুড়ী আবার কি না রানি..)। কিন্তু ইংল্যান্ড, গ্রেট ব্রিটেন আর ইউনাইটেড কিংডম’এর কনফিউশন এ জন্মে আরে ক্লিয়ার হল না। ও হ্যাঁ; ই পি এল’এর লাইভ টেলিকাস্ট।

১৫। জার্মানি: হিটলার, বিশ্ব-যুদ্ধ, আর হিটলার। এবং ফুটবল।

১৬। ফ্রান্স: আইফেল টাওয়ার। আর ফ্যাশন টিভি।

১৭। রাশিয়া: কম্যুনিস্ট, লেনিন।

১৮। ব্রাজিল: পেলে, আর্জেন্টিনা: মারাদোনা।

১৯। সুইজারল্যান্ড: বরফ, চকলেট। পকেটভারী’রা এখানে ঘুরতে যান, পকেটখালি’রা এর ছবি ড্রইং-রুমে সাজিয়ে থাকেন।

২০। গ্রীস, ইতালি: ইতিহাস। আলেকজান্ডার।সীজার।

২১। ফুটবল: স্পেন, পর্তুগাল, কলম্বিয়া, চিলি, ইত্যাদি ইত্যাদি; সব নাম মনে থাকে না; ওয়ার্ল্ড কাপ শুরু হলে গড়গড় করে মনে চলে আসে।

এই হল আমার বিশ্ব-মানচিত্রের কনসেপ্ট। ভাবছেন বিশ্ব না চিনি, দেশ’টাকে অন্তত জানি। ধ্যুর মশাই!

পাঞ্জাব মানেই আমার কাছে ভাঙ্গরা আর পাতিয়ালা পেগ।
সিন্ধু এখন আউট অফ কন্টেক্সট।
গুজরাত মানে মোদী আর ন্যানো।
মারাঠা বলতে চিনলাম শিবাজী, তেণ্ডুলকর আর বাল ঠাকরেকে।
দ্রাবিড় মাত্রই মাদ্রাজী; ওসব তামিল, কেরল, কর্ণাটক বুঝি না; দক্ষিণ মাত্রই ডোসা-ইডলি-রজনীকান্ত!
উত্‍কল: পুরী এবং উড়ে ঠাকুর
বঙ্গ: দেশটা না চিনি, রাজ্য চিনি ভাবছেন? বিষ্ণুপুরের পোড়া-মাটি মন্দির, বোলপুরে শান্তিনিকেতন, বর্ধমানের মুড়ি,মালদার আম, চন্দননগরের জগধাত্রী পুজো, তিন বছরে এক বার দার্জিলিং; এই হল গিয়ে আমার মানসে বঙ্গ-মূর্তি।

ভাবছেন কোলকাতা’টা ভাল করে চিনি অন্তত? শেয়ালদা টু হাওড়া এবং শ্যামবাজার থেকে ময়দান; এর বাইরে যদি আমি কখনো-সখোনো ছিটকে পড়ি, তখন কলকাতা’কে আমি ততোটাই চিনি যতটা চিনি নাগপুর’কে (না, এর আগে আমি নাগপুরে কখনো যাইনি)।ট্র্যাজেডিটা আরও হৃদয় বিদারগ হয়ে ওঠে অন্য জায়গায়। বিকেলে বউ চা দিতে দেরি করায় মেজাজ চড়িয়ে ঢুকলাম রান্নাঘরে; নিজের চা নিজেই বানিয়ে দেখিয়ে দেব পুরুষ কি না পারে! রান্না ঘরে ঢুকতেই যাকে বলে এলাবোরেট কেলো; কোথায় দেশলাই, কোথায় চা, কোথায় কাপ, কোথায় চিনি! মাথায় উঠল চা বানানো; ঘৃণ্য আত্ম-সমর্পণ ছাড়া কোনও উপায়’ই রইল না।বিশ্ব তো কোন ছার, এতদিনে নিজের ঘর’টাকেও ভাল করে চিনতে পারলাম না!

Wednesday, December 8, 2010

কলেজ স্ট্রিট'য়ের খাওয়া-দাওয়া





কলেজ স্ট্রিট ঘেঁষে যে চার বছর'এর মেস-phase কেটেছে, সেই সময়কর ফুড-হ্যাবিট নিয়ে কিছু কথা ব্লগ রেকর্ডে ঢুকিয়ে রাখা উচিত। ফর ফিউচার রেফারেন্স। বিশেষ করে মমতা যদি সত্যিই কলকাতা'কে লন্ডনে কনভার্ট করতে পারেন (দিদি'র একটা প্রোগ্রেস থিম আছে না? কলকাতা কে লণ্ডন, দার্জিলিং কে সুইজারল্যান্ড এবং দীঘা কে গোয়া?), তাহলে এসব খাওয়ার-দাওয়ার'গুলো ফসিল-স্মৃতি হয়ে যাওয়ার হেভী চান্স আছে। তখন আমি গ্র্যাজুয়েসন করছি ক্যালকাটা উনিভার্সিটি থেকে। থাকছি আমহার্স্ট স্ট্রীট পোস্ট অফিসের উল্টো দিকের এক ছোট্ট গলি সীতারাম ঘোষ স্ট্রীট'এর এক মেস বাড়িতে। সেই সময় খাওয়া-দাওয়ার প্যাটার্ণ ছিল বেশ সোজা সাপটা। রাত তিন'টের আগে ঘুমতাম না, তাই বেলা এগারো'টার আগে ঘুম ভাঙ্গতো না, তাই জলখাবারের কোনও পাট কখনোই ছিল না। কখনো কখনো মেস'এর নিচের অমিত'এর চা'এর দোকান থেকে ডিম-পাউরুটি অবশ্য খাওয়া হত, তবে সাধারণত ব্রেকফাস্ট ব্যাপারটা উহ্যই থাকত। দুপুর'এর খাওয়া এবং রাত'এর খাওয়াটা মেস'য়েই হত।
অতএব কলেজ স্ট্রীট'এর ফুড-হাণ্ট চলতো শুধু সন্ধ্যে বেলার খাওয়াটুকুর জন্য। (সন্ধ্যে বেলার খাওয়া কে কি বলে? নাস্তা?টিফিন?জলখাবার?)। তখন অবশ্য পকেট মেপে চলতে হত, কাজেই বিকেলের টিফিন'এ জমিদারী করার স্কোপ থাকত না। তবে তার মধ্যেই উত্তর কলকাতার এই অঞ্চলে কম ভ্যারাইটি চেখে দেখিনি। সেইসময়কার প্রিয় দশ'টা সান্ধ্য-খাদ্য'এর লিষ্টি নীচে করলাম।