সমস্ত মাটি করলে সিভিলাইজেশনের হাভাতেপনা ঢুকে পড়ে। অটোর জন্যে খুচরো রাখ রে, জন্মদিনে পায়েস খাও রে, প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে গা ঘিনঘিনে মনোগ্যামাস চিঠি লেখো রে, ভুবন সোম দেখে "মন্দ না" বলে ঢেঁকুর তোল রে অ্যান্ড ওয়ার্স্ট অফ অল; কথায় কথায় না কিলিয়ে ডিবেট করা।
ফেসবুকি জীবনবাবুকে দেখলেই নরেনবাবু দিব্য চক্ষু মেলে দেখতে পান যে জীবনবাবু সেবারটুথ টাইগারের পিঠে চেপে কচাকচ ব্রয়লার কাটার মত ম্যামথ ছাড়াচ্ছেন। রাতে কষানো ঝোল হবে।তার সামনে বসে এক প্রাগৈতিহাসিনী আর পিছনে আরেক। জীবনবাবু স্যান্ডুইচ মেজাজে হাসছেন। তাঁর মুখের ফেসবুকি গনগনে আঁচটা একদম নেই।
খবরের কাগজ তিন দিন পড়া হচ্ছে না। হোমিওপ্যাথির রিসেন্ট যে ওষুধ খাচ্ছেন সে'টার সাথে আবার পেঁয়াজ আর নিউজচ্যানেল একদম চলে না। জেএনিউ তে কিছু একটা তালগোলের খবর এসেছে ঠিকই কিন্তু কোন দলে নাম লেখানোটা সেফ তা ঠিক মালুম করে উঠতে পারেননি। ডালহৌসি টু মনোহরপুকুর রোডের বাইরে বড়জোর খানিকটা উত্তরপাড়ার সামান্য খবর তিনি রাখেন; কারণ সেখানে রাঙাপিসিমা থাকতেন আর মারা যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত চমৎকার বড়ি-পাঁপরের তরকারি রেঁধে গেছেন।
সোজা হিসেব। একটা দলে ভিড়তেই হবে। না ভিড়লে অ্যাপাথেটিক ডাম্বঅ্যাস বলে বদনাম রটবে। আখড়ায় বসে শান্তিপুরি ধুতির পেখম মেলা যায় না, জাঙিয়াতে নেমে আসতেই হবে।
নরেনবাবু চান্স নিলেন না কোনও। সোজা ফেসবুকে ঝেড়ে দিলেন:
" হারামির গাছ যত। তোদের হচ্ছে"- ফিলিং কনসার্ন্ড উইথ জীবন সমাজপতি অ্যান্ড ফিফটি সেভেন আদার্স।
তারপর সোজা ইন্টারনেট বন্ধ করে পুরোন ইন্দ্রজাল হাতে ডিনার টেবিলের দিকে হেঁটে গেলেন নরেনবাবু। ঘরের কোণের ম্যামথটা একটা ভ্যাবাচাকা "ফোঁত" শব্দ করে দাঁড়য়ে রইল, সেবারটুথটা বোধ হয় কনফিউসনের চোটেইই সোফা কামড়ে ধরলে।
নরেনবাবু যতক্ষণে ভাতের পাহাড়ের মাথায় ডালের বাটি উপুড় করে দিয়েছেন ততক্ষণে তাঁর ফেসবুকের কমেন্টে বারোটা লাইক আর শ'খানেক কমেন্ট। পরে দেখেশুনে একটা সিভিলাইজড পাথর ছোঁড়া দল বেছে নিলেই হবে'খন। আপাতত আদিম সুখের পরশে টেনে নিলেন আলু পোস্তর বাটিখানা।
1 comment:
অনবদ্য। যাকে বলে গিয়ে Bull's eye 😆
Post a Comment